| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আমি যুগে যুগে…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – বিদ্রোহী, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুন মহাবিপ্লব হেতু
এই স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু!
সাত-সাতশ নরক-জ্বালা জ্বলে মম ললাটে,
মম ধূম-কুণ্ডলী করেছে শিবের ত্রিনয়ম ঘন ঘোলাটে।
[সূত্র: ধূমকেতু- কাজী নজরুল ইসলাম]
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১০
‘নিদাঘ' শব্দর অর্থ গ্রীষ্মকাল।
"আমি মরু-নির্ঝর ঝর ঝর, আমি শ্যামলিমা ছায়া-ছবি"-কথাটি দ্বারা কবি উষর মরুভূমির বুকে শান্তির ধারা বইয়ে শ্যামলিমার ছায়া বিস্তার করার বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন।
দীর্ঘদিনের বৃষ্টিহীনতা থেকে মরুভূমির সৃষ্টি। মরুভূমিতে জলশূন্য আবহাওয়া বিরাজ করায় সেখানে সবুজের ছোঁয়া নেই, দিগন্ত বিস্তৃত শুধু ধূ ধূ তপ্ত বালুকা। বিদ্রোহী কবিসত্তা এমন তপ্ত মরুভূমিতে প্রাণের উচ্ছ্বাস নির্ঝর জলপ্রপাত হয়ে ঝরতে চায়, প্রাণের সবুজের ছোঁয়ায় ভরিয়ে দিতে চায় বালুভূমিকে। বিদ্রোহী কবির প্রশান্ত দিকটি আলোচ্য পঙ্ক্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্দীপকের বিষয়ের সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতার সংগ্রামী চেতনার মিল রয়েছে।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অসত্য, অকল্যাণ, অমঙ্গল ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তিনি নিজের বিদ্রোহী কবিসত্তার আত্মজাগরণের মাধ্যমে উপনিবেশ শাসিত ভারতবর্ষের শাসকদের মনে ত্রাস সৃষ্টি করেন এবং সকল নেতিবাচকতায় কুঠারাঘাত করে ইতিবাচকতার আনয়ন করেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে সংগ্রামী চেতনার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে যুগে যুগে জাতির সংকটকালে বিদ্রোহ-বিপ্লবের চেতনা নিয়ে স্রষ্টার শনি মহাকাল ধূমকেতু হয়ে আসার কথা বলা হয়েছে। 'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি সগর্বে নিজের বিদ্রোহী কবিসত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ঔপনিবেশিক ভারতবর্ষের শাসকদের শাসন ক্ষমতার ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছেন। তিনি এখানে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ ও বিদ্রোহ প্রকাশ করেছেন। তাঁর এই চেতনা উদ্দীপকেও লক্ষ করা যায়। এভাবে সংগ্রামী চেতনার দিকটি থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'বিদ্রোহী' কবিতা চেতনা সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে 'বিদ্রোহী' কবিতার সংগ্রামী মনোভাবের দিকটি প্রকাশ পেলেও অন্যান্য দিকগুলো অনুপস্থিত থাকায়, "উদ্দীপকের বিষয়বস্তু 'বিদ্রোহী' কবিতার সামগ্রিক নয়, আংশিক প্রতিফলন মাত্র"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'বিদ্রোহী' কবিতায় কবি উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি উচ্চকণ্ঠের ঘোষণার মাধ্যমে জানিয়েছেন উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল প্রশমিত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্রোহী সত্তা বিরাজমান রাখবেন।
উদ্দীপকে পরাধীনতার বিরুদ্ধে কবির বিপ্লব ঘোষণার দিকটি ফুটে উঠেছে। যুগে যুগে যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় তারা ধূমকেতুর মতো। অন্যায় অবিচারকে নিশ্চিহ্ন করতেই তাদের এ বিপ্লব। 'বিদ্রোহী' কবিতায়ও কবির বিদ্রোহ ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছেন পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে তিনি শাসকের শোষণের সকল আইনকানুন অমান্য করতেও প্রস্তুত।
উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি যে বিপ্লবের কথা বলেছেন তার সাথে 'বিদ্রোহী' কবিতার কবির সদম্ভ আত্মপ্রকাশের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহ ও ক্ষোভ প্রকাশের সাদৃশ্য বিদ্যমান। তবে এ কবিতার বিষয়বস্তু আরও বিস্তৃত। এ কবিতায় কবি তাঁর বিদ্রোহী ও ক্ষোভ প্রকাশের 'সাদৃশ্য বিদ্যমান। তবে এ কবিতার বিষয়বস্তু আরো বিস্তৃত। এ কবিতায় কবি তাঁর বিদ্রোহী সত্তার অবয়ব তৈরির জন্য পুরণের ঐতিহ্য থেকে উপাদানা সংগ্রহ করেছেন। তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণায় জানিয়ে দেন যে, যতদিন উৎপীড়িত জনতার ক্রন্দনরোল প্রশমিত না হবে, ততদিন তাঁর এ বিদ্রোহী সত্তার সংগ্রাম বহাল থাকবে। আলোচ্য কবিতার এ দিকগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায় আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।