আমিন ধান খেতের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় খেতের পানিতে ঘাসফড়িং, ব্যাঙ, সাপ, সারস পাখি, ছোটো মাছ দেখলো।
পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র উদ্ভিদ বা প্রাণীকে প্ল্যাংকটন বলে।
পরজীবী খাদ্যশিকল হলো এমন একটি খাদ্যশৃঙ্খল যেখানে পরজীবী উদ্ভিদ বা প্রাণী বড়ো আকারের পোষকদেহ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে। উদাহরণস্বরূপ: মানুষ স্ত্রী এডিস মশা ডেঙ্গু ভাইরাস। এখানে ডেঙ্গু ভাইরাস মশার মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে এবং পুষ্টি গ্রহণ করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত জীবগুলো হলো ধান বা সবুজ উদ্ভিদ। ঘাসফড়িং, ব্যাঙ, সাপ, সারস পাখি এবং ছোটো মাছ। এগুলোর সমন্বয়ে নিচে একটি খাদ্যজাল গঠন তৈরি করা হলো-
উদ্দীপকে উল্লেখিত জীবগুলো বাস্তুতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এসব উপাদান তাদের পারস্পরিক ক্রিয়া ও নির্ভরশীলতার মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে বিশ্লেষণ করা হলোপরিবেশ সংরক্ষণে বাস্তুতন্ত্রে উদ্ভিদ, প্রাণী এবং গ্যাসীয় ভারসাম্য বজায় থাকা আবশ্যক। উদ্দীপকের জীবগুলোর মধ্যে রয়েছে ধানগাছ, যাকে বলা হয় উৎপাদক। অন্যদিকে, প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে ঘাসফড়িং, ব্যাঙ, ছোটোমাছ, সাপ ও সারস পাখি। ধানগাছ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে জীবজগতের জন্য খাদ্য তৈরি করে। পাশাপাশি পরিবেশে নির্গত করে। ধান গাছ না থাকলে পরিবেশে কোনো জীবই বেঁচে থাকত না। অন্যদিকে ঘাসফড়িং না থাকলে খাদ্যাভাবে ব্যাঙ ও ছোটো মাছ মারা যেত, ব্যাঙ না থাকলে সাপ বিলীন হতো। আবার, ছোটো মাছ না থাকলে সারস পাখি খাদ্যভাবে মারা যেতো। অর্থাৎ সকল প্রাণিকুল ধ্বংস হতো। প্রাণিকুল ধ্বংস হলে শ্বসন ক্রিয়া না ঘটায় নির্গমন বন্ধ হতো। ফলে এর অভাবে ধানগাছে সালোকসংশ্লেষণ ঘটতো না। সালোকসংশ্লেষণ না ঘটলে খাদ্য তৈরির পাশাপাশি পরিবেশে নির্গত হতো না। ফলে পরিবেশ দূষিত হতো।
সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, যে, উদ্দীপকের উপাদানসমূহ খাদ্যশিকলে তাদের যথার্থ উপস্থিতি ও স্থিতিশীলতার মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
