| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আমিত্ব’-কে বলি দিয়া…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫ – প্রতিদান, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

আমিত্ব’-কে বলি দিয়া স্বার্থ ত্যাগ কর যদি,
পরের হিতের জন্য ভাব যদি নিরবধি!
নিজ সুখ ভুলে গিয়ে ভাবিলে পরের কথা,
মুছালে পরের অশ্রু- ঘুচালে পরের ব্যথা!
আপনাকে বিলাইয়া দীনদুঃখীদের মাঝে,
বিদূরিলে পর দুঃখ সকালে বিকালে সাঁঝে!
তবেই পাইবে সুখ আত্মার ভিতরে তুমি,
যা রুপিবে- তাই পাবে, সংসার যে কর্মভূমি!
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৩
'প্রতিদান' কবিতাটি কবির 'বালুচর' কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত।
"কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জন্ম-ভর" বলতে কবি তাঁর হৃদয়ের উদারতা তথা অন্যের দ্বারা কষ্ট পেয়েও তাকে প্রতিদানে ভালোবাসা দান করাকে বুঝিয়েছেন।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে পরার্থপরতার মধ্যেই প্রকৃত সুখ খুঁজে পেয়েছেন। তিনি প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসায় বিপরীতে একটি সাম্য ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ পরিবেশের প্রত্যাশা করেছেন। তাই সারা জীবন ধরে যারা তাঁকে দুঃখ-যন্ত্রণা দিয়েছে তিনি সেসব ভুলে তাদের ভালোবাসা দান করেন। তিনি মনে করেন, এভাবে প্রতিদান দিতে পারলেই পৃথিবী সুন্দর ও আনন্দময় হয়ে উঠবে। আর এমন মনোভাব থেকেই তিনি বলেছেন- "কাঁটা পেয়ে তারে ফুল করি দান সারাটি জনম-ভর।"
অন্যের কল্যাণ সাধনের মনোভাবের দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রতিদান' কবিতাটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'প্রতিদান' কবিতার করিকণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে পরার্থপর মানসিকতার জয়গান। কবি নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে অন্যের কল্যাণ সাধনের মধ্যেই জীবনে প্রকৃত অর্থ খুঁজে পেয়েছেন। তার কণ্ঠে ব্যক্ত হয়েছে প্রতিশোধ-প্রতিহিংসার বিপরীতে প্রীতিময় এক পরিবেশ সৃষ্টির আকাঙ্ক্ষা।
উদ্দীপকের কবি 'আমিত্ব'কে ভুলে পরের কল্যাণ সাধনের মধ্যে প্রকৃত সুখের সন্ধান দিয়েছেন। অন্যের দুঃখ-ব্যথা ঘুচিয়ে, দীন-দুঃখীদের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিলেই আত্মার ভেতরে সুখ উপলব্ধ হবে বলে কবির প্রত্যাশা। 'প্রতিদান' কবিতায়ও কবি অন্যের সুখের জন্য নিজের স্বার্থ বিলিয়ে দিয়ে প্রকৃত সুখ খুঁজেছেন। কবিকে যে আঘাত করবে, কবি তাকে আঘাতের বিনিময়ে আরও ভালোবাসা দেবেন। মূলত অন্যের সুখে সুখী হওয়ার মানসিকতা কবির মধ্যে ফুটে উঠেছে, যা উদ্দীপকের কবিতার মূল সুর। এদিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'প্রতিদান' কবিতার সাদৃশ্য লক্ষণীয়।
পরার্থপরতার আদর্শ ধারণ করায় "উদ্দীপকটি চেতনাগত দিক থেকে 'প্রতিদান' কবিতার মূলভাবের প্রতিনিধিত্ব করে"- মন্তব্যটি যথার্থ।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি পরার্থপরতার আদর্শ তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, ভালোবাসার চেয়ে বড় অন্য কোনো শক্তি নেই। এর মাধ্যমে পরম শত্রুকেও বন্ধুতে রূপান্তরিত করা যায়। তাই তিনি আত্মকেন্দ্রিকতা ও ক্ষুদ্র স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে পরম শত্রুকেও ভালোবাসা দিয়ে আপন করে নিতে চেয়েছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থকে বলি দিয়ে অপরের কল্যাণের কথা ভাবতে বলা হয়েছে। তাঁর মতে, আত্মকেন্দ্রিকতা কখনো মানুষের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। তাই তিনি আমিত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে পরার্থে আত্মনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি অপরের সুখ-দুঃখে নিজেকে বিলিয়ে দিতে 'বলেছেন। কেননা, তিনি এতেই প্রকৃত সুখ নিহিত বলে মনে করেন। উদ্দীপকের কবিতাংশে ফুটে ওঠা পরার্থপরতার এ দিকটি 'প্রতিদান' কবিতায়ও একইভাবে পরিলক্ষিত হয়।
'প্রতিদান' কবিতায় কবি পরার্থপর মানসিকতার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি শত্রুতাকে ভালোবাসা দিয়ে জয় করতে চেয়েছেন। এ কারণে যে ব্যক্তি কবির ঘর ভেঙেছে বা যে তাঁকে ব্যথাহত করেছে তিনি তাকে ভালোবাসার ডোরে বাঁধতে চেয়েছেন। একইভাবে, উদ্দীপকের কবিতাংশেও কবি 'পরার্থপরতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে অপরের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশে ফুটে ওঠা এমন ভাবনা 'প্রতিদান' কবিতার কবির ভাবনার সমান্তরাল। এ দিক বিচারে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ অর্থবহ।