আনোয়ার সাহেব অত্যন্ত সৎ ও বিচক্ষণ মানুষ হিসেবে সবার কাছে পরিচিত। তিনি তার কর্মস্থলে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এ বিষয়টিকেই কিছু সহকর্মী বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে এবং সুযোগ পেলেই তারা তাকে অপদস্ত করার চেষ্টা করে। আনোয়ার সাহেব সব বুঝতে পারলেও তাঁর অবস্থান থেকে সরে পড়েননি বরং সৃষ্টিকর্তার কাছে তাদের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।
‘তায়েফ’ সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত।
অনন্য মানবিক গুণাবলির জন্য হজরত মুহম্মদ (স.) মানুষের একজন হইয়াও তিনি দুর্লভ।
হজরত মুহম্মদ (স.) ছিলেন অত্যন্ত সহনশীল এবং নিরহংকার চরিত্রের অধিকারী। অত্যাচারীকে তিনি কখনো অভিশাপ দেননি। বংশগৌরব এক মুহূর্তের জন্যও তার মাঝে স্থান পায়নি। উদারতার ক্ষেত্রে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। সত্য সাধনায় তিনি ছিলেন বজ্জের মতো কঠিন, পর্বতের মতো অটল; অথচ করুণায় ছিলেন কুসুমকোমল। এককথায় বলা যায়, ত্যাগ, প্রেম, সাধুতা, সৌজন্য, ক্ষমা, সাহস, অনুগ্রহ, আত্মবিশ্বাস, চারিত্রিক সৌন্দর্য এসব মানবিক দিকের সমাহার মানুষের মাঝে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। তাই তিনি মানুষের একজন হয়েও দুর্লভ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সহকর্মীদের বিরূপ দৃষ্টিভঙ্গি ‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধের নবিজির সত্যের জন্য অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করার দিকটিকে আলোকপাত করে।
‘মানুষ মুহম্মদ (স.)’ প্রবন্ধে বর্ণিত মুহম্মদ (স.) তায়েফে ও মক্কায় ইসলাম ধর্ম প্রচার করতে গিয়ে নানা বাধার সম্মুখীন হন। তায়েফ ও মক্কাবাসীরা তাকে বিভিন্নভাবে অত্যাচার করে। পাথরের আঘাতে তাকে রক্তাক্ত করা হয়। পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখা হয়। সারাজীবন তিনি মানুষের দুঃখ-কষ্ট দূর করার জন্য নিজে দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছেন। হিংসা, দ্বেষ, ঘৃণা, গর্ব, অহংকার ইত্যাদি কখনোই তার চরিত্রকে কলঙ্কিত করতে পারেনি। তিনি ইসলামের ঝাডা হাতে নিয়েছিলেন। তিনি সত্যাশ্রয়ী ছিলেন। যে কারণে তিনি অত্যাচারিত ও নির্যাতিত হয়েছিলেন বারবার। উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেবের সহকর্মীরা তার প্রতি বিরূপ আচরণ করে। কারণ অফিসে তিনি সততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নিষ্ঠার সাথে কাজ করেন। কাজে অবহেলা করেন না। অফিসে তিনি বিচক্ষণ মানুষ হিসেবেই সমধিক পরিচিত। কিন্তু এমন সত্যাশ্রয়ী মানুষটিকে তার সহকর্মীরা দেখতে পারে না। নানাভাবে কটাক্ষ করে। বিরূপ মন্তব্য করে। সুযোগ পেলেই তারা তাকে অপমান অপদস্ত করার চেষ্টা করে। সহকর্মীদের এমন নেতিবাচক আচরণের সাথে নবিজি (স.)-এর ওপর কাফেরদের অত্যাচার-নির্যাতনের বিষয়টির মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেবের মাঝে 'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধের ক্ষমা, সততা, নির্ভীকতা প্রভৃতি গুণ পরিলক্ষিত হয়।
মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.) বিপুল ঐশ্বর্য, সক্ষমতা ও মানুষের অগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মধ্যে থেকেই একজন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করেন। ক্ষমা ও মহত্ত্ব, প্রেম ও দয়া তার অজস্র চারিত্রিক গুণের মধ্যে অন্যতম।
উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেব একজন নীতিবান মানুষ। তাকে সচ্চরিত্রবান বলা যায়। শুধু তাই নয়, তার মাঝে ক্ষমার আদর্শও বিদ্যমান। কেননা তিনি সহকর্মীদের খারাপ আচরণে ব্যথিত হয়েছেন কিন্তু তিনি তাদের গালমন্দ করেননি। তিনি নিজেও সত্যের পথে অটল থেকেছেন। তিনি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন। তার বিপথগামী সহকর্মীরা যাতে ন্যায়-অন্যায় বুঝে কাজকর্ম করে।
'মানুষ মুহম্মদ (স.)' প্রবন্ধটিতে প্রাবন্ধিক নবিজির মানবিক গুণাবলির বিশ্লেষণ করেছেন। ত্যাগ, প্রেম, সাধুতা, সৌজন্য, ক্ষমা, তিতিক্ষা, সাহস, শৌর্য, অনুগ্রহ, আত্মবিশ্বাস, তীক্ষ্ণপ দৃষ্টি ও সমদর্শন চরিত্র সৌন্দর্যের সবদিক তার মাঝে বিদ্যমান ছিল। ইসলাম প্রচারে শত্রুর অত্যাচারে তিনি জর্জরিত হয়েছিলেন, প্রস্তরাঘাতে তিনি আহত হয়েছিলেন। ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে বারবার তিনি উপহাসিত হয়েছিলেন, তবুও তিনি তাদের অভিশাপ না দিয়ে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। উদ্দীপকের আনোয়ার সাহেবের চরিত্রেও ক্ষমার মহানুভবতা পরিলক্ষিত হয়। তিনিও সত্যে অটল ও নির্ভীক ছিলেন।
