| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আনোয়ার পাশা রচিত…’ যশোর বোর্ড ২০২২ – রেইনকোট, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

আনোয়ার পাশা রচিত ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ উপন্যাসে উল্লিখিত সুদীপ্ত শাহীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতের ভয়াবহতায় আতঙ্কগ্রস্ত একজন মানুষ। তাঁর যাপিত জীবন আতঙ্ক আর ভয়ের মধ্য দিয়ে কাটে। কারণ সেই রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকার নিরস্ত্র মানুষের ওপর নৃশংস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। সেই হত্যাযজ্ঞ থেকে নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ এমনকি মসজিদের মুয়াজ্জিন পর্যন্ত রেহাই পায়নি। সুদীপ্ত শাহীন এর মাঝে বেঁচে আছেন এটা বিশ্বাস করতে তাঁর বিস্ময় লাগে। ২৬ মার্চের সূর্যোদয় দেখবার কথা তিনি ভাবতেও পারেন না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৭
'রেইনকোট' গল্পের পিয়নের নাম ইসহাক মিয়া।
পাকিস্তানিদের হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে দেশে একটা কলেজেও শহিদ মিনার অক্ষত নেই ।
মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে বাংলাদেশের চিত্র ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ ও লোমহর্ষক। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতিকে চিরতরে ধ্বংস করার জন্য ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করা এবং এই জাতির ঐতিহ্য ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পিতভাবে হামলা করে হানাদাররা। একপর্যায়ে তারা শহিদ মিনারে হামলা চালায়। তাই বলা হয়েছে, নরপশু পাকিস্তানি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের কারণে দেশে একটা কলেজেও শহিদ মিনার অক্ষত নেই।
উদ্দীপকে বর্ণিত সুদীপ্ত শাহীন ‘রেইনকোট' গল্পের নুরুল হুদা চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
রেইনকোট' গল্পের কথক নুরুল হুদা একটি কলেজের প্রভাষক। তিনি অত্যন্ত ভীতু প্রকৃতির মানুষ। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞে ঢাকা শহর মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়। মৃত্যুই ছিল ওই সময়টাতে সবচেয়ে স্বাভাবিক ঘটনা। তাই প্রাণে বেঁচে থাকাটাই নুরুল হুদার একমাত্র প্রচেষ্টা। তার স্ত্রীর ছোটো ভাই মিন্টু মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলে নুরুল হুদার আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। ভাবেন এই বুঝি মিন্টুর খোঁজে পাকিস্তানি আর্মি এসে ঢুকে পড়ল তাঁর বাড়িতে। এ কারণে তিনি বারবার বাড়ি পালটে শহর ও কলেজ থেকে দূরে, আত্মীয়স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিল এবং ধান খেত পরিব্যাপ্ত একটি বাড়ি ভাড়া করেছেন ।
উদ্দীপকের সুদীপ্ত শাহীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকা শহরসহ সারা দেশে নৃসংস গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালালে সুদীপ্ত শাহীনের জীবন | আতঙ্ক ও ভয়ের মধ্য দিয়ে কাটতে থাকে। চারপাশে এত হত্যাকাণ্ড দেখে তিনি যে বেঁচে আছেন এই বিষয়টিই তার কাছে বিস্ময়কর লাগে। তাই বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত জীবনযাপনের দিক থেকে সুদীপ্ত শাহীন ও নুরুল হুদা সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকটিতে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের ভয়াবহ বর্বরতা এবং পাশবিকতার বিষয়টি ফুটে উঠায় ‘রেইনকোট' গল্পের মূলভাব অনেকটাই প্রতিফলিত হয়েছে।
‘রেইনকোট' গল্পে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের চিত্র অঙ্কিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদাররা এদেশের অসংখ্য নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। গল্পের কথকের বর্ণনা থেকে জানা যায়, মানুষ হত্যার পাশাপাশি পাকিস্তানিরা বাড়িঘর, হাট-বাজার, গ্রাম জ্বালিয়ে দেয় । এমনকি মসজিদের আজানরত মুয়াজ্জিনকেও গুলি করে হত্যা করে। তৎকালীন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানিদের হত্যাযজ্ঞ থেকে সমাজের কোনো শ্রেণির মানুষই রেহাই পায়নি । জনজীবনে এর প্রভাব ছিল আরও ভয়াবহ।
উদ্দীপকে পাকিস্তানি মিলিটারিদের নির্যাতনের চিত্র ফুটে উঠেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্বিচারে বাঙালিদের হত্যা করেছিল, চালিয়েছিল ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটতরাজ। বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলার উদ্দেশ্য নিয়ে পাকিস্তানি হানাদাররা মানুষ হত্যার উৎসবে মেতে উঠেছিল।
‘রেইনকোট’ গল্প এবং উদ্দীপক উভয়ক্ষেত্রেই পাকিস্তানি মিলিটারিদের বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের চিত্র দেখা যায়। ২৫শে মার্চ কালরাতে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর আকস্মিকভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী অসংখ্য মানুষকে তারা হত্যা করে, বাড়িঘর লুট করে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় । তাছাড়া নুরুল হুদার সাথে অধ্যাপক সুদীপ্ত শাহীনের যাপিত জীবনের আতঙ্ক অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, 'রেইনকোট' গল্পে মুক্তিবাহিনীর গেরিলা আক্রমণের দিকগুলো উদ্দীপকে উপস্থাপিত না হলেও আলোচ্য গল্পের মূলভাব উদ্দীপকে অনেকটাই প্রতিফলিত হয়েছে।