| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘উত্তর অঞ্চল থেকে…’ Combined ২০১৮ – প্রাণীর আচরণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

উত্তর অঞ্চল থেকে শীতকালে বাংলাদেশে অনেক পাখি আসে, এছাড়াও উত্তর গোলার্ধের উপকূলীয় অঞ্চলে এক ধরনের পুরুষ মাহু আছে যা জিগ-জ্যাগ নৃত্য প্রদর্শন করে স্ত্রী মাছকে প্রজননে আকৃষ্ট করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১২
জিন নির্ধারিত প্রাণীর স্বতঃস্ফূর্ত আচরণ ধারাই হলো FAP বা Fixed Action Pattern ।
প্রাণীর যেসব আচরণ তার দলের অন্যান্য সদস্যদেরকে ও তাদের পরিবেশকে প্রভাবিত করে তাকে সামাজিক আচরণ বলে। তিন ধরনের মৌমাছি (স্ত্রী, পুরুষ ও কর্মী) পরস্পরের প্রতি সহযোগিতা ও তাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একটি মৌচাক গড়ে তোলে। এখানে কলোনির প্রতিটি সদস্য নিজের স্বার্থে কাজ না করে বরং সামাজিক রীতিনীতি কঠোরভাবে পালন করে। এজন্য মৌমাছিকে সামাজিক প্রাণী বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিযায়ী প্রাণীটি হলো পাখি। এরা পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের শীত প্রধান অঞ্চলে থাকে এবং শীতকালে বাংলাদেশে চলে আসে। এদের পরিযানের কারণ নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো-
পরিযান হলো কোনো প্রাণীর নির্দিষ্ট সময় বা কালে এক স্থান হতে অন্য স্থানে গমন করা। পাখির পরিযান মূলত দ্বিমুখী ধরনের। বাংলাদেশে শীতকালে যেসব পাখি আসে এরা মূলত উত্তরের বরফাবৃত অঞ্চলের বাসিন্দা। শীতকালে উক্ত এলাকায় তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। আবহাওয়া অত্যন্ত শীতল হয়ে যায়। চারিদিক বরফে ঢেকে যাওয়ায় খাবার অপ্রতুল হয়ে যায়। তখন পাখিগুলো উড়ে অপেক্ষাকৃত কম শীতল এলাকায় (বাংলাদেশ) চলে আসে। এখানে শীতকাল তুলনামূলকভাবে উষ্ণ। ফলে পাখিরা এখানে এসে বাসা বাঁধে। খাদ্যের প্রতুলতার কারণে এরা জননে অংশ নেয়। ডিম পাড়ে ও বাচ্চা ফোটায়। আবার শীত শেষে নিজ এলাকায় ফিরে যায়। পরিযানের মাধ্যমে এরা খাদ্য ও আশ্রয় লাভ করে বলেই প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৬৯০ প্রজাতির পাখি আসে। পরিযান পাখির একটি সহজাত আচরণ যা বংশগতভাবে আবির্ভূত হয় এবং কখনো পরিবর্তিত হয় না।
প্রকৃতিই প্রাণীকে বেঁচে থাকার জন্য বিভিন্ন কৌশল দিয়ে দেয়। পরিযান হলো এমনই এক কৌশল যা জন্মগতভাবে পাখি পেয়ে থাকে।
উদ্দীপকের শেষ লাইনটি হলো উত্তর গোলার্ধের এক ধরনের পুরুষ মাছ যা জিগ-জ্যাগ নৃত্য প্রদর্শন করে স্ত্রী মাছকে প্রজননে আকৃষ্ট করে। এই আচরণটি একটি সহজাত আচরণ। নিম্নে ইহা বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রাণীর যেসব আচরণ, সরল, পূর্ব অভিজ্ঞতা বিবর্জিত, প্রজাতি সুনির্দিষ্ট, শিখনবিহীন ও বংশগতভাবে প্রদর্শিত হয় তাই সহজাত আচরণ। জিগ- জ্যাগ নৃত্য প্রদর্শনকারী মাছটির (স্টিকলব্যাক) আচরণ তাই সহজাত আচরণ। কারণ প্রত্যেক প্রাণীই পৃথিবীতে তার বংশধর রেখে যেতে চায়। আর তার জন্য প্রজননের প্রয়োজন। এখানেও পুরুষ মাছটি স্ত্রী মাছকে প্রজননে আকৃষ্ট করার কৌশল হিসেবে জিগ-জ্যাগ নৃত্য করছে। এটা প্রজাতি নির্দিষ্ট ও বংশগত আচরণ। মাছটি নৃত্যের মাধ্যমে তার তৈরি বাসায় স্ত্রী মাছকে নিয়ে আসে। এক সময় স্ত্রী মাছ ডিম পাড়ে এবং পুরুষ মাছ শুক্রাণু ত্যাগ করে নিষেক ঘটায়। এরপর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। পুরুষ মাছটি ডিম ফোটার আগ পর্যন্ত ডিমের অনেক যত্ন নেয়।পাখনা দিয়ে পানির স্রোত তৈরি করে যাতে ডিমগুলো পরিস্ফুটনের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায়। ডিম ফুটে পোনা বের হলে পুরুষ মাছ সেগুলোও যত্ন নেয়। শত্রুর হাত থেকে অপত্য মাছগুলোকে পুরুষ মাছটি রক্ষা করে। এই সমস্ত আচরণই হলো সহজাত আচরণ।
উপরের আলোচনার আচরণটি প্রাণী জন্মগতভাবে অর্জন করে এবং বংশ পরম্পরায় অপরিবর্তিত থাকে। এছাড়া এই আচরণ প্রাণীর জৈবিক প্রয়োজন অনুসারে বিকশিত হয়।