আরাফ আর আয়মান যেন একবৃন্তে দুটি কুসুম। এইচএসসি পাসের পর দুজনই ভর্তি হলো তাদের কাঙ্ক্ষিত ও স্বপ্নের বুয়েটে। এর মধ্যে আয়মান আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খোঁজ-খবর নেয়-কারণ, বুয়েট শেষ করে সে আমেরিকা পাড়ি জমাতে চায়। কিন্তু আরাফের এককথা পড়াশোনা শেষ করে সে দেশেই থাকবে। যা করবে দেশের জন্যই করবে- এভাবে সবাই দেশ ছেড়ে গেলে দেশই বা কীভাবে সমৃদ্ধি অর্জন করবে? আজ আয়মান আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু তার মন পড়ে থাকে দেশের বিস্তীর্ণ মাঠ, অবারিত ধানখেত, বন্ধু-বান্ধব, ছুটোছুটি এসবের মধ্যে আরাফের সাথে কথা বললেই সে তার ফেলে যাওয়া সব কিছু নিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে।
কবির কাছে জন্মভূমি মায়ের মতো বলে কপোতাক্ষ নদকে তিনি ‘দুগ্ধ-স্রোতোরূপী’ বলেছেন।
কপোতাক্ষ কবির স্মৃতিবিজড়িত একটি নদ। মা যেমন তার সন্তানকে নিবিড় মমতায় বুকের দুধ পান করিয়ে বাঁচিয়ে রাখেন, তেমনি কপোতাক্ষের জল বাংলার জনপদের মাঝে প্রাণসঞ্চার করে। তাই কবি কপোতাক্ষ নদের জলকে ‘দুগ্ধ-স্রোতোরূপী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
উদ্দীপকের শেষাংশে আয়মানের মাধ্যমে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির স্মৃতিকাতরতার দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে।
‘কপোতাক্ষ নদ’ একটি স্মৃতিচারণমূলক কবিতা। এ কবিতায় শৈশবের প্রিয় নদ কপোতাক্ষকে ঘিরে কবি তার হৃদয়াবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে মূলত কবির অকৃত্রিম দেশাত্মবোধই প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্দীপকের আয়মান বুয়েটে পড়াশোনা শেষ করে আমেরিকায় পাড়ি জমান। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমেরিকায় এসে আজ তিনি সেখানেই প্রতিষ্ঠিত। তবে আমেরিকায় প্রতিষ্ঠা লাভের পরও তিনি নিজ দেশকে বিস্মৃত হতে পরেননি। আর তাই শত কর্মব্যস্ততার মাঝেও দেশমাতৃকা এবং পরিজনদের স্মৃতি তার বারবার মনে পড়ে। একইভাবে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবিও শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত কপোতাক্ষের কথা ভেবে আকুল। প্রিয় কপোতাক্ষের কলধ্বনি যেন সর্বদাই তার কানে বাজে। এদিক বিবেচনায় উদ্দীপকের শেষাংশে আয়মানের দেশের স্মৃতি রোমস্থনের মাধ্যমে আলোচ্য কবিতার কবির স্মৃতিকাতরতার দিকটিই ইঙ্গিতবহ হয়ে উঠেছে।
"উদ্দীপকের আরাফ ও আয়মান 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় প্রতিফলিত মূল চেতনাকেই ধারণ করে আছে।" মন্তব্যটি যথার্থ।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির শৈশবের প্রিয় নদ কপোতাক্ষকে কেন্দ্র করে স্মৃতিকাতরতার অন্তরালে অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। কবিতাটির পুরোভাগ জুড়ে এ বিষয়টিই বিশেষভাবে চোখে পড়ে।
উদ্দীপকে আরাফ এবং আয়মান নামের দুই বন্ধুর কথা বলা হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষার পর এই দুজন মেধাবী ছাত্র বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তি হয়। এর মধ্যে আরাফ দেশকে ভালোবেসে দেশে থেকে গেলেও আয়মান উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমেরিকায় পড়ি জমায়। তবে সেখানে গিয়েও সে তার নিজ দেশকে, দেশের প্রকৃতি ও পরিজনদের ভুলতে পারে না। তাই ফেলে আসা এসব দিনের স্মৃতি চিন্তা করে সে অদ্ভুত হয়।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় স্মৃতিকাতরতার আড়ালে কবির অত্যুজ্জ্বল দেশপ্রেম প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠা লাভের আশায় কবি সুদূর ফ্রান্সে পাড়ি জমান। কিন্তু প্রবাসে অবস্থান করেও তিনি জন্মভূমির প্রিয় নদ কপোতাক্ষকে ভুলতে পারেননি। একইভাবে উদ্দীপকের আরাফ মাতৃভূমির টানে দেশে থেকে গেলেও আয়মান প্রতিষ্ঠা লাভের আশায় আমেরিকায় চলে যায়। কিন্তু সেখানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও সে দেশের প্রকৃতি এবং পরিজনদের কথা ভেবে আপ্লুত হয়। এক্ষেত্রে দেশাত্ববোধই আয়মানের স্মৃতিকাতরতার কারণ, যা আলোচ্য কবিতারও মূলভাব। সেদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ অর্থবহ।
