| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আরাফ বড়ো হয়ে…’ সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম.এম) কলেজ ২০২৬ – বাঙালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

আরাফ বড়ো হয়ে লেখক হতে চায়। তাই এখন থেকেই লেখালেখির চর্চা করছে সে। সহজ-সরল শব্দ ব্যবহার তার লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য। অপরিচিত বা জটিল শব্দসম্ভার সে সর্বদা পরিত্যাগ করে। সে মনে করে যে, তার লেখা পাঠককে বোধগম্য করাই আসল লক্ষ্য।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ইংরেজি উপন্যাসের নাম Rajmohons Wife.
“যাহা লিখিবেন, তাহা হঠাৎ ছাপাইবেন না।”- উক্তিটির মাধ্যমে লেখক নতুন লেখকদের লেখা কিছুদিন ফেলে রেখে সংশোধন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সাধারণত নতুন কোনো লেখা সম্পূর্ণ করার পর তাতে কিছু ত্রুটি থেকে যেতে পারে। সেই ত্রুটি তাৎক্ষণিক নজরে আসে না। তাই প্রাবন্ধিক কোনো প্রবন্ধ, নাটক, উপন্যাস লেখার পর এক-দুই বছর ফেলে রাখতে অর্থাৎ চোখের আড়ালে রাখতে বলেছেন। এক-দুই বছর পর লেখাটির অনেক ত্রুটি নজরে পড়বে। তখন লেখার ত্রুটিগুলো সংশোধন করলে রচনাটি বিশেষ উৎকর্ষ লাভ করে।
উদ্দীপকে 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনায় উল্লিখিত রচনার অন্যতম গুণ সহজবোধ্যতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে লেখক যেসব বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন, সেগুলোর মধ্যে লেখার সরলতা ও সহজবোধ্যতা অন্যতম। প্রবন্ধটিতে সরলতাকে তিনি রচনার সর্বশ্রেষ্ঠ অলংকার হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উদ্দীপকের আরাফ বড়ো হয়ে লেখক হতে চায়। এজন্য সে এখন থেকেই লেখালেখির চর্চা করছে। আর তা করতে গিয়ে সে জটিল ও অপরিচিত শব্দ পরিহার করে সহজ-সরল শব্দ ব্যবহারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। এভাবেই সে রচনা লেখার চেষ্টা করছে। একইভাবে, 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনায় নতুন লেখকদের পরামর্শ দিতে গিয়ে লেখক রচনার সরলতা ও বোধগম্যতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁর মতে, একটি আদর্শ লেখা অবশ্যই সহজ-সরল ভাষায় লেখা উচিত, যাতে তা সহজেই পাঠক বুঝতে পারে। উদ্দীপকে আলোচ্য রচনার এ দিকটিই বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।
কেবল রচনার সহজবোধ্যতার বিষয়টি তুলে ধরায় "উদ্দীপকে 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' রচনার আংশিক ভাবনা প্রকাশিত হয়েছে" মন্তব্যটি যথার্থ।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে লেখক সরলতাকে যেকোনো লেখার অন্যতম গুণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি মানবকল্যাণকে লেখার উদ্দেশ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর বাইরে লেখার ক্ষেত্রে অনুকরণীয়তা পরিহার করে তিনি বস্তুনিষ্ঠ লেখার প্রতি মনোযোগী হওয়ার ওপর পরামর্শ দিয়েছেন।
উদ্দীপকে আরাফ নামের এক যুবকের কথা বলা হয়েছে। বড়ো হয়ে একজন ভালো লেখক হওয়াই তার লক্ষ্য। এ কারণে সে এখন থেকেই লেখার প্রতি মনোযোগী হয়েছে। আর তা করতে গিয়ে সে রচনার অন্যতম গুণ সরলতা ও সহজবোধ্যতার দিকটিকে সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়েছে। তার মতে, যেকোনো লেখা পাঠকের বোধগম্য হওয়াই সমীচীন। আর তাই লেখার ক্ষেত্রে সে অপরিচিত বা জটিল শব্দের ব্যবহার থেকে বিরত থাকে। 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধেও লেখক লেখার সরলতার প্রতি জোর দিয়েছেন।
'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে আত্মসচেতন লেখক ভবিষ্যতের লেখকদের জন্য কিছু আত্মোপলব্ধিগত পরামর্শ দিয়েছেন, যা লেখকদের লেখার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এরই অংশ হিসেবে রচনাটিতে লেখার সরলতা, বস্তুনিষ্ঠতা, অনুকরণপ্রিয়তা পরিহার ও মানবকল্যাণকে উদ্দেশ্য করে লেখাকে রচনার বড়ো গুণ হিসেবে অভিহিত করেছেন। পক্ষান্তরে উদ্দীপকের ঘটনাবর্তে কেবল রচনার সহজবোধ্যতার দিকই তুলে ধরা হয়েছে, উল্লিখিত অন্যান্য দিক নয়। এদিক বিবেচনায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।