আরিফ এক জগ পানি থেকে দুই গ্লাস পানি পান করে। বাকি পানিটুকু সে বারান্দায় রাখা গাছের টবে দিলো। এরপর সে গাছটির পাতাসহ একটি শাখাকে সেলোফেন ব্যাগ দিয়ে মুড়ে সুতা দিয়ে বেঁধে দিল। কয়েক ঘণ্টা পর সে লক্ষ্য করলো ব্যাগের ভিতরের গায়ে পান্নির ফোঁটা জমা হয়েছে। সেই সাথে আরিফের দেহের একটি অঙ্গ পানকৃত পানি থেকে মূত্র তৈরি করায় মূত্রত্যাগের অনুভূতি হলো।
ইমবাইবিশন: যে প্রক্রিয়ায় কলয়েড জাতীয় শুকনা বা আধা শুকনা পদার্থ তরল শুষে নেয় তাকে ইমবাইবিশন বলে।
ফ্লোয়েমগুচ্ছে সিভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও বাস্ট ফাইবার থাকে। সিভনল এক ধরনের কেন্দ্রিকাবিহীন ও পাতলা প্রাচীরযুক্ত সজীব কোষ। লম্বালম্বিভাবে এরা একটির সাথে অন্যটি যুক্ত হয়ে উদ্ভিদদেহে জালের মতো গঠন সৃষ্টি করে দুটো কোষের মধ্যবর্তী অনুপ্রস্থ প্রাচীরটি স্থানে স্থানে বিলুপ্ত হয়ে চালুনির মতো আকার ধারণ করে। এর ফলে খাদ্যদ্রব্য সহজেই এক কোষ থেকে অন্য কোষে চলাচল করতে পারে। শীতকালে এগুলোতে ক্যালোজ নামক রাসায়নিক পদার্থ জমা হয়ে রন্ধ্র ছোট হয়, তাই খাদ্য চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। একারণে শীতকাল অপেক্ষা গ্রীষ্মকালে ফ্লোয়েমের মাধ্যমে খাদ্য পরিবহন বেড়ে যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আরিফের দেহের অঙ্গটি হলো বৃক্ক বা কিডনি। এর চিহ্নিত চিত্র নিম্নরূপ:
উদ্দীপকের পানির জমার প্রক্রিয়াটি হলো প্রস্বেদন। প্রস্বেদন প্রক্রিয়া টবের গাছের জন্য ক্ষতিকর' মনে হলেও তা অতি প্রয়োজনীয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রস্বেদন প্রক্রিয়ার উপরে সজীর উদ্ভিদ কোষের বিপাকীয় কার্যক্রম অনেকাংশে নির্ভরশীল। প্রস্বেদনের ফলে জাইলেম বাহিকায় টান পড়ে। এই টানের ফলে উদ্ভিদের মূলরোম কর্তৃক শোষিত পানি এবং খনিজ লবণ পাতায় পরিবাহিত হয়। এ টানের ঘাটতি হলে পানি শোষণ কমে যাবে এবং খাদ্য প্রস্তুতসহ অনেক বিপাকীয় কার্যক্রম শুথ হয়ে যাবে। প্রস্বেদনের ফলে পাতার মেসোফিলে ব্যাপন চাপ ঘাটতি সৃষ্টি হয়, যা পানি শোষণে সাহায্য করে। উদ্ভিদ প্রস্বেদনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত পত্রফলক দিয়ে শোষিত তাপশক্তি হ্রাস করে পাতার কোষগুলোর তাপমাত্রা সহনশীল পর্যায়ে রাখে।
অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের বহু ধরনের উপকার করলেও এর কিছু অপকারী ভূমিকাও রয়েছে। যেমন: পানি শোষণের
চেয়ে প্রস্বেদনে পানি হারানোর হার বেশি হলে উদ্ভিদের জন্য পানি এবং খনিজের ঘাটতি দেখা দিবে। এর ফলে উদ্ভিদটির মৃত্যু হতে পারে। মাটিতে পানির ঘাটতি থাকলে শোষণ কম হবে কিন্তু প্রস্বেদন পূর্বের মতো চলতে থাকবে। এ অবস্থাকে ঠেকাতে প্রকৃতি শীত মৌসুমে বহু উদ্ভিদের পাতা ঝরিয়ে দেয়।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, প্রগ্বেদন কিছু ক্ষতিসাধন করলেও এ প্রক্রিয়া উদ্ভিদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় একটি কার্যক্রম।
