| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আরিফ সাহেব তার…’ সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি এন্ড কলেজ ২০২৬ – জনসেবা ও আমলাতন্ত্র, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

আরিফ সাহেব তার পেনশন মঞ্জুর করাতে গিয়ে খুবই সমস্যার সম্মুখীন হন। অনেকদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও তার কাগজপত্র এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরতে, ঘুরতে তা জনৈক কর্মকর্তার টেবিলে পড়ে আছে। একটা সিদ্ধান্তহীনতার কারণে তার পেনশন মঞ্জুর হচ্ছে না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
আমলাতন্ত্রের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো- 'Bureaucracy' ।
আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত, দক্ষ ও পেশাদার কর্মচারীদের দিয়ে পরিচালিত শাসনব্যবস্থা, যারা সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।
আমলাতন্ত্র হলো প্রশাসনের মেরুদণ্ড। আধুনিক রাষ্ট্রে আমলারা নির্দিষ্ট বেতন ও পদমর্যাদার ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তারা রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে সরকারের গৃহীত সকল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করেন।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্র বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।
আমলাতন্ত্র হচ্ছে আমলা বা সরকারি কর্মচারীদের দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থা। উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব আনোয়ার একজন উচ্চপদস্থ স্থায়ী সরকারি কর্মকর্তা। অর্থাৎ জনাব আনোয়ারের সংগঠনটি হলো আমলাতন্ত্র। আমলাতন্ত্র একটি প্রশাসনে অরাজনৈতিক অংশরূপে নীতিনির্ধারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োগ, আইন প্রণয়ন, শাসন বিভাগের রাজনৈতিক পদাধিকারীদের পরামর্শদান প্রভৃতি কার্যাবলির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
উল্লিখিত কার্যাবলি ছাড়াও আমলাতন্ত্র সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন করে থাকে। বর্তমানে আইনসভায় উপস্থাপিত খসড়া বিলের অধিকাংশই আমলারা প্রস্তুত করে থাকেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত বিষয়, ব্যাংক-বিমা সম্পর্কিত বিষয়ে খসড়া বিল প্রশাসনিক বিভাগই তৈরি করে থাকে। আমলাদের মূলকাজ হচ্ছে নীতি বাস্তবায়ন, নীতি প্রণয়ন নয়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রশাসকরা নীতি নির্ধারণের সময় আমলাদের পরামর্শ গ্রহণ করে থাকেন। কেননা, আমলারা এসব বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। সরকারের নিকট জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া আমলারাই তুলে ধরেন। তারা আইনসভার সদস্য ও মন্ত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ও পরিসংখ্যান প্রদান করে থাকেন। তাদের পরিবেশিত তথ্যাদিই সরকার দেশবাসীর নিকট প্রকাশ করে থাকে।
উদ্দীপকে আরিফ সাহেবের সমস্যাটিকে এককথায় 'লালফিতার দৌরাত্ম্য' (Red Tapism) বলা হয়।
লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে প্রশাসনিক কাজে অত্যধিক নিয়মকানুন অনুসরণ করার ফলে সৃষ্ট দীর্ঘসূত্রিতা ও বিলম্বকে বোঝায়। অতীতে সরকারি ফাইল লাল ফিতা দিয়ে বেঁধে রাখা হতো বলে একে লালফিতার দৌরাত্ম্য বলা হয়। এটি আমলাতন্ত্রের একটি নেতিবাচক দিক, যেখানে। জনসেবার চেয়ে নিয়মনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, আরিফ সাহেব তার পেনশনের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। তার ফাইলটি এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরছে কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। এই যে কাজের মন্থর গতি এবং সিদ্ধান্তহীনতা, এটিই মূলত লালফিতার দৌরাত্ম্যের বহিঃপ্রকাশ। আমলারা যখন সৃজনশীলতা বা মানবিক দিক বিবেচনা না করে কেবল কঠোর বিধিনিষেধের জালে আটকে থাকেন, তখনই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, লালফিতার দৌরাত্ম্য একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। এর ফলে প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যায় এবং জনভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। আরিফ সাহেবের মতো একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর প্রাপ্য অধিকার আদায়ে এমন বিলম্ব প্রশাসনিক অদক্ষতা ও জবাবদিহিতার অভাবকে নির্দেশ করে। তাই সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে আমলাতন্ত্র থেকে এই লালফিতার দৌরাত্ম্য দূর করা অপরিহার্য।