| ㅤ | A. Nayan20 Oct 2026 (6 days ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আসাদ তার বন্ধু…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৩ – যৌক্তিক সংজ্ঞা, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র (এইচএসসি)

আসাদ তার বন্ধু আনিছকে বলল, “উট হয় মরুভূমির জাহাজ।” আসাদের কথা শুনে আনিছ গ্রাম সম্পর্কে বলল, “কোনো গ্রাম নয় – অসুন্দর।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
কোনো পদের জাত্যর্থের পূর্ণ বিবৃতিকে যৌক্তিক সংজ্ঞা বলে।
যৌক্তিক সংজ্ঞায় একটি পদের পূর্ণ জাত্যর্থ উল্লেখের মাধ্যমে পদটিকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়। পূর্ণ জাত্যর্থের ক্ষেত্রে একটি পদের আসন্নতম জাতি ও বিভেদক লক্ষণ আবশ্যিকভাবে উল্লেখ করতে হয়। আবার, যৌক্তিক সংজ্ঞার কতকগুলো নিয়ম রয়েছে যা কোনো পদের সংজ্ঞা প্রদানের জন্য আবশ্যিকভাবে অনুসরণ করতে হয়। কিন্তু এমন কিছু পদ আছে যেখানে যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়মগুলো প্রয়োগ করা যায় না। যেসব ক্ষেত্রে যৌক্তিক সংজ্ঞার নিয়মগুলো প্রয়োগ করা যায় না, সেসব ক্ষেত্রে যৌক্তিক সংজ্ঞা সীমাবদ্ধ। তাই যৌক্তিক সংজ্ঞার সীমাবদ্ধতা বলতে সংজ্ঞা প্রদানে অপারগতাকে বোঝায়।
উদ্দীপকে আসাদের বক্তব্যে উটের সংজ্ঞায় 'উট হয় মরুভূমির জাহাজ' এ 'রূপক সংজ্ঞা' নির্দেশিত হয়েছে। নিচে এর প্রকৃতি ব্যাখ্যা করা হলো-
এটি একটি ভ্রান্ত সংজ্ঞা। যৌক্তিক সংজ্ঞার একটি নিয়মে উল্লেখ আছে- যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে সেই পদটি থেকে সংজ্ঞাটি স্পষ্টতর হতে হবে; সংজ্ঞায় কোনো রূপক বা দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা চলবে না।” সংজ্ঞার এ নিয়মটি লঙ্ঘন করে কোনো পদের সংজ্ঞায় রূপক ভাষা ব্যবহার করলে 'রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' ঘটে। সংজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো পদের অর্থকে পরিষ্কার করা কিন্তু এরূপ ধরনের শব্দ ব্যবহার করলে পদের অর্থ সবার কাছে বোধগম্য হয় না।
তেমনি উদ্দীপকে উটের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- 'উট হয় মরুভূমির জাহাজ' এখানে 'মরুভূমির জাহাজ' নামক রূপক শব্দ ব্যবহার করায় পদের অর্থ পরিষ্কার না হয়ে অস্পষ্ট থেকে গেছে। এরূপ সংজ্ঞাটি উপরিল্লিখিত নিয়মটি লঙ্ঘন করেছে। ফলে সংজ্ঞাটি ভ্রান্ত হয়েছে এবং এরূপ ভ্রান্ত সংজ্ঞার নাম রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি।
উদ্দীপকে আসাদ নির্দেশিত সংজ্ঞা হলো- রূপক সংজ্ঞা ও আনিছ নির্দেশিত সংজ্ঞা হলো নঞর্থক সংজ্ঞা। নিচে এ দুটি সংজ্ঞার তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-
আসাদ উটের সংজ্ঞায় বলেছে- উট হয় মরুভূমির জাহাজ। এটি একটি ভ্রান্ত সংজ্ঞা। আর আনিছ গ্রামের সংজ্ঞায় বলেছে কোনো গ্রাম নয় অসুন্দর। এটিও একটি ভ্রান্ত সংজ্ঞা। আসাদের সংজ্ঞাটি যৌক্তিক সংজ্ঞার দ্বিতীয় নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। আর আনিছের দেওয়া সংজ্ঞাটি যৌক্তিক সংজ্ঞার চতুর্থ নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। আসাদের দেওয়া উটের সংজ্ঞাটি যৌক্তিক সংজ্ঞার যে নিয়মটি লঙ্ঘন করেছে সেটি হলো- যে পদের সংজ্ঞা দিতে হবে সেই পদটি থেকে সংজ্ঞাটি স্পষ্টতর হতে হবে; সংজ্ঞায় কোনো রূপক বা দুর্বোধ্য ভাষা ব্যবহার করা চলবে না। এ নিয়ম লঙ্ঘন করে উটের সংজ্ঞায় রূপক ভাষা 'মরুভূমির জাহাজ' ব্যবহার করায় 'রূপক সংজ্ঞা অনুপপত্তি' ঘটেছে। আর আসাদের দেওয়া গ্রামের সংজ্ঞাটি যৌক্তিক সংজ্ঞার যে নিয়মটি লঙ্ঘন করেছে সেটি হলো- সদর্থক সম্ভব হলে সংজ্ঞায় কখনোই নঞর্থক ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয়। এ নিয়ম লঙ্ঘন করে গ্রামের সংজ্ঞায় নঞর্থক ভাষা ব্যবহার করায় 'নঞর্থক' বা 'নেতিবাচক' সংজ্ঞা অনুপপত্তি ঘটেছে।