| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আসিফ উচ্চ মাধ্যমিক…’ শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার পার্লস কলেজ – আচরণের উপর পরিবেশের প্রভাব, মনোবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

আসিফ উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। তার বাবা, মা দু’জনই চাকরিজীবী। আসিফ পড়ালেখায় ভালো ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সে পড়ালেখায় অমনোযোগী হতে থাকে। সে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। অভিভাবক, শিক্ষক অর্থাৎ গুরুজনদের প্রতি সম্মানবোধ হারিয়ে ফেলে। পারিপার্শ্বিক সকলের প্রতি অসহযোগিতামূলক এবং অসামাজিক আচরণ প্রদর্শন করে। আসিফের অবস্থার অবনতি হতে থাকলে তার বাবা, মা তাকে নিয়ে কাউন্সিলরের শরণাপন্ন হন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৪
কখনো অনাকে খুশি করতে, কখনো প্রতিশোধ অথবা আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে কোনো ব্যক্তি, দেশ বা জাতিকে আঘাত করা বা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত আচরণকেই আগ্রাসন বলে।
সামঞ্জস্যতা এমন একটি সামাজিক কার্যপ্রক্রিয়া যা বিভিন্ন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে একত্রে কাজ করার সুযোগ দেয়। সামঞ্জস্যতা কার্যপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সামাজিক সংগঠনের উদ্ভব ঘটে। সাধারণ অর্থে সামঞ্জস্যতা বলতে কোনো কিছুর সাথে খাপ খাওয়ানোকে বুঝায়। সামঞ্জস্যতাকে কেউ কেউ উপযোজন হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকে। সামঞ্জস্যতা হলো এমন একটি কার্যপ্রক্রিয়া যার দ্বারা যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পূর্বে দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য তারা আবার একত্রিত হয়েছে। এক্ষেত্রে সামঞ্জস্যতার মধ্যে শত্রুতা প্রচ্ছন্ন থাকার ইঙ্গিত বহন করে। কারণ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য সফল হলে তাদের মাঝে আবার স্বার্থের প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। সেজন্য অনেকে সামঞ্জস্যতাকে শত্রুতামূলক প্রতিযোগিতা বলে বর্ণনা করেছেন। সামঞ্জস্যতা বিভিন্ন ব্যক্তিকে একত্রে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।
উদ্দীপকে আসিফ লেখাপড়ায় অমোনযোগী ও নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এছাড়াও সে শিক্ষক ও গুরুজনদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করছেনা। আসিফের এরূপ কর্মকান্ডের পিছনে তার পরিবারের ভূমিকা রয়েছে। নিচে তার পরিবারের ভূমিকা ব্যাখ্যা করা হলো-
পরিবারই শিশুর সমাজীকরণের সর্বপ্রথম ধাপ। জন্মগ্রহণের পর থেকে শিশু তার বাবা-মা, ভাই-বোন, স্নেহ-ভালোবাসা প্রভৃতির সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। উদ্দীপকে আসিফের উপরোক্ত কর্মকান্ডের পিছনে পরিবারের সম্পর্ক রয়েছে। শিশুর সমাজীকরণে তিন প্রকার পারিবারিক সম্পর্ক প্রভাব বিস্তার করে। যথা- ১। পিতামাতার সম্পর্ক, ২। পিতামাতা ও শিশুর সম্পর্ক এবং ৩। ভাই-বোনের সম্পর্ক। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় সম্পর্কটি অর্থাৎ পিতা-মাতা ও শিশুর সম্পর্কের ভূমিকা রয়েছে। আসিফের পিতা-মাতা দুজনই কর্মজীবী হওয়ায় দিনের অধিকাংশ সময় তারা ঘরের বাইরে অবস্থান করে। ফলে সে একাকী সময় কাটায়। এ একাকীত্ব থেকে সে লেখাপড়ায় অমনোযোগী ও নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে যার ফলশ্রুতিতে সে শিক্ষক ও গুরুজনদের সাথে খারাপ আচরণ করছে।
তাই বলা যায়, আসিফের কর্মকান্ডের পিছনে তার পরিবারের ভূমিকা রয়েছে।
উদ্দীপকে আসিফের কর্মকান্ডের জন্য পরিবার ব্যতীত সমাজীকরণের আরও দুটি মাধ্যম, যথা- বিদ্যালয় ও খেলার সাথী জড়িত থাকতে পারে বলে আমি মনে করি। নিচে যুক্তিসহ আলোচনা করা হলো-
শিশুর সমাজীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুর তুলনামূলক প্রকৃত মূল্যবোধ, আত্মবিশ্বাস, প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব পারস্পরিক সম্প্রীতি গড়ে উঠে। আসিফ লেখাপড়ায় অমনযোগী হওয়ার পিছনে তুলনামূলক। খারাপ সহপাঠীদের সাথে মেলামেশার কারণে হয়ে থাকতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে সে শিক্ষকদের সাথেও ভালো ব্যবহার করছে না।
খেলার সাথীও শিশুর সমাজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুর খেলার সাথীরা তার সমবয়সী হয়ে থাকে। সমবয়সীদের প্রশংসা, নিন্দা, সমর্থন। সবকিছুর প্রতি শিশু অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে থাকে। তাই সে তার। বন্ধুদের আদর্শমানকে নিজের সামাজিক আদর্শমান নির্ধারণ করে। খেলার সাথীদের প্রভাবে শিশুর সহযোগিতা, সহমর্মিতা, প্রতিযোগিতা এমনকি অপরাধ প্রবণতাও গড়ে উঠতে পারে। আসিফের নেশাগ্রস্ত হওয়ার পিছনে। বন্ধুসঙ্গ তথা খেলার সাথীদের প্রভাব রয়েছে।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় আসিফের উপরোক্ত কর্মকান্ডের পিছনে পরিবার ছাড়াও বিদ্যালয় ও খেলার সাথী যথেষ্ট। প্রভাব বিস্তার করেছে।