আসলাম হোসেন একজন বর্গাচাষি। এক বছর অতিরিক্ত খরায় তার সব ফসল নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু জমির মালিককে ভাগের ফসল দিতেই হবে। নিরুপায় হয়ে সে তার একমাত্র সম্বল গরুটি বিক্রি করে জমির মালিকের পাওনা পরিশোধ করে।
আল মাহমুদের কবিতার মূল উপজীব্য- ঐতিহ্যপ্রীতি ও লোকজ শব্দের সুনিপুণ প্রয়োগ।
ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের জন্য কবি বৈশাখের বাতাসকে নিষ্ঠুর বলেছেন।
'বোশেখ' কবিতায় বলা হয়েছে, বৈশাখী ঝড়ে গবির-দুঃখী মানুষ ও অসহায় প্রাণীর নানা রকম ক্ষতি হয়। বুনোহাঁসের ঝাঁক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, গরিব মাঝির পালের দড়ি ছেঁড়ে, চাষির ভিটে গুঁড়িয়ে দেয়, টুনটুনিদের বেগুন পাতার বাসা ছিঁড়ে ফেলে, বাবুই পাখির ঘর উড়িয়ে দেয়। এছাড়াও বৈশাখী ঝড়ো বাতাস জনজীবনে আরও নানা রকম ক্ষতি করে। এজন্য কবি বৈশাখের বাতাসকে নিষ্ঠুর বলেছেন।
উদ্দীপকে 'বোশেখ' কবিতায় উল্লিখিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে দুঃখী-দরিদ্র মানুষের শিকার হওয়ার দিকটি ফুটে উঠেছে।
'বোশেখ' কবিতায় কবি বৈশাখের করাল গ্রাস ও আগ্রাসী থাবায় দুঃখী দরিদ্র মানুষের শিকার হওয়ার দিকটি তুলে ধরেছেন। বৈশাখের ঝড়ো বাতাস গরিব মাঝির পালের দড়ি ছিঁড়ে দেয়, উড়িয়ে নিয়ে যায় দরিদ্র চাষির ঘরের চালা।
উদ্দীপকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে দরিদ্র বর্গাচাষির করুণ অবস্থা প্রকাশ পেয়েছে। অতিরিক্ত খরার কারণে বর্গাচাষি আসলাম হোসেনের সব ফসল নষ্ট হয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে একমাত্র সম্বল গরুটি বিক্রি করে জমির মালিকের পাওনা মিটিয়ে দেয়। বিষয়টিতে 'বোশেখ' কবিতায় বর্ণিত বৈশাখের করাল গ্রাসে হতদরিদ্র মানুষের সর্বস্ব হারানোর দিকটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে বৈশাখের প্রতি কবির প্রতিবাদের দিকটি অনুপস্থিত থাকায় “উদ্দীপকটি 'বোশেখ' কবিতার সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করতে পারেনি”- মন্তব্যটি যথার্থ।
'বোশেখ' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন, বৈশাখের যত ধ্বংসযজ্ঞ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার শিকার হতদরিদ্র মানুষ ও অসহায় প্রাণী। তাই কবি আক্ষেপের সুরে আহ্বান করেছেন, ধ্বংস যদি করতে হয় তবে পাপের টাকায় গড়া অট্টালিকা ধ্বংস করে দাও।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতার শিকার হতদরিদ্র বর্গাচাষি। ভয়াল খরার শিকার হয়ে বর্গাচাষি আসলাম হোসেন একমাত্র সম্বল গরুটি বেচে জমির মালিকের পাওনা মিটিয়েছে, যা 'বোশেখ' কবিতায় বর্ণিত বৈশাখের করাল গ্রাসে হতদরিদ্র মানুষের সর্বস্ব হারানোর দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে খরার প্রকোপে দরিদ্র চাষির করুণ অবস্থার চিত্র তুলে ধরা হলেও এর প্রতি আক্ষেপ প্রকাশ পায়নি। অন্যদিকে 'বোশেখ' কবিতায় কবি বৈশাখের করাল গ্রাসে হতদরিদ্র মানুষের করুণ অবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তিনি আক্ষেপের সুরে এর প্রতিবাদ করেছেন। এ কবিতায় কবি বৈশাখের বিধ্বংসী প্রতীকের মধ্য দিয়ে অত্যাচারীর অবসান কামনা করেছেন। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
