| ㅤ | A. Nayan29 Oct 2026 (2 hours ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আসমা ও ফারজানা…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭ – আরোহের প্রকারভেদ, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র (এইচএসসি)

আসমা ও ফারজানা দুই বান্ধবী মিলে গল্প করছে। আসমা গল্পের ফাঁকে বলল, আমি এ যাবৎ যত মানুষ দেখেছি তারা সবাই নৈতিক বিচার করতে পারে। মনে হয় সব মানুষই নৈতিক বিচার করার ক্ষমতা রাখে। ফারজানা বললো, আমিও তো তোমার মতো করে বলতে পারি, আমি একবার দশটি আম পেয়েছিলাম এবং প্রত্যেকটির স্বাদ নিয়ে দেখি, সবগুলো আমই হয় মিষ্টি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
আসমা ও ফারজানার বক্তব্যে যে পদ্ধতি প্রতিফলিত হয়েছে উদ্দীপকের আলোকে তার পার্থক্য নির্ণয় করো।
ঘটনা সংযোজন হলো প্রত্যক্ষলব্ধ কতগুলো ঘটনার সমষ্টি।
ঘটনা সংযোজন কথাটির ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Colligation of Facts'। এ শব্দটির অর্থ হলো 'এক সাথে বাঁধা'। ব্রিটিশ যুক্তিবিদ হিউয়েল (Whewell) সর্বপ্রথম এই যুক্তিপদ্ধতির ধারণা দেন। তিনি মনে করেন, ঘটনা সংযোজন ঘটনাবলির যোগফল মাত্র। যেমন- কতিপয় বালক একই পোশাকে বই, খাতা কিংবা ব্যাগ হাতে নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে। এ দৃশ্য দেখে আমরা সিদ্ধান্ত নেই- তারা হয় ছাত্র। এ ভাবেই ঘটনা সংযোজন অনুমানে আমরা সরাসরি দেখা কতগুলো ঘটনাকে একটা সার্বিক ধারণার সাথে যুক্ত করে থাকি।
আসমার বক্তব্যে অবৈজ্ঞানিক আরোহকে নির্দেশ করে। কার্যকারণ সম্পর্ক ছাড়াই কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি বা প্রতিকূল দৃষ্টান্ত রহিত অভিজ্ঞতার আলোকে যে আরোহানুমান একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ (Unscientific Induction) বলে। যেমন-আমি এ যাবৎ যত মানুষ দেখেছি তারা সবাই স্বার্থপর। অতএব, সব মানুষ হয় স্বার্থপর। এখানে অনুকূল দৃষ্টান্তের আলোকে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ কারণে এটি অবৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত।
আসমা ও ফারজানার বক্তব্যে অবৈজ্ঞানিক ও পূর্ণাঙ্গ আরোহের প্রতিফলন ঘটেছে। নিচে উদ্দীপকের আলোকে উভয় আরোহের পার্থক্য নির্ণয় করা হলো-
আমরা জানি, পূর্ণাঙ্গ আরোহের সর্বক্ষেত্রে আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে 'আরোহমূলক লম্ফ' অনুপস্থিত থাকে। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহের ভিত্তি হলো 'আরোহমূলক লম্ফ'। এ মূল বৈশিষ্ট্যটি উভয়ের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য সৃষ্টি করেছে। উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায় আসমা আরোহমূলক লক্ষের মাধ্যমে কতিপয় দৃষ্টান্ত থেকে সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সুতরাং তার বক্তব্য অবৈজ্ঞানিক আরোহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অন্যদিকে ফারজানা দশটি আমের প্রত্যেকটির স্বাদ গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত নেয়- সকল আম হয় মিষ্টি। অর্থাৎ তার বক্তব্যে আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত। এ কারণে ফারজানার বক্তব্য পূর্ণাঙ্গ আরোহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। বস্তুত পূর্ণাঙ্গ আরোহ হলো অপ্রকৃত আরোহের একটি প্রকরণ। পক্ষান্তরে অবৈজ্ঞানিক আরো হচ্ছে প্রকৃত আরোহের অন্যতম একটি প্রকরণ। কারণ এ অনুমানে প্রকৃত আরোহের সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। পূর্ণাঙ্গ আরোহের সিদ্ধান্ত সর্বদা অল্প কিছু দৃষ্টান্তের প্রত্যেকটিকে নিরীক্ষণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ফলে তা 'সর্বিকীকরণ' না হয়ে হয় 'সমষ্টিকরণ'। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহে মাত্র কয়েকটি দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে কোনো বিষয়ের সমগ্র সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গঠন করা হয়। ফলে এটি হয় যথার্থ সার্বিকীকরণ। বস্তুত পূর্ণাঙ্গ আরোহ হলো একটি সহজ-সরল অনুমান প্রক্রিয়া। এ কারণে পূর্ণাঙ্গ আরোহের সকল দৃষ্টান্ত পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় কোনো জটিলতার সৃষ্টি হয় না। অন্যদিকে অবৈজ্ঞানিক আরোহে যথার্থ সিদ্ধান্ত স্থাপনের জন্য বেশ কতকগুলো জটিল পদ্ধতি অতিক্রম করতে হয়। ফলে এর সিদ্ধান্ত দৃঢ় হলেও কাজটি জটিল ও কঠিন হয়ে পড়ে।
পরিশেষে বলা যায়, পূর্ণাঙ্গ আরোহের সিদ্ধান্তে আশ্রয়বাক্যের মধ্যে কোনোরূপ বিশ্লেষণের অবকাশ থাকে না। কারণ এতে সবগুলো দৃষ্টান্ত নিরীক্ষা বা পরীক্ষা করা হয়। পক্ষান্তরে অবৈজ্ঞানিক আরোহের আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য-বিধেয় পদের মধ্যকার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গঠন করা হয়। এসব কারণেই আসমা ও ফারজানার বক্তব্যে প্রতিফলিত আরোহের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।