| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘আসগর সাহেব প্রতিদিন…’ যশোর বোর্ড ২০২৫ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

আসগর সাহেব প্রতিদিন সকালে একটি করে কুসুম ছাড়া ডিম সিদ্ধ খান। তবে ডাক্তার তাকে চর্বি জাতীয় খাবার খেতে নিষেধ করেছেন। কারণ সম্প্রতি তার অ্যারিথমিয়া হয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
পিত্তরসে অবস্থিত পিত্তলবণ-এর প্রভাবে চর্বির ক্ষুদ্র বিন্দুগলো - ভেঙে সাবানের ফেনার মত অতি ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াই হলো ইমালসিফিকেশন।
পাকস্থলির ভিতরে মিউকোপলিস্যাকারাইড দিয়ে গঠিত একটি মিউকাস স্তর থাকে যা পাকস্থলিতে উৎপন্ন সকল এনজাইম বা অ্যাসিডকে পাকস্থলির কোষের সরাসরি সংস্পর্শে আসতে দেয় না। তাই পাকস্থলিতে উৎপন্ন সকল এনজাইম বা অ্যাসিড খাদ্যদ্রব্যকে পরিপাক করলেও পাকস্থলিকে পরিপাক করতে পারে না। এ কারণে পাকস্থলি নিজে পরিপাক হয় না।
উদ্দীপকে উল্লেখিত প্রথম খাবারটি হলো ডিম যা আমিষ জাতীয় খাদ্য। নিচে আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো-
আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক পাকস্থলিতে শুরু হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে শেষ হয়।মুখবিবরের লালারসে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম না থাকায় মুখবিবরে আমিষ জাতীয় খাদ্যের পরিপাক ঘটে না। বরং খাদ্য চিবানোর সময় লালারস মিশে খাদ্যকে পিচ্ছিল ও নরম করে। পাকস্থলিতে পাচকরসের পেপসিনোজেন নামক নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক জাইমোজেন HCI-এর উদ্দীপনায় সক্রিয় হয়ে পেপসিন নামক সক্রিয় উৎসেচকে পরিণত হয়। পেপসিন অম্লীয় মাধ্যমে জটিল আমিষকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করে প্রোটিওজ ও পেপটোনে পরিণত করে। এ অপরিপাককৃত খাদ্য অম্লীয় কাইমে পরিণত হয় এবং ধীরে ধীরে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। ডিওডেনামের ক্ষারীয় মাধ্যমে এন্টারোকাইনেজ নামক উৎসেচকের প্রভাবে আন্ত্রিক রস ও অগ্ন্যাশয় রসের নিষ্ক্রিয় প্রোটিওলাইটিক জাইমোজেন ট্রিপসিনোজেন সক্রিয় এনজাইম ট্রিপসিনে পরিণত হয়। ট্রিপসিন প্রোটিওজ ও পেপটোন নামক আমিষকে ভেঙে অ্যামাইনো অ্যাসিড ও ডাইপেপটাইডে পরিণত করে। এরপর খাদ্য ইলিয়ামে প্রবেশ করে। ইলিয়ামে প্রায় পরিপাককৃত খাবার পৌছালে এর প্রাচীর থেকে এন্টেরোক্রিনিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। এর প্রভাবে ইলিয়ামের প্রাচীর থেকে নিঃসৃত ইরেপসিন নামক সক্রিয় প্রোটিওলাইটিক উৎসেচক ডাইপেপটাইড সমূহকে ভেঙে অ্যামিনো এসিডে পরিণত করে। ইলিয়ামের ভিলাইসমূহ কর্তৃক অ্যামিনো অ্যাসিড শোষিত হয়।
উদ্দীপকে আসগর সাহেবের যে সমস্যা হয়েছে তা হলো, অ্যারিথমিয়া। এ সময় হার্টবিট খুব দ্রুত গতিতে বা খুব মন্থর গতিতে সংঘটিত হয়। ফলে হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত রক্ত দেহে সরবরাহ করতে পারে না। কৃত্রিম পেসমেকার দ্বারা অ্যারিথমিয়া সংশোধন করা যায়। আসগর সাহেব কৃত্রিম পেসমেকার লাগিয়ে তার সমস্যা দূর করতে পারবে। নিচে এর চিকিৎসা পদ্ধতিটি বিশ্লেষণ করা হলো-
মানব হৃৎপিণ্ডের ডান অলিন্দে বিদ্যমান Sino-Atrial Node বা SAN নামক বিশেষ ধরনের কলা থেকে বৈদ্যুতিক সংকেত বা ইলেকট্রিক্যাল সিগন্যাল সৃষ্টি হয়ে সমগ্র হৃৎপিণ্ডে ছড়িয়ে পড়ে। এতে হৃৎচক্র সম্পন্ন হয়। Sino Atrial Node বা SAN কে পেসমেকার নামে আখ্যায়িত করা হয়। হৃৎপিণ্ডের অলিন্দে বিদ্যমান এ পেসমেকার বিরামহীনভাবে বৈদ্যুতিক সংকেত সৃষ্টি করে হৃৎপিণ্ডকে সচল রাখে। কোনো কারণে এ পেসমেকার কাজ না করলে ত্রুটিমুক্ত বৈদ্যুতিক সংকেত সৃষ্টি হয় এবং হার্টবিটের ছন্দোপতন ঘটে। একে অ্যারিদমিয়াস বলে। এসময় হার্ট বিট খুব দ্রুত গতিতে বা খুব মন্থর গতিতে সংঘটিত হয়। ফলে হৃৎপিণ্ড পর্যাপ্ত রক্ত দেহে সরবরাহ করতে পারে না। এরকম ঘটনায় আমরা ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্ট অনুভব করি। তীব্র অ্যারিদামিয়াস দেহের অত্যাবশ্যক অঙ্গের কলা ধ্বংস করে এবং অনেক সময় মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়। এমনকি মৃত্যুবরণ করে। অকার্যকর বা দুর্বল হৃৎপিণ্ডে বিদ্যুৎ তরঙ্গ সৃষ্টি করে স্বাভাবিক স্পন্দন হার ফিরিয়ে আনার ও নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বুকে। উদরে চামড়ার নিচে স্থাপিত ছোট এক বিশেষ যন্ত্র পেসমেকার ব্যবহার করা যায়। একটি লিথিয়াম ব্যাটারি, কম্পিউটারাইজড জেনারেটর ও শীর্ষে সেন্সরযুক্ত কতগুলো তার নিয়ে একটি পেসমেকার গঠিত হয়। সেন্সরগুলে, ইলেকট্রোড বলে। ব্যাটারি জেনারেটরকে শক্তি-সরবরাহ করে। এ দৃ।৩ জিনিস একটি পাতলা ধাতব বাক্সে আবৃত থাকে। তারগুলোর সাহায্যে জেনারেটরকে হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ইলেকট্রোডগুলো হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক কর্মকাণ্ড শনাক্ত করে তারের মাধ্যমে জেনারেটরে প্রেরণ করে। যখন পেসমেকারটি হৃদস্পন্দন খুঁজে না পায়, তখন এটি সংক্ষিপ্ত ক্ষুদ্র ভোল্টের স্পন্দন দ্বারা নিলয়কে উত্তেজিত করে গতি সঞ্চালন করে। ফলে হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক থাকে।
এভাবেই, প্রাকৃতিক পেসমেকার স্বাভাবিকভাবে কাজ না করলে কৃত্রিম পেসমেকারের মাধ্যমে হৃদস্পন্দন সংশোধন করা যায় এবং স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখা যায়। এতে মানুষের জীবন রক্ষা পায়।