আত্মোন্নতির জন্য পরিশ্রম এবং উদ্যম অপরিহার্য। সততার ভেতর দিয়ে যেমন সত্তার মহিমা উদ্ভাসিত হয়, কাজের মাধ্যমেও তেমনি সমাজে স্বনির্ভর মানুষের অফুরন্ত শক্তির প্রকাশ ঘটে। দুঃখ হয় তখন, যখন দেখি, উদীয়মান যুবকের মধ্যে সম্ভাবনাময় শক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা পরানুগ্রহের মোহে দুয়ারে দুয়ারে চাকরির জন্য মাথা কুটে মরছে।
খাদ্যের গুণ অনুসারে শরীরের পুষ্টি হয়।
রোকেয়া ভারতবর্ষকে ইংরেজি ধরনের অট্টালিকা এবং বাঙালিকে তার বৈঠকখানার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বাঙালির পরিশ্রমকাতরতাকে ব্যঙ্গ করেছেন। আর এ প্রসঙ্গেই তিনি ভারতবর্ষকে একটি ইংরেজি ধরনের অট্টালিকার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন বাঙালি এই অট্টালিকার সাজসজ্জা। আবার ভারতবর্ষ যদি সরোবর হয়, তবে বাঙালি তাতে পদ্মিনী। আর ব্রতবর্ষ যদি উপন্যাস হয় বাঙালি তার নায়িকা। এভাবেই তিনি ভারতবর্ষ ও বাঙালিকে তুলনা করেছেন।
বাঙালি জাতির বৈশিষ্ট্য কর্মবিমুখতা ও অলস প্রকতির দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বৈসাদৃশ্য বিদ্যমান।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা কাজ করার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। মাথা উঁচু করে সমাজে আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চাইলে অবশ্যই আমাদেরকে আলস্য পরিহার করে কর্মে মনোনিবেশ করতে হবে।
উদ্দীপকে আত্মোন্নতির জন্য যে পরিশ্রম ও উদ্যম অপরিহার্য তা তুলে ধরা হয়েছে। সমাজে শিক্ষিত মানুষের অফুরন্ত শক্তির প্রকাশ রয়েছে। উদীয়মান যুবকের মধ্যে সম্ভাবনাময় শক্তি থাকার পরও অন্যের অনুগ্রহের জন্য দ্বারে দ্বারে চাকরির সন্ধান করতে দেখা যায়। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে রোকেয়া বাঙালির আলস্য রূপ ও তার কারণে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে সেই দিক উপস্থাপন করেছেন। পাশাপাশি তিনি এ প্রবন্ধে বাঙালি পুরুষদের আলস্যপ্রিয়তা, শারীরিক পরিশ্রমে অনীহা, বাগাড়ম্বর আচরণ প্রভৃতি বিষয় তুলে ধরেছেন যা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। এভাবে উদ্দীপকের সঙ্গে 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধ লেখকের প্রত্যাশা বাঙালি জাতি যেন তাদের কর্মবিমুখতা ত্যাগ করে পরিশ্রমী হয়ে ওঠে এই দিক থেকে "উদ্দীপক ও 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের মূল সুর এক ও অভিন্ন" মন্তব্যটি যথার্থ।
'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে লেখিকা বাঙালি জাতির উদ্ভট সব কর্মকাণ্ড তুলে ধরে এর নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি প্রত্যাশা করেছেন বাঙালিরা যেন তাদের কর্মবিমুখ মানসিকতা ত্যাগ করে পরিশ্রমী হয়ে ওঠে। মূলত তিনি বাঙালি জাতিকে করে তুলতে চেয়েছেন আত্মনির্ভরশীল ও আত্মমর্যাদাবান।
উদ্দীপকে আত্মোন্নতির উপায় নির্দেশ করা হয়েছে। সাধুতা ও সত্যের ভেতর দিয়ে যেমন মানবসত্তার মহিমা উদ্ভাসিত হয় কাজের মাধ্যমেও তেমনই সমাজের কর্মক্ষম মানুষের অফুরন্ত শক্তির প্রকাশ দেখা যায়। উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে, যুবকের মধ্যে প্রচণ্ড স্পৃহা থাকার পরও যখন চাকরির জন্য নিজেকে এতটা হীন করে, তখন তাদের জন্য সত্যিই খুব করুণা হয়। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে বেগম রোকেয়া বাঙালিদের আলস্য ও তার কুফল দেখিয়ে মূলত তাদের জেগে উঠতে বলেছেন। বাঙালিদের শক্তি ও সাহস কাজে লাগাতে বলেছেন।
উদ্দীপকে পরিশ্রম ও উদ্যমের অপরিহার্যতা বর্ণনা করা হয়েছে। সমাজে স্বনির্ভর, শিক্ষিত যুবকের মধ্যে অফুরন্ত শক্তির প্রকাশ দেখা যায়। 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধে রোকেয়াও আলস্যের কুফল দেখিয়ে বাঙালিকে পরিশ্রমী ও উদ্যমী হতে বলেছেন। এই বিচারে উদ্দীপকটির মূলভাব এবং 'নিরীহ বাঙালি' প্রবন্ধের মূলভাব অভিন্ন। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
