| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘A+ve রক্ত গ্রুপের…’ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ ২০২৪ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

A+ve রক্ত গ্রুপের আব্দুল মজিদ লাল বর্ণ সঠিকভাবে চিনতে পারলেও তার স্ত্রী লাল বর্ণ সঠিকভাবে চিনতে পারে না। তার স্ত্রীর রক্ত গ্রুপ O-ve। তাদের প্রথম সন্তান বেঁচে থাকলেও দ্বিতীয় সন্তান গর্ভাবস্থায় মারা যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
যেসব অঙ্গ আকৃতিগত এবং কার্যগতভাবে একই প্রকার কিন্তু উৎপত্তিগতভাবে এবং গঠনগতভাবে বিভিন্ন সেসব অঙ্গকে সমবৃত্তি অঙ্গ বলে।
সংযোগকারী জীবাশ্মে দুটি গ্রুপের মধ্যবর্তী দশার বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। Archaeopteryx হলো এক ধরনের সরিসৃপ জাতীয় পাখির জীবাশ্ম যাতে পাখি ও সরিসৃপ উভয়ের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। যেমন- এদের দেহে পাখির ন্যায় ডানা, পালক ও চঞ থাকলেও এদের সরিসৃপের ন্যায় দাঁতযুক্ত চোয়াল, শুষ্ক আঁইশ ও ভারী কঙ্কাল রয়েছে। এজন্য Archaeopteryx-কে সংযোগকারী যোগসূত্র বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আব্দুল মজিদ স্বাভাবিক দৃষ্টি সম্পন্ন। তিনি লাল-সবুজ বর্ণ সঠিকভাবে চিনতে পারেন। কিন্তু তার স্ত্রী বর্ণান্ধ, তিনি লাল-সবুজ বর্ণ সঠিকভাবে চিনতে পারে না। নিচে জিনতত্ত্বের আলোকে আব্দুল মজিদের সন্তানদের লাল বর্ণ চিনতে না পারার সম্ভাবনা নির্ণয় করা হলো- .
ধরি, লাল-সবুজ বর্ণান্ধতার জন্য দায়ী প্রচ্ছন্ন জিন XC এবং স্বাভাবিক দৃষ্টির জন্য প্রকট অ্যালিল X+
সুতরাং আব্দুল মজিদ সাহেবের জিনোটাইপ= X+Y
এবং তার স্ত্রীর জিনোটাইপ=XCXC
এক্ষেত্রে তাদের সন্তানেরা হবে নিম্নরূপ-
সুতরাং, আব্দুল মজিদ সাহেব দম্পতিদের স্বাভাবিক দৃষ্টিসম্পন্ন কিন্তু বর্ণান্ধতার বাহক মেয়ে (X+XC) হওয়ার সম্ভাবনা ৫০% এবং বর্ণান্ধ ছেলে (XCY) হওয়ার সম্ভাবনা ৫০%। অর্থাৎ আব্দুল মজিদ সাহেবের সন্তানদের মধ্যে শতকরা ৫০% লাল-সবুজ বর্ণ চিনতে পারবে না।
উদ্দীপকের আব্দুল মজিদের রক্তের গ্রুপ A+ve এবং তার স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ O-ve। Rh+ বিশিষ্ট কোনো ব্যক্তির সাথে Rh- বিশিষ্ট কোনো মহিলার বিয়ে হলে Rh ফ্যাক্টর জনিত জটিলতা সৃষ্টি হয়। এই ধরনের জটিলতায় প্রথম সন্তান বেঁচে থাকলেও দ্বিতীয় সন্তান মারা যায় । নিচে এ বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো-
Rh ফ্যাক্টর গর্ভধারণের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বংশগতভাবে Rh+ বৈশিষ্ট্য Rh- বৈশিষ্ট্যের উপর প্রকট। একজন Rh- মহিলার সাথে একজন Rh+ পুরুষের বিয়ে হলে তাদের প্রথম সন্তান Rh+ হবে। প্রথমবার গর্ভধারণকালে Rh- অ্যান্টিবডি যথেষ্ট পরিমাণে উৎপাদিত না হওয়ায় শিশুর কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু দ্বিতীয় বা পরবর্তী সময়ে Rh+ সন্তান ধারনকালের পূর্বে উৎপাদিত মায়ের রক্তের Rh- অ্যান্টিবডি অমরার মাধ্যমে ভ্রূণে প্রবেশ করে এবং লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস করতে থাকে। এতে ভ্রূণ বা শিশুর মৃত্যু ঘটতে পারে। এ অবস্থায় শিশু জীবিত থাকলেও তার রক্তসল্পতা ও জন্ডিস দেখা দেয়। এই অবস্থাকে এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস বলা হয়।
সুতরাং বোঝা যায় যে, Rh ফ্যাক্টর জনিত জটিলতার কারণেই আব্দুল মজিদের প্রথম সন্তান বেঁচে থাকলেও দ্বিতীয় সন্তান মারা যায় ।