বাবা-মায়ের একমাত্র কন্যা সন্তান রিয়া তার দেহে ত্রুটিপূর্ণ লোহিত রক্তকোষ উৎপাদিত হওয়ায় সে রক্ত শূন্যতায় ভুগছে। অপরদিকে তার ছোট ভাই সামির হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় দম বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থার সৃষ্টি হয় এবং ঠোঁট নীল হয়ে যায়।
জিন: জীবের সব অদৃশ্য ও দৃশ্যমান লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী এককের নাম জিন।
প্রাকৃতিক নির্বাচন একটি বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া যা প্রজাতির মধ্যে অভিযোজন এবং পরিবর্তন ঘটায় যা তাদের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং টিকে থাকতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবেশের সাথে সবচেয়ে ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নেয়া জীব বেঁচে থাকে এবং তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়। এর ফলে একটি প্রজাতির মধ্যে উপযুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো স্থান পায় এবং ক্ষতিকর ও দুর্বল বৈশিষ্ট্যগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়। যা সামগ্রিকভাবে প্রজাতির সুস্থতা এবং পরিবেশের সাথে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
উদ্দীপকের রিয়ার রক্তশূন্যতাজনিত রোগটি হলো থ্যালাসেমিয়া। এ রোগটি বংশপরম্পরায় হয়ে থাকে। নিম্নে থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ ও প্রতিকার ব্যাখ্যা করা হলো-
থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি তার পূর্ববর্তী বংশধর থেকে অর্থাৎ মা-বাবা থেকে থ্যালাসেমিয়ার জিন পেয়ে থাকে। আবার আক্রান্ত ব্যক্তি তার পরবর্তী সন্তানসন্তুতিতে থ্যালাসেমিয়ার জিন বহন করে থাকে। যেহেতু জিনই হলো বংশগতির ধারক ও বাহক। তাই রিয়ার মা-বাবা দুইজনই বা একজন তাদের পূর্ববর্তী বংশধর থেকে থ্যালাসেমিয়ার জিন পেয়েছে যা পরবর্তীতে তাদের সন্তানের অর্থাৎ রিয়ার শরীরে থ্যালাসেমিয়া জিন প্রবেশের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
থ্যালাসেমিয়া রোগের প্রধান প্রতিকার হলো নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্ত সঞ্চালন। এছাড়াও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ঔষধ সেবন করতে হবে। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের লৌহসমৃদ্ধ ফল বা ঔষধ খাওয়া যাবে না কারণ তা শরীরে জমে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতিসাধন করে।
উদ্দীপকের উল্লিখিত সামির রোগটি হলো অ্যাজমা বা হাঁপানি। হাঁপানি বা অ্যাজমা সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা যায় না তবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:
অ্যাজমা সাধারণত রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়ার ফলে হয়ে থাকে। এটি ছোঁয়াচে নয়, জীবাণুবাহিত রোগও নয়। সাধারণত অ্যালার্জি সৃষ্টি করে এমন খাবার খেলে, বায়ুর সাথে ধোঁয়া, ধূলাবালি, ফুলের রেণু ইত্যাদি শ্বাস গ্রহণের সময় ফুসফুসে প্রবেশ করলে হাঁপানি হতে পারে। এছাড়াও বছরের বিশেষ ঋতুতে বা ঋতু পরিবর্তনের সময় এ রোগটি বেড়ে যায়। চিকিৎসায় এ রোগটি সম্পূর্ণ নিরাময় হয় না। তবে নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার ও ওষুধ গ্রহণ করার মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
