বাড়ির ছাদে পানির ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে হঠাৎ পা পিছলে পড়ে যায় দীপু। প্রচণ্ড আঘাতের কারণে সে তার একটি পা চিরদিনের জন্য হারিয়ে ফেলে এবং এতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। কিন্তু পরিবারের সকল সদস্য এবং প্রতিবেশীদের সার্বিক সহযোগিতায় সে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করে। তাছাড়া কলেজের সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় সে পড়াশোনা করতে থাকে। গত এইচএসসি পরীক্ষায় A+ পেয়ে সে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়।
প্রতাপ গোঁসাইদের ছোটো ছেলে।
সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত তার নিজের প্রয়োজনীয়তা প্রতাপকে বোঝানোর জন্য।
প্রতাপ যখন ছিপ ফেলে জলের দিকে চেয়ে থাকত তখন সুভা তার কাজে সাহায্য করতে চাইত। সে কাজের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে চাইত যে এ পৃথিবীতে সেও একজন প্রয়োজনীয় লোক। অথচ সুভা সেসব কিছুই করতে পারত না। আর এ কারণেই সে বিধাতার কাছে প্রার্থনা করত- যাতে অলৌকিক ক্ষমতাবলে কোনো একটি কাজ করে সে প্রতাপের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।
উদ্দীপকের দীপুর দুর্ঘটনাজনিত প্রতিবন্ধিত্বের দিকটির সঙ্গে 'সুভা' গল্পের সুভার জন্মগত প্রতিবন্ধিত্বের দিকটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
'সুভা' গল্পের সুভা জন্মগত বাক্-প্রতিবন্ধী এক কিশোরী। প্রতিবন্ধিত্বের কারণে মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করে। পাড়ার সাধারণ ছেলেমেয়েরা সুভার সাথে মেশে না।
উদ্দীপকের দীপু দুর্ঘটনাজনিত কারণে প্রতিবন্ধিত্বের শিকার এক কিশোর। ছাদে পানির টাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে সে তার পা হারায়। দীপুর পরিবার, প্রতিবেশী, সহপাঠী ও শিক্ষকদের আচরণও তার অনুকূলে হওয়ায় সে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পেরেছে। 'সুভা' গল্পের সুভার জন্মগত বাক্-প্রতিবন্ধিতার দিকটির সাথে দীপুর দুর্ঘটনাজনিত প্রতিবন্ধিতার দিকটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকের দীপু অনুকূল পরিবেশ পেলেও 'সুভা' গল্পের সুভার পরিবেশ প্রতিকূল হওয়ায় "সুভা যদি দীপুর মতো পরিবেশ পেত তাহলে তার জীবন এমন বিষাদগ্রস্ত হয়ে উঠত না”- মন্তব্যটি যথার্থ।
'সুভা' গল্পটি বাক্-প্রতিবন্ধী কিশোরী সুভার প্রতি লেখকের হৃদয়-নিংড়ানো ভালোবাসার জন্য অমর হয়ে আছে। প্রতিবন্ধিত্বের কারণে সুভার মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করে, সাধারণ ছেলে-মেয়েরা তার সাথে খেলে না। তাই সুভা নিজেকে সবার দিক থেকে আড়াল করে রাখে।
উদ্দীপকের দীপু বাড়ির ছাদের পানির ট্যাঙ্ক পরিষ্কার করতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গিয়ে একটি পা হারায়। এতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও প্রতিবেশীদের সহযোগিতা ও পরিবারের সদস্যদের উৎসাহে সে স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করে। কলেজের সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় সে এইচএসসি পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করে।
উদ্দীপকের দীপুর সাফলের পেছনে তার পরিবার, প্রতিবেশী, সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। অন্যদিকে 'সুভা' গল্পের সুভা সকলের কাছে অবহেলিত। বাবা তাকে ভালোবাসলেও মা তাকে গর্ভের কলঙ্ক মনে করে। সমবয়সি ছেলে-মেয়েরা তাকে ভয় করে, তারা তার সাথে মেশে না। প্রতিবেশীরা তার সামনেই তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে। তাই সে নিজেকে সবার আড়ালে রাখে। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, "সুভা যদি দীপুর মতো অনুকূল পরিবেশ পেত তাহলে তার জীবন এমন বিষাদগ্রস্ত হয়ে উঠত না”- মন্তব্যটি যথার্থ।
