| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বাঙালি জাতি হাজার…’ সিলেট এমসি কলেজ ২০২৬ – আমি কিংবদন্তির কথা বলছি, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বাঙালি জাতি হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। সূর্যসেন, ক্ষুদিরাম থেকে সালাম বরকত রফিক জব্বারসহ হাজারো মুক্তিপিয়াসী সূর্যসন্তানদের আত্মত্যাগে উদ্ভাসিত এ পুণ্যভূমি। হৃদয়ের হরিৎ উপত্যকায় ফোটা শত কমলের স্নিগ্ধ হাসিতে যার অধিষ্ঠান সেই তো আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি। এই মাতৃভূমির সম্মান আর গৌরব সমুন্নত রাখতে তার সন্তানেরা সদ্য প্রস্তুত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৩
'কিংবদন্তি' শব্দের অর্থ জনশ্রুতি।
'বিচলিত স্নেহ' কথাটি দ্বারা আপনজনের স্নেহ-মমতা ও উৎকণ্ঠার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় কবি তাঁর পূর্বপুরুষের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা বলেছেন। তিনি বাঙালি জাতির সংগ্রামের এবং জাতিগত ঐতিহ্যের দিক সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। এসবের মাঝে কবিতায় আপনজনের ভালোবাসার বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। এ দেশের মুক্তিকামী মানুষের জন্য তাদের আপনজনের উৎকণ্ঠা ও ভালোবাসায় এক সত্তা তৈরি হয়েছিল। কবি কবিতায় এই সত্তা ও ভালোবাসাকে 'বিচলিত স্নেহ' নামে আখ্যায়িত করেছেন। প্রশ্নোক্ত উক্তিতে স্বজনদের প্রতি এই উৎকণ্ঠিত ভালোবাসার কথাই বলা হয়েছে।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার সাথে ইতিহাস ও ঐতিহ্যচেতনার দিক থেকে উদ্দীপকের সাদৃশ্য বিদ্যমান।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় ধ্বনিত হয়েছে ঐতিহ্য সচেতন শিকড়সন্ধানী মানুষের সর্বাঙ্গীণ মুক্তির দৃপ্ত ঘোষণা। এ কবিতার প্রেক্ষাপটে আছে বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের ইতিহাস, এই জাতির সংগ্রাম, বিজয় ও মানবিক উদ্ভাসনের অনিন্দ্য অনুষঙ্গসমূহ।
উদ্দীপকে বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে তুলে ধরা হয়েছে। ক্ষুদিরাম বসু থেকে রফিক-জব্বার- এদেশের সূর্যসন্তানরা প্রাণের বিনিময়ে দেশপ্রেমের প্রমাণ রেখে গেছেন। মাতৃভূমির সম্মান রক্ষা করতে তারা সর্বদা প্রস্তুত। 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায়ও কবির পূর্বপুরুষদের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে দেশপ্রেমের বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি অকুণ্ঠভাবে প্রকাশ করেছেন- তার পূর্বপুরুষদের পিঠজুড়ে ছিল অত্যাচারিত হওয়ার চিহ্ন। উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতা এই ইতিহাস ও ঐতিহ্যচেতনার দিকটির প্রকাশ পেয়েছেন।
উদ্দীপকে 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতার মতো বাঙালি জাতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের দৃষ্টান্ত ফুটে ওঠায় "উদ্দীপক ও 'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতাটি বাঙালির গৌরবকে নির্দেশ করে"-মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।
'আমি কিংবদন্তির কথা বলছি' কবিতায় উচ্চারিত হয়েছে বাঙালি সংস্কৃতির হাজার বছরের সংগ্রামী ইতিহাস। কবির বর্ণিত এ ইতিহাস মাটির কাছাকাছি সংগ্রামী মানুষের টিকে থাকার ইতিহাস। শত অত্যাচারের চিহ্ন বাঙালি তার অস্তিত্বে বহন করছে।
উদ্দীপকে বাঙালি জাতির সংগ্রামী ইতিহাস বর্ণিত হয়েছে। মাতৃভূমির গৌরব সমুন্নত রাখতে যুগে যুগে বাঙালি রক্ত ঝরিয়েছে। ক্ষুদিরাম-সূর্যসেন থেকে শুরু করে সালাম-বরকত- এদেশের সূর্যসন্তানেরা প্রাণ দিয়ে মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার প্রমাণ রেখে গেছেন। আলোচ্য কবিতায়ও কবি তার পূর্বপুরুষের সংগ্রামী ইতিহাস তুলে ধরেছেন। তিনি প্রকাশ করেছেন বাংলার অনার্য ভূমিজীবী কৃতদাস পূর্বপুরুষের লড়াই করে টিকে থাকার গল্প।
উদ্দীপকে কবিতাংশে বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ক্ষুদিরাম-সূর্যসেনের সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন- সব আন্দোলনেই রয়েছে মাতৃভূমির সম্মান রক্ষায় সূর্যসন্তানদের আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত। আলোচ্য কবিতায়ও কবি বাঙালির হার-না-মানা সংগ্রামকে গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি জানেন- মুক্তির পূর্বশর্ত যুদ্ধ। আর এ যুদ্ধে পরিবার থেকে দূরে যেতে বাঙালি জাতি এ ত্যাগ স্বীকার করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাই উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আলোচ্য মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত।