বাংলা আমার আমি বাংলার
বাংলা আমার জন্মভূমি
গঙ্গা ও যমুনা পদ্মা ও মেঘনা
বহিছে যাহার চরণ চুমি!
বাংলার তরু বাংলার ফল
বাংলার পুষ্প বাংলার কমল
মাঠে ঘাঠে পথে তটিনী সৈকতে
যে দেখে সে আপনহারা।
আহসান হাবীবের কবিতায় গভীর জীবনবোধ ও আশাবাদের দিকটি বিশিষ্ট ব্যঞ্জনা দান করেছে।
'সর্বত্র থাকা' বলতে কবি সমগ্র বাংলা ভূখণ্ডে তাঁর অবস্থানকে বুঝিয়েছেন।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার বাংলার সন্তান, বাংলা ভূখণ্ডের সবুজ শ্যামলিমায় কবি আহসান হাবীবের জন্ম। এখানে তিনি শৈশব, কৈশোর আর যৌবন কাটিয়েছেন। এ মাটিতে কবির সত্তা মিশে আছে। প্রকৃতির গাছপালা কবিকে চেনে, মাছ শিকারি মাছরাঙা কবিকে চেনে। কদম আলী আর জমিলার মা চেনে। 'সর্বত্র থাকা' বলতে কবি কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা গ্রামকে বোঝাননি; বরং সমগ্র বাংলাকে বুঝিয়েছেন। কারণ, তিনি বাংলার সন্তান, তাই সমগ্র বাংলাই তাঁর অধিকারে।
এ জন্মভূমির সাথে মানুষের সম্পৃক্ততার দিক থেকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতা ও উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর অস্তিত্বের সম্পর্ক দেখিয়েছেন। শুধু চারপাশের প্রকৃতির রূপসৌন্দর্য নয়, একে আপন সত্তায় ধারণ করেছেন তিনি। এই আন্তরিক অনুভবই এ কবিতার প্রতিপাদ্য বিষয়।
উদ্দীপকের কবিও জন্মভূমির সঙ্গে নিজের নিবিড় সম্পৃক্ততার দিকটি সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। স্বদেশের গাছপালা, ফুল-ফল, পথ-মাঠ-ঘাট, নদ-নদী সবই যেন কবির অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে। আলোচ্য কবিতায় কবিও জন্মভূমির আসমান, জমিনের ফুল, জোনাকি, পাখি মাছরাঙাকে নিজের সত্তায় ধারণ করেছেন। এটিই তাঁর অস্তিত্ব। এ দিক থেকে আলোচ্য কবিতার সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার জনপদের অধিবাসীদের সাথে সম্পৃক্ততার দিকটি প্রকাশ না পাওয়ায়, উদ্দীপকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার মূলভাবকে পরিপূর্ণভাবে ধারণ করেনি- মন্তব্যটি সমর্থনযোগ্য।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি গ্রামীণ জনপদের সাথে তাঁর অস্তিত্বের সম্পর্কটি দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করেছেন। জনপদের প্রকৃতি ও মানব সমাজের সাথে তার পরিচয় রয়েছে। তিনি কদম আলী ও জমিলার মায়ের মতো মানুষের চিরচেনা স্বজন।
উদ্দীপকের কবি প্রকৃতির মাঝে নিজের অস্তিত্বকে খুঁজে পেয়েছেন। এদেশের ফুল-ফল, নদী-নালা, মাঠ-ঘাট সবকিছু তাঁর অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে। আলোচ্য কবিতার কবিও আসমান, জমিনের ফুল, জোনাকি পাখিকে তাঁর অস্তিত্বের অংশ বলে মনে করেন। এ দিক থেকে উভয়েই সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা উভয় ক্ষেত্রেই প্রকৃতির সঙ্গে কবির অস্তিত্বের সম্পর্ক প্রকাশ পেলেও আলোচ্য কবিতার ভাব আরও বিস্তৃত। কবি এ জনপদের মানুষের সাথেও নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। জমিলার মা কিংবা কদম আলীর মতো মানুষ কবির চিরচেনা স্বজন। কবি নিঃসংশয়চিত্তে প্রকাশ করেছেন, লাঙল ও নৌকার বৈঠায় তাঁর হাতের স্পর্শ, মাটিতে লেগে আছে তাঁর শরীরে ঘ্রাণ। এই দিকগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত থাকায়, উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার মূলভাব পরিপূর্ণভাবে ধারণ করেনি।
