| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বাংলা আমারআমি বাংলারবাংলা…’ a – পদ্মা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

| বাংলা আমার | আমি বাংলার |
| বাংলা আমার | জন্মভূমি |
| গঙ্গা ও যমুনা | পদ্মা ও মেঘনা |
| বহিছে যাহার চরণ চুমি। |
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৭
১৯৪৪ সালে 'সাত সাগরের মাঝি' প্রকাশিত হয়।
➤ আলোচ্য চরণ দ্বারা পদ্মা নদীর উন্মত্ত ও ভয়াল রূপকে বোঝানো হয়েছে।
➤ পদ্মার চলার গতি উদ্ধত ও উদ্দাম। হিংস্র অজগরের মতো তীব্র তার প্রবাহ। সে অন্ধ রোষে ধাবমান। তার স্রোত বিক্ষুব্দ। তার চলার গতিতে উপড়ে যায় বৃক্ষ, ভেঙে যায় দুকূল। ভয়ংকর ঘূর্ণিকে সঙ্গে নিয়ে সে বয়ে চলে সমুদ্রের দিকে। সমুদ্রের স্বাদে তৃপ্ত করে নিজেকে। এমন অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ পদ্মার বুকে ভেসে চলতে চলতে দুরন্ত হার্মাদের (পর্তুগিজ জলদস্যু) বুকও কেঁপে উঠেছে। যারা বাংলায় অবাধে লুণ্ঠন, অপহরণ ও নির্বিচারে নারীদের ওপর অত্যাচার চালাত তারাও পদ্মার উন্মত্ত ও ভয়াল রূপের কাছে কুণ্ঠিত হয়েছে।
সারকথা: পদ্মার প্রকৃত রূপ এমনই ভয়ংকর, যা দেখে জলদস্যুরাও ভয় পেয়ে যেত।
➤ উদ্দীপকটি নদীর বন্দনা করার দিক দিয়ে 'পদ্মা' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ বাংলার মানুষের সাহস ও সংগ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য ছোট-বড় নদী। এই নদীগুলো বাংলার মানুষকে বাঁচতে শেখায়। তাই নদীর সঙ্গে এদেশের মানুষের গভীর মিতালি।
➤উদ্দীপকে নদীমাতৃক বাংলার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এদেশে গঙ্গা, যমুনা, পদ্মা ও মেঘনার মতো শত শত নদী চিরন্তন রূপ নিয়ে বহমান। তাই উদ্দীপকের কবি বাংলার এই নদীগুলোর বন্দনা করেছেন। 'পদ্মা' কবিতায়ও কবি ফররুখ আহমদ, পদ্মার বিভিন্ন রূপ ও বৈশিষ্ট্যের মধ্য দিয়ে পদ্মা নদীর বন্দনা করেছেন। নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও প্রকৃতির ওপর নদীর এক বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। কবি পদ্মার এই প্রভাবের কথাই আলোচ্য কবিতায় বিভিন্ন উপমা ও চিত্রকল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। মূলত উভয় জায়গায় নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীর স্তুতিই প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি নদীর বন্দনা করার দিক দিয়ে 'পদ্মা' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: উদ্দীপকে বাংলাদেশের নদীর বন্দনা করা হয়েছে। 'পদ্মা' কবিতায়ও পদ্মা নদীর বন্দনার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
➤ না, উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না।
➤ বাংলার মানুষের জীবন ও জীবিকা অনেকাংশে জড়িয়ে রয়েছে নদীর সঙ্গে। তাই নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে মানুষ টিকে থাকে। মানুষের এই জীবনসংগ্রাম আবর্তিত হয় নদীকে কেন্দ্র করে।
➤ উদ্দীপকে নদীমাতৃক বাংলার বন্দনা করা হয়েছে। কেননা এদেশের বুকের ওপর দিয়ে অবিরাম গতিতে ছুটে চলেছে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার মতো অনেক নদী। সেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার মানুষের জীবন ও জীবিকা। 'পদ্মা' কবিতায়ও কবি বাংলার গুরুত্বপূর্ণ নদী পদ্মার বিশেষ বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। কবি পদ্মা নদীর বন্দনা করেছেন তার বৈশিষ্ট্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে। বন্দনা করার দিক থেকে উদ্দীপকটির সঙ্গে 'পদ্মা' কবিতার সাদৃশ্য থাকলেও আলোচ্য কবিতার বিষয়বস্তু ব্যাপক ও বিস্তৃত। কারণ কবি এই কবিতার মধ্য দিয়ে সুতীব্র পদ্মার গতিময়তা, নতুন জীবন গড়ার সম্ভাবনা, ধ্বংসাত্মক রূপ, প্রদীপ্ত স্রোতধারা প্রভৃতি বিষয় তুলে এনেছেন। এসব বিষয় উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।
➤ উদ্দীপক ও 'পদ্মা' কবিতা নদী বন্দনার দিক দিয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ। কিন্তু আলোচ্য কবিতায় কবি পদ্মার যে বৈচিত্র্যময় রূপ তুলে। ধরেছেন তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'পদ্মা' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করে না।
সারকথা: উদ্দীপকের কবিতাংশে 'পদ্মা' কবিতার একটি মাত্র বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। উভয় কবি নদীর বন্দনা করেছেন। কিন্তু 'পদ্মা' কবিতায় প্রকাশিত পদ্মার বৈচিত্র্যময় রূপ উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি আলোচ্য কবিতার সম্পূর্ণ। ভাব ধারণ করে না।