| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ।…’ a – ঋতু বর্ণনা, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। ছয়টি ঋতুরই পরিপূর্ণ প্রকাশ বাংলায় পাওয়া যায়। গ্রীষ্মের দাবদাহের পর প্রকৃতিতে স্নিগ্ধতা নিয়ে হাজির হয় বর্ষা। বর্ষার ঝুম বৃষ্টির পর নির্মল আকাশ নিয়ে কাশফুলের সমারোহে প্রকৃতিতে আসে শরৎকাল। শরতের পর আসে হেমন্ত, তখন প্রকৃতি আবার সাজে ভিন্ন রূপে। এরপর রুক্ষতা নিয়ে আসে শীত। তখন প্রকৃতিতে থাকে না সজীবতা। এরপর সব রুক্ষতাকে বিদায় করে আসে বসন্ত। ফুলে, রূপে, রসে গন্ধে চারদিক ম ম করে। তাই তো বসন্ত হলো ঋতুরাজ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
'কস্তুরী' শব্দের অর্থ মৃগনাভি।
➤ "নিদাঘ সময়ে অতি প্রচন্ড তপন।"- চরণটির মাধ্যমে কবি গ্রীষ্মকালের সূর্যের প্রচন্ড তাপের কথা বুঝিয়েছেন।
➤ বসন্তের নির্মল সৌন্দর্যের পরই প্রকৃতিতে গ্রীষ্ম ঋতু আসে। এ ঋতুতে প্রচন্ড গরম অনুভূত হয়। কেননা এ সময় সূর্য প্রচন্ড শক্তি নিয়ে তাপ বিকিরণ করে। এর তাপ এতটাই প্রখর যে আশপাশে ছায়ার তেমন দেখাই পাওয়া যায় না। মনে হয় যেন সূর্যের খরতাপে ছায়া পায়ের নিচে লুকিয়ে থাকে। তাই আলোচ্য কথাটির মাধ্যমে কবি গ্রীষ্মকালের প্রচন্ড খরতাপকেই বুঝিয়েছেন।
সারকথা: প্রশ্নোক্ত চরণটির মাধ্যমে কবি গ্রীষ্মকালের সূর্যের প্রচন্ড তাপের কথা বুঝিয়েছেন।
➤ ষড়ঋতুর প্রকৃতি বর্ণনার দিক থেকে উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ বাংলাদেশের প্রকৃতিতে ছয়টি ঋতু পালাক্রমে আসে। একেক ঋতুতে প্রকৃতি একেক রকম বৈশিষ্ট্য ধারণ করে। ঋতুর এমন বৈচিত্র্য অন্যান্য স্থানের চেয়ে বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। একেক ঋতু মানবমনে একেক রকম প্রভাব ফেলে।
➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি ষড়ঋতুর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন। একেক ঋতুতে প্রকৃতি যে একেক রকম রূপ ধারণ করে তা করি খুব ভালোভাবে অবলোকন করেছেন। গ্রীষ্মে প্রচণ্ড রৌদ্রতাপ, বর্ষার মেঘ গর্জন, শরতের নির্মল আকাশ, হেমন্তের পুষ্পের বাহার, শীতের প্রকোপ, বসন্তে প্রকৃতির নবসাজ- এভাবে ছয়টি ঋতুর প্রকৃতির সুনিপুণ চিত্র তিনি কবিতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। উদ্দীপকেও ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যের কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন ঋতুতে প্রকৃতির যে বিভিন্ন রূপ তার একটা ধারণা উদ্দীপকে দেওয়া হয়েছে। মূলত এভাবেই প্রকৃতির ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যের দিক থেকে উদ্দীপক ও 'ঋতু বর্ণন' কবিতা সাদৃশ্যপূর্ণ।
সারকথা: উদ্দীপকে যেমন ছয়টি ঋতুর প্রকৃতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে 'ঋতু বর্ণন' কবিতায়ও ছয়টি ঋতুর প্রকৃতির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। এদিক থেকেই উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা সাদৃশ্যপূর্ণ।
➤ না, উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেনি।
➤ ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানবমনেরও পরিবর্তন হয়। কেননা প্রকৃতির সঙ্গে মানবমনের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। প্রকৃতি মানুষের মন ও শরীরে দারুণভাবে প্রভাব বিস্তার করে।
➤ 'ঋতু বর্ণন' কবিতায় কবি প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্যের সঙ্গে মানবমনের সম্পর্ক ও প্রভাব তুলে ধরেছেন। ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য বাংলার নিসর্গ রূপকে যে সমৃদ্ধ করে তা 'ঋতু বর্ণন' কবিতা থেকে বোঝা যায়। তবে এর পাশাপাশি ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্কো মানবমনে কী ধরনের পরিবর্তন হয় সেটি সম্পর্কেও সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। বসন্ত ঋতুতে মানবমন প্রেমে ব্যাকুল থাকে, আবার গ্রীষ্মকালে দাম্পত্য জীবন কেমন হয়, অন্যান্য ঋতুতেও দাম্পত্যে কেমন পরিবর্তন আসে তার রূপ কবি আলোচা কবিতায় উন্মোচন করেছেন। অথচ উদ্দীপকে শুধু ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে প্রকৃতির পরিবর্তনের বিষয় ফুটে উঠেছে।
➤ উদ্দীপকে ষড়ঋতুতে প্রকৃতির কীরূপ বৈশিষ্ট্য হয় সে সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। কিন্তু কবিতায় প্রকৃতির বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি মানবমনের সম্পর্কের দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে। এই বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকটি 'ঋতু বর্ণন' কবিতার সমগ্র ভাব ধারণ করেনি।
সারকথা: উদ্দীপকে কেবল ঋতুর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের বিষয়টি আছে মানবমনের বৈচিত্র্যের বিষয়টি নেই। কিন্তু 'ঋতু বর্ণন: কবিতায় প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের পাশাপাশি মানবমনের বৈচিত্র্যের বর বিষয় আছে। ও কারণেই বলা হয়েছে উদ্দীপকটি কবিতায় সমগ্র ভাব ধারণ করেনি।