| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বাংলাদেশে বিয়ের ক্ষেত্রে…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

বাংলাদেশে বিয়ের ক্ষেত্রে বংশ মর্যাদা, সম্পদ, সৌন্দর্য ইত্যাদি বিবেচ্য বিষয় হলেও রক্তগ্রুপ পরীক্ষার প্রচলন নেই। তাই বিয়ের পর AB পজেটিভ রক্ত গ্রুপধারী আসাদ জানতে পারলো, তার স্ত্রী তানিয়ার রক্ত গ্রুপ O নেগেটিভ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
সমসংস্থ ক্রোমোসোম জোড়ের নির্দিষ্ট লোকাসে অবস্থানকারী নির্দিষ্ট জিন জোড়ার একটি অপরটির অ্যালিল।
একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য অনেকগুলো জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে তাকে পলিজেনিক জিন বলে। এ পলিজেনিক জিনের বংশানুক্রমিক সঞ্চারণকে পলিজেনিক ইনহেরিট্যান্স বলে। পলিজেনিক ইনহেরিট্যান্স ফিনোটাইপের ক্রমাগত ভিন্নতা প্রদান করে। মানুষের ত্বকের রং, হৃদরোগ, কতিপয় ক্যান্সার, মানসিক অসুস্থতা ইত্যাদি পলিজেনিক জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
উদ্দীপকে আসাদের রক্তের গ্রুপ AB পজেটিভ ও তানিয়ার রক্তের গ্রুপ ০ নেগেটিভ। নিচে তাদের সন্তানদের সম্ভাব্য রক্তের গ্রুপ বর্ণনা করা হলো-
ABO সিস্টেমে রক্তের গ্রুপ নির্ধারণে দায়ী অ্যালিল তিনটি হলো: , এবং । এদের মধ্যে অ্যালিল লোহিত রক্তকণিকায় অ্যান্টিজেন-A সৃষ্টি করে, অ্যালিল সৃষ্টি করে অ্যান্টিজেন-B এবং অ্যালিল কোনো অ্যান্টিজেন সৃষ্টি করে না। ও উভয়ই এর উপর প্রকট এবং ও পরস্পরের উপর সমপ্রকট (Codominant)। ফলে AB গ্রুপের জিনোটাইপ হবে এবং O গ্রুপের জিনোটাইপ হবে । আসাদ ও তানিয়া দম্পতির সন্তানদের সম্ভাব্য রক্তের গ্রুপ নিচে চেকারবোর্ড এ দেখানো হলো-
Rh ফ্যাক্টর (+ve বা -ve) ভিন্ন জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। বাবার রক্তের গ্রুপ AB পজেটিভ হলে তার জিনোটাইপ হবে বা । মায়ের রক্তের গ্রুপ O নেগেটিভ হলে তার জিনোটাইপ হবে । এ দম্পতির সন্তানের রক্তের গ্রুপ Rh ফ্যাক্টর অনুযায়ী অথবা হতে পারে। কারণ বাবার জিনোটাইপ এবং মায়ের জিনোটাইপ হলে সন্তানের মধ্যে পজেটিভ ও নেগেটিভদু'রকম Rh সম্ভাবনা থাকে।
সুতরাং, আসাদ ও তানিয়া দম্পতির সন্তানদের সম্ভাব্য রক্তের গ্রুপগুলো হচ্ছে এবং ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দম্পতির ক্ষেত্রে, স্বামীর রক্তের গ্রুপ (ve) এবং স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ (ve)। এই দম্পতির সন্তানের Rh ফ্যাক্টর সম্পর্কিত গর্ভধারণজনিত জটিলতা দেখা দিতে পারে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
Rh নেগেটিভ () রক্তগ্রুপ বিশিষ্ট মহিলার সাথে Rh পজেটিভ () রক্তগ্রুপের কোনো পুরুষের বিয়ে হলে তাদের সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে Rh ফ্যাক্টর অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। বংশগতভাবে Rh পজেটিভ () অবস্থা Rh নেগেটিভ () অবস্থার উপর প্রকট হওয়ায় এ দম্পতির প্রথম সন্তান Rh পজেটিভ() হবে। এ শিশু মাতৃগর্ভে থাকাকালীন সময়ে মায়ের রক্তে Rh অ্যান্টিবডি সৃষ্টি হবে। প্রথমবার গর্ভধারণকালে Rh অ্যান্টিবডি যথেষ্ট পরিমাণে উৎপাদিত না হওয়ায় শিশুর কোনো ক্ষতি হয় না এবং এ শিশু জীবিত থাকে। কিন্তু দ্বিতীয় বা পরবর্তী সময়ে সন্তান ধারণকালে পূর্বে উৎপাদিত মায়ের রক্তের Rh অ্যান্টিবডি অমরার মাধ্যমে ভ্রূণে প্রবেশ করে এবং ভূণের লোহিত রক্তকণিকাগুলো ধ্বংস করতে থাকে। একে মেডিকেল টার্মে Rh incompatibility বলে। এতে ভ্রূণের বা সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটে। এ অবস্থাকে এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফিটালিস বলে।