| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বাংলাদেশে একসময় ইংরেজরা…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বাংলাদেশে একসময় ইংরেজরা চাষিদের দিয়ে জোর করে নীলচাষ করাত। নীলচাষে বাধ্য হওয়ার ফলে চাষিরা তাদের প্রয়োজনীয় ফসল ফলাতে পারত না। অত্যাচারী ইংরেজদের জোর করে নীলচাষ করানোর বিরুদ্ধে ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কৃষকরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ধীরে ধীরে বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে নীল বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
সিরাজউদ্দৌলার নানার নাম আলিবর্দি খাঁ।
ষড়যন্ত্রকারীরা ক্ষমতা নিজেদের হাতে কুক্ষিগত রাখার জন্য শওকতজঙ্গকে নবাব হিসেবে চেয়েছিল।
ঘসেটি বেগম, উমিচাঁদ, রাজবল্লভ, জগৎশেঠ ও রায়দুর্লভশওকতজঙ্গকে নবাব করার জন্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। কেননা, শওকতজঙ্গ ছিল নেশাগ্রস্ত ও অকর্মণ্য। সে সারাদিন ভাঙের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকত। তাছাড়া তাকে নাচনেওয়ালিদের নিয়ে পড়ে থাকতেও দেখা যেত। এমতাবস্থায় শওকতজঙ্গ নবাব হলে রাজ্যের আসল ক্ষমতা থাকত ষড়যন্ত্রকারী ও দুর্নীতিবাজ সভাসদদের হাতে। তাই কৌশলে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখতেই যড়যন্ত্রকারীরা শওকতজঙ্গকে নবাব করতে চেয়েছিল।
উদ্দীপকের ইংরেজদের আচরণ 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ইংরেজদের কর্তৃক লবণচাষিদের ওপর অত্যাচারের ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে এদেশের সাধারণ মানুষের ওপর ইংরেজ বণিকদের অন্যায়-অত্যাচার ও শোষণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, সুযোগ পেলেই তারা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালাত। লবণচাষিরা ছিল তাদের অন্যতম।
উদ্দীপকে নীল চাষের জন্য চাষিদের ওপর ইংরেজদের অন্যায়-অত্যাচারের দিকটিকে তুলে ধরা হয়েছে। তাদের অত্যাচারের ভয়ে সেসময় ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও চাষিরা নীল চাষে বাধ্য হতো। একইভাবে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকেও নাট্যকার এদেশের সাধারণ মানুষের ওপর ইংরেজ বণিকদের অন্যায়-অত্যাচার ও শোষণের চিত্র তুলে ধরেছেন। সেখানে কম দামে লবণ বিক্রি করেনি বলে ইংরেজরা এক লবণচাষি ও. তার স্ত্রীর ওপর অকথ্য নির্যাতন চালায়। সংগত কারণেই উদ্দীপকের ইংরেজদের আচরণ আলোচ্য নাটকের ইংরেজদের । কর্তৃক লবণচাষিদের ওপর অত্যাচারের ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়।
কেবল ইংরেজদের অন্যায়-অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে ধরায় "উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের খন্ডাংশের প্রতিনিধিত্ব কবে"-মন্তব্যটি যথার্থ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মূল সুর হলো দেশপ্রেম। এ নাটকের পুরোভাগজুড়ে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ও ইংরেজদের আগ্রাসনের বিপরীতে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও তাঁর অনুগত সেনাদের অপরিসীম আত্মত্যাগ ও প্রাণপণ লড়াইয়ের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্দীপকে নীলচাষিদের ওপর দখলদার ইংরেজদের অন্যায়-অত্যাচার ও শোষণের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তাদের অত্যাচার-নির্যাতনের ভয়ে এদেশের সাধারণ চাষিরা নীল চাষে বাধ্য হতো। শুধু তাই নয়, নীল চাষের কারণে চাষিরা তাদের প্রয়োজনীয় ফসল ফলাতে পারত না। এভাবে শোষিত ও নির্যাতিত হতে হতে একসময় তারা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে এবং ১৮৫৯ সালে সংঘটিত হওয়া সেই কৃষক বিদ্রোহ ধীরে ধীরে বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে শোষিত-নির্যাতিত হওয়ার চেয়ে নবাবের করুণ পরিণতি ও দেশপ্রেমের স্বরূপ প্রকটিত হয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে বাংলার স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার বীরোচিত ভূমিকাকে তুলে ধরা হয়েছে। তা সত্ত্বেও নিজের প্রধান সেনাপতি মিরজাফর ও সভাসদদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে পলাশির যুদ্ধে তিনি পরাজিত হন। এছাড়াও নাটকটিতে নবাবের বিরুদ্ধে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, বিদেশি শক্তির অপতৎপরতা, তৎকালীন সমাজচিত্রসহ নানা বিষয় ফুটে উঠেছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। সেখানে কেবল এ নাটকে উল্লিখিত এদেশের সাধারণ মানুষের ওপর ইংরেজদের অন্যায়-অত্যাচারের প্রসঙ্গই এসেছে, অন্যান্য বিষয় নয়। এ বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।