| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বাংলাদেশে সংক্রামক রোগের…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৯ – জীবপ্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

বাংলাদেশে সংক্রামক রোগের তুলনায় ডায়াবেটিসের প্রকোপ বেশি। তবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ প্রাপ্ত ইনসুলিন ডায়াবেটিসে সৃষ্ট জটিলতা অনেকটা কমায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১১
উদ্ভিদের শীর্ষমুকুলের অগ্রভাগের টিস্যুকে মেরিস্টেম বলে।
mRNA থেকে প্রোটিন তৈরির প্রাক্রিয়া হলো ট্রান্সলেশন । DNA এর ভাষাকে mRNA এর মাধ্যমে প্রোটিনের ভাষায় অনুবাদ বা রুপান্তর করাকে ট্রান্সলেশন বলে।ট্রান্সলেশন রাইবোসোমে ঘটে।ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়ায় mRNA, tRNA, বিভিন্ন প্রকার অ্যামাইনো এসিড, এনজাইম ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকটি ইনসুলিন তৈরির প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করছে।
ইনসুলিন ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় এবং জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে উৎপাদন করা হয়। এর ধাপসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো-
১) প্রথমে মানুষের অগ্ন্যাশয় থেকে আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স( Ilets of langerhans) কোষ সংগ্রহ করা হয় ।
২) এরপরে মানুষের অস্ত্র থেকে E. coli ব্যাকটেরিয়াম সংগ্রহ করা হয় ।
৩) রেস্ট্রিকশন এনজাইমের সাহায্যে ইনসুলিন জিন এর মাপে প্লাসমিডের নির্দিষ্ট অংশ কর্তন করা হয় ।
৪) লাইগেজ এনজাইমের সাহায্যে ব্যাকটেরিয়ামের প্লাসমিড DNA ও মানুষের ইনসুলিন উৎপাদনকারী জিনের DNA জোড়া লাগানো হয় ।
৫) ট্রান্সফরমেশন প্রক্রিয়ায় E. coli ব্যাকটেরিয়ামের ভেতর রিকম্বিনেন্ট DNA প্রবেশ করানো হয় ।
৬) ফার্মেন্টেশন ট্যাংক থেকে রিকম্বিনেন্ট DNA ধারী ব্যাকটেরিয়াম বংশবৃদ্ধি করে ও তার দেহে ইনসুলিন উৎপাদনের জন্য দায়ী জিন থাকায় ইনসুলিন উৎপাদন করে ।এরপরে মানব ইনসুলিন রোগীর দেহে প্রবেশ করানো হয় ।
এভাবেই ডায়াবেটিস রোগের ওষুধ ইনসুলিন তৈরি করা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রযুক্তিটি হলো জিন প্রোকৌশল বা recombinant DNA প্রযুক্তি।
রোগ প্রতিরোধী ফসলের জাত উদ্ভাবনে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি বর্তমানে কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে।অধিক ফসল উৎপাদন এবং গুণগত মানের উন্নয়ন ঘটিয়ে এ প্রযুক্তি বিশেষ সফলতা আনতে পারে। কৃষিক্ষেত্রে রিকম্বিনেন্ট DNA এর সফলতা-
১)Bacillus thuringiensis নামক ব্যাকটেরিয়া থেকে একটি জিন যোগ করার মাধ্যমে ট্রান্সজেনিক তুলা গাছ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়াও তামাক, টমেটো, পেঁপে, ভূট্টা, রাই, সূর্যমুখী, তুলা, নাশপাতি, গম, আঙ্গুর ইত্যাদি ট্রান্সজেনিক উদ্ভিদ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
২) আগাছা নিধনকারী পদার্থ সহনশীল উদ্ভিদ তৈরি করা হয়েছে।
৩)রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধমে সূর্যমুখীর সালফার তৈরি কারী জিন সমৃদ্ধ ক্লোভার ঘাস উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছে।
৪) রিকম্বিনেন্ট DNA এর মাধ্যমে ভিটামিন A সমৃদ্ধ সুপার রাইস বা গোল্ডেন রাইস চাষ শুরু হয়েছে।
৫)ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও নানা ধরনের কীট-পতঙ্গ প্রতিরোধক্ষম জাত উদ্ভাবনে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির ফলে সাফল্য অর্জিত হয়েছে। পেঁপের রিংস্পট প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে।
৬)বায়বীয় নাইট্রোজেন সংবন্ধনকারী ব্যাকটেরিয়া হতে 'নিফ জিন' E. coli ব্যাকটেরিয়াতে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে।নিফ জিনবাহী ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহার জমিতে নাইট্রোজেন ঘটিত সার প্রয়োগ কমাতে বা একেবারে বন্ধ করতে পারবে। ফলে ফসলের উৎপাদন খরচ কমবে এবং পরিবেশ দূষণ রোধ হবে।
৭)বীজহীন ফল সৃষ্টিতে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্তমানে সারা বিশ্বের অনেক দেশে বীজহীন ফল সৃষ্টি করা হচ্ছে।
৮) এর মাধ্যমে লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত সৃষ্টি করা হয়েছে।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়,জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং তথা রিকম্বনেন্ট DNA কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য আনতে পারে