| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বাংলাদেশের বিখ্যাত একজন…’ সরকারি আজিজুল হক কলেজ ২০২৫ – জীবপ্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

বাংলাদেশের বিখ্যাত একজন বিজ্ঞানী দেশের প্রধান অর্থকরী ফসল পাটের জিনোম সিকোয়েন্সিং করেছেন। বিজ্ঞানীরা তাঁর এই আবিষ্কার একটি জৈব প্রযুক্তিতে কাজে লাগিয়ে উন্নত গুণাগণ সম্পন্ন পাটের জাত উদ্ভাবন করতে পারবেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১১
অন্ধকার পর্যায়ে কার্বন বিজারণের স্বীকৃত তিনটি পথ রয়েছে। যথা- ১. ক্যালভিন চক্র, ২. হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র ও ৩. CAM প্রক্রিয়া।
দৌড়বিদরা যখন দৌড়ায় তখন তাদের পেশীগুলো সক্রিয় থাকে এবং প্রচুর শক্তি (ATP) খরচ হতে থাকে। বাড়তি ATP যোগান দিতে কোষগুলো শ্বসনের হার বাড়িয়ে দেয়। সবাত শ্বসনের শেষ ধাপে অর্থাৎ ETC এ ইলেকট্রন গ্রহীতা হিসেবে অক্সিজেন প্রয়োজন হয়। এর অভাবে ATP তৈরি ব্যাহত হয়। তাই অতিরিক্ত অক্সিজেন গ্রহণ করে ATP উৎপাদন সচল রাখতেই দৌড়বিদরা বেশি বেশি শ্বাস নেন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত জৈব প্রযুক্তিটি হলো রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি। নিচে কৃষিক্ষেত্রে এ প্রযুক্তির অবদান উল্লেখ করা হলো-
উদ্দীপকের শেষ বাকাটি হলো কৃষিক্ষেত্রে জৈবপ্রযুক্তি তথা রিকম্বিকনেন্ট DNA প্রযুক্তির অবদান অপরিসীম। নিচে বাক্যটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো-
১. অধিক ফলনশীল শস্য উৎপাদনে: চাষাবাদকৃত ফসলের কোনো প্রজাতির মধ্যে সালোকসংশ্লেষণে বেশি সক্ষম, নাইট্রোজেন সংবন্ধনে ক্ষমতাসম্পন্ন, ফল অধিক পুষ্টকরণ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য স্থানান্তরের মাধ্যমে অধিক ফলনশীল জাত উৎপাদন করা যায়।
২. পুষ্টিগুণ বৃদ্ধিতে: ধানে β-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ জিন স্থানান্তরের মাধ্যহে সোনালী ধান উদ্ভাবনের মাধ্যমে চালের পুষ্টিগুণ বাড়ানো হয়েছে।
৩. আগাছনাশক প্রতিরোধী উদ্ভিদ সৃষ্টিতে: রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে Streptomyces hygroscopicus নামক ব্যাকটেরিয়া থেকে পৃথক করা জিন টমেটো, তামাক ও আলুতে স্থানান্তর করে আগাছানাশক প্রতিরোধী জাত সৃষ্টি করা হয়েছে।
৪. রোগপ্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনে: টোবাকো মোজাইক ভাইরাস, পটেটো ভাইরাসের CP জিন দিয়ে ট্রান্সফরমেশনকৃত তামাক গাছ ভাইরাস আক্রমণ হতে নিজেকে প্রতিরোধ করছে।
৫. দ্যুতিময় উদ্ভিদ সৃষ্টিতে: জোনাকি পোকার আলো সৃষ্টিকারী জিন রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে তামাক গাছে. প্রতিস্থাপনের ফলে তামাক গাছ থেকে আলো বিচ্ছুরিত হয়।
৬. বীজহীন ফল সৃষ্টিতে: বর্তমানে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেক দেশে বীজহীন ফল সৃষ্টি করা হচ্ছে যেমন- জাপানে বীজহীন তরমুজ, আঙুর উৎপাদন।
ডায়াবেটিস ও ব্রেইন স্ট্রোক প্রতিরোধে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো-
১. ডায়াবেটিস প্রতিরোধে: ডায়াবেটিস রোগটি সৃষ্টির কারণ হলো:
(i) অগ্ন্যাশয় হতে ইনসুলিন নিঃসৃত না হওয়া অথবা, (ii) কম নিঃসৃত হওয়া অথবা (iii) নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। তাই ডায়াবেটিস রোগীকে নিয়মিত ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। বর্তমান বাজারে ইনসুলিনের ব্যাপক চাহিদা মেটাতে জিন প্রকৌশল তথা রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে ইনসুলিন তৈরি করা হচ্ছে। প্রথমে এ প্রযুক্তিতে তৈরি বাজারজাতকৃত ইনসুলিনের' নাম ছিল 'হিউমুলিন'। মানবদেহে ইনসুলিন জিনের অবস্থান (১১নং ক্রোমোসোমের খাটো বাহুর শীর্ষে) নির্ণয় করে তা তে স্থানান্তর করে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাপক হারে ইনসুলিন তৈরি করা হচ্ছে। এভাবে একটি ব্যাকটেরিয়াম কোষে প্রায় দশ লক্ষ অণু ইনসুলিন তৈরি হয়ে থাকে।
২. ব্রেইন স্ট্রোক প্রতিরোধে স্ট্রোকের কারণ মূলত রক্ত নালিতে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া। তাই সাথে সাথে এই জমাট বাধা রক্ত গলিয়ে দিতে পারলে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। মানুষের রক্তে এমনিতেই প্লাজমিন এনজাইম থাকে, যা রক্তকে গলিয়ে দেয়। এটি Plasminogen অবস্থায় বিরাজ করে। একটি নিষ্ক্রিয় দশা। একে কর্মক্ষম করতে টিস্যু প্লাজমিনোজেন একটিভেটর বা TPΑ ইনজেকশন করা প্রয়োজন হয়। রিকম্বিনেন্ট DNA প্রযুক্তির মাধ্যমে TPA নিঃসরণকারী জিন থেকে TPA তৈরি করে রক্তনালীতে প্রবেশ করলে রক্তের ব্লক বিগলিত হয় এবং রোগী সুস্থ হয়ে উঠে।