| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বাংলাদেশের ছেলে অভীক…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৭ – কৃষি, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

বাংলাদেশের ছেলে অভীক মিসিসিপি-মিসৌরী নদীবাহিত দেশে বেড়াতে গিয়ে দেখলো, ওখানকার মানুষের প্রধান খাদ্যশস্যটি তার নিজ দেশে শীতকালে চাষ হয় এবং ঐ খাদ্যশস্যটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৪
এশিয়ার অধিবাসীদের প্রধান খাদ্যশস্য ধান।
নিরক্ষীয় ও আর্দ্র ক্রান্তীয় অঞ্চলের অরণ্যভূমি এলাকায় মানুষ বন পরিষ্কার করে চাষাবাদ করে থাকে। এভাবে পরিষ্কারকৃত কৃষিভূমি দুই বা তিন বছর আবাদের পর চাষের অযোগ্য হয়ে পড়লে কৃষকরা অন্যত্র একইভাবে জমি তৈরি ও আবাদ করে। এ ধরনের কৃষিব্যবস্থাকে স্থানান্তরিত কৃষি (Shifting Cultivation) বলে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পাহাড়ি অঞ্চলে স্থানান্তরিত কৃষি দেখা যায়।
অভীক মিসিসিপি-মিসৌরী নদীবাহিত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে যায়। সেখানে মানুষের প্রধান খাদ্যশস্য গম। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দানাদার শস্যের মধ্যে গম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান বিশ্বের মোট উৎপাদিত গমের প্রায় ১৬ শতাংশ বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে।
সারণি: প্রধান প্রধান দেশের গম আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ- ২০১৫
রপ্তানিকারক দেশসমূহ: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ইতালি, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ইউক্রেন প্রধান গম রপ্তানিকারক দেশ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা যথাক্রমে ১৪.৫ ও ১৬.২ শতাংশ রপ্তানি করে থাকে।
আমদানিকারক দেশসমূহ : গম আমদানিকারক দেশগুলো অনিয়মিতভাবে বা অনির্ধারিতভাবে আমদানি করে থাকে। যেমন- ভারত, পাকিস্তান, কিউবা প্রভৃতি দেশে গম আমদানির পরিমাণ বাড়ছে। আবার আলজেরিয়া, চীনে কমছে। ২০১৫ সালে প্রধান গম আমদানিকারক দেশের মধ্যে রয়েছে ইতালি, মিশর, ব্রাজিল, জাপান, ইন্দোনেশিয়া, আলজেরিয়া, স্পেন প্রভৃতি দেশ।
গমের বিশ্ব বাণিজ্যে আরেকটি দিক হলো সাধারণত উন্নত দেশগুলো গম রপ্তানি করে। অন্যদিকে, উন্নয়নশীল দেশগুলো তা আমদানি করে।
অভীক বাংলাদেশের অধিবাসী। এখানে প্রধান খাদ্যশস্য ধান। তার ভ্রমণকৃত দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান খাদ্যশস্য গম। এ দুটি ফসলের উৎপাদনে জলবায়ুগত নিয়ামকের ভিন্নতা রয়েছে।
ধান চাষে জলবায়ু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। জলবায়ুর উপাদানগুলোর মধ্যে বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা এ দুটির উপর ধান চাষের উৎপাদন নির্ভর করে। অন্যদিকে গম উৎপাদনের প্রাকৃতিক নিয়ামকসমূহের মধ্যেও জলবায়ু প্রধান।
i. বৃষ্টিপাত : ধান চাষের জন্য বার্ষিক গড় ১০০-২৫০ সে.মি. বৃষ্টিপাতের দরকার। তবে যেসব স্থানে বৃষ্টিপাত ১৭৫-২২৫ সে.মি. সেসব স্থানে ধানের ফলন ভালো হয়। গম চাষের জন্য অবস্থান অনুসারে বার্ষিক গড়ে ৩০-১০০ সে.মি. বৃষ্টিপাত প্রয়োজন।
ii. তাপমাত্রা: ধান চাষের জন্য সাধারণত ১৮০-২৭০ সে. তাপমাত্রার প্রয়োজন। ধান বীজের অঙ্কুরোদগমের জন্য ১৬০ সে. অপেক্ষা অধিক তাপমাত্রা প্রয়োজন। চারা বৃদ্ধিকালীন সময় তাপমাত্রা ২২০-২৪° সে. এর মধ্যে থাকা আবশ্যক। অপরদিকে গম চাষের আদর্শ তাপমাত্রা হচ্ছে ১৫০-২০০সে.। গম চাষের প্রাথমিক অবস্থায় কম এবং ফসল পাবার সময় বেশি তাপমাত্রা (১৮০সে.- ২২°সে.) থাকা প্রয়োজন।
বিশ্বের প্রায় ৯৫ শতাংশ ধান উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলে উৎপন্ন হয়। আর গম মূলত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের শস্য। সুতরাং বলা যায়, ধান ও গম উৎপাদনে জলবায়ুর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।