| ㅤ | A. Nayan18 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বাংলাদেশের ন্যায় বিশ্বের…’ ঢাকা সিটি কলেজ ২০২৫ – কৃষি, ভূগোল, ভূগোল ২য় পত্র (এইচএসসি)

বাংলাদেশের ন্যায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের বৃষ্টিবহুল অঞ্চলে একটি ফসলের চাষ করা হয়। ফসলটি চাষে সাধারণত ১৫০-২০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হয়। বিশেষত উর্বর লৌহ মিশ্রিত দো-আঁশ মাটিতে ফসলটির চাষ বেশ উপযোগী। এই ফসল চাষের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূপ্রকৃতি সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৪
GS.P (জিএসপি) এর পূর্ণরূপ হলো: Generalized System of Preferences.
শিল্পায়ন বলতে মূলত সমাজে প্রাচীন চাষ ব্যবস্থা পরিত্যাগ করে আধুনিক যান্ত্রিক শিল্পের বিকাশকে বোঝানো হয়ে থাকে। শিল্পবিপ্লবের সময়কাল হতেই মানুষের কাছে শিল্পায়ন বেশ পরিচিত। ব্যাপক অর্থে শিল্পায়ন বলতে বৃহদায়তন উৎপাদন কর্মকান্ড পরিচালনা করে এর যান শিল্পের কাঁচামাল বা উপকরণ ব্যবহার যান্ত্রিক প্রক্রিয়া সৃষ্টিকে বোঝায়। অর্থাৎ শিল্পায়ন দ্বারা কোনো দেশের যান্ত্রিক উৎপাদন সচল করে শিল্পের উদ্ভব ও বিকাশকে বোঝায়।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ ফসলটি হলো চা। চা পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়। চা চাষের ভৌগোলিক তথা প্রাকৃতিক উপাদান নিম্নে ব্যাখ্যা করা হলো:
প্রাকৃতিক নিয়ামক: চা চাষের প্রাকৃতিক নিয়ামকগুলোর মধ্যে জলবায়ু, বৃষ্টিপাত, ভূ-প্রকৃতি, মৃত্তিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রাকৃতিক নিয়ামকগুলো নিম্নরূপ-
- জলবায়ু: চা উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ ও অধিক আর্দ্র জলবায়ুতে বিশেষ উপযোগী। চা গাছের বৃদ্ধিকালীন সময়ে তাপমাত্রা 20°C অপেক্ষা বেশি হওয়া আবশ্যক। তীব্র শীত চা গাছের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- বৃষ্টিপাত: যেসব এলাকায় বছরে ১২৫ থেকে ৬২৫ সে.মি. বৃষ্টিপাত এবং শুষ্ক ঋতু ক্ষণস্থায়ী হয়। সেখানে চা গাছের পাতা ও কুঁড়ি দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
- ভূ-প্রকৃতি: সমুদ্রপৃষ্ঠের '৬০০ থেকে ১২০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত পার্বত্য ঢালু অঞ্চলে চা বাগান গড়ে তোলা হয়। সেখানে প্রবল বৃষ্টিপাত হলেও পানি জমে থাকে না। এরূপ উচ্চতা চা চাষের গুণগত মানকে প্রভাবিত করে।
মৃত্তিকা: নাইট্রোজেন যুক্ত মৃদু অম্লধর্মী মাটি চা গাছ জন্মানোর জন্য বিশেষ উপযোগী। লৌহ মিশ্রিত মাটিতেও তা গাছ জন্মাতে পারে।
পরিশেষে বলা যায় যে, চা গাছ আর্দ্র, উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ ও অধিক বৃষ্টিপাতযুক্ত উঁচু মাটিতে ভালো জন্মে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতপূর্ণ ফসল হলো চা। উক্ত চা এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো-
চা একটি বাণিজ্যিক ফসল। পৃথিবীর অল্প কয়েকটি দেশে চা উৎপাদন হয়। অথচ চায়ের আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্বজোড়া। বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো চা উৎপাদনে শ্রেষ্ঠ হলেও, শ্রেষ্ঠ চা শুধু ধনী দেশগুলোর আমদানিযোগ্য প্রধান সামগ্রী। চা বিদেশি মুদ্রা উপার্জনের অন্যতম উৎস। চা রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ কেনিয়া; এরপরেই রয়েছে চীনের স্থান। পক্ষান্তরে, চা আমদানিতে শীর্ষ দেশ ব্রিটেন।
রপ্তানি (Export): রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে চীন বিশ্বে প্রথম, কেনিয়া দ্বিতীয়, শ্রীলঙ্কা তৃতীয় এবং ভারত চতুর্থ। এছাড়া পোল্যান্ড, জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, জাপান, তাইওয়ান প্রভৃতি দেশও চা রপ্তানি করে থাকে। ২০২১ সালে পৃথিবীর মোট চা রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৭.৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
আমদানি (Import): চা আমদানিকারক দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান প্রথম, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়, রাশিয়া তৃতীয় এবং যুক্তরাজ্য চতুর্থ। এছাড়া সৌদি আরব, ইরান, মরক্কো, জার্মানি, চীন, হংকং প্রভৃতি দেশ চা আমদানি করে। ২০২১ সালে পৃথিবীর মোট চা আমদানির পরিমাণ ৬.৬ মার্কিন ডলার। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনাম, জার্মানিসহ কতিপয় দেশ চায়ের উভয় বাণিজ্যে অংশগ্রহণ করে। কাজেই চাষের যথেষ্ট অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।
বিশ্বের প্রধান চা আমদানিকারক দেশসমূহ (মিলিয়ন ডলার)
উৎস : www.worldstopexeports.com-2022
উৎস: www.worldstopexeports.com-2022
সুতরাং দেখা যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের মধ্যে চায়ের আমদানি রপ্তানির আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। তাই বলতে পারি বিশ্বব্যাপী চা এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে।