| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বাংলাদেশের টেকনাফ অঞ্চলের…’ রাজশাহী বোর্ড ২০২২ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বাংলাদেশের টেকনাফ অঞ্চলের এক গ্রামের গরিব অসহায় পরিবারকে সমাজচ্যুত করা হয়েছে। কারণ, ঐ বাড়ির ছেলের বিয়েতে গ্রামের মাতব্বর পরিবারকে দাওয়াত করা হয়নি। এ কারণেই খেপে যায় মাতব্বর ও তার লোকজন। সভা করে একঘরে করে দেয় সেই গরিব পরিবারটিকে। পরিবারের লোকদের বাইরে যাওয়ার রাস্তাটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
'লালসালু' উপন্যাসে সাত ছেলের বাপের নাম দুদু মিঞা।
মজিদ তার নিজের বিপদের কথা ভেবে স্কুল নির্মাণে বাধা দেয় ।
আক্কাস মিয়া গ্রামের মানুষকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য স্কুল নির্মাণের | কথা বললে মজিদের তা পছন্দ হয় না। কারণ লোকজন শিক্ষিত হলে | তারা ভালো-মন্দ বুঝবে, কুসংস্কার মানবে না, মজিদের ভণ্ডামি বুঝতে পারবে। ফলে অন্ধকারে থাকা ধর্মভীরু মানুষের সাথে তার ধর্মব্যবসা করা বন্ধ হয়ে যাবে। এ কারণেই মজিদ স্কুল নির্মাণে বাধা দেয় ।
উদ্দীপকের ঘটনার সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত দুদু মিয়ার বিচারের ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে"।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ মহব্বতনগরে কৌশলে নিজের অস্তিত্ব রক্ষা করে চলেছে। কেউ তার প্রভাবের বাইরে যেতে চাইলে বা কোনোভাবে তাকে অমান্য করলে সুকৌশলে মজিদ তাকে শাস্তি দিয়েছে। দুদু মিয়ার বিচারের ক্ষেত্রে আমরা এমনটি দেখি। দুদু মিয়া নিজের মেয়েকে শাসন করলে তার জন্য তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। মজিদ ও তার অনুসারীরা দুদু মিয়াকে বিচারের মজলিসে অপমান করে ।
উদ্দীপকেও আমরা এমন চিত্র দেখি। সেখানে গরিব অসহায় একটি পরিবার গ্রামের মাতব্বরদের অন্যায্য বিচারে শাস্তি পায়। ছেলের বিয়েতে দাওয়াত না দেওয়ায় তাদের একঘরে হয়ে বাস করতে হয় । মূলত মাতব্বররা নিজেদের প্রভাব ধরে রাখার জন্যই এই পরিবারটিকে শাস্তির মুখোমুখি করেছে। আর এমন কূটকৌশলী ভূমিকার দৃষ্টান্ত আমরা ‘লালসালু' উপন্যাসের দুদু মিয়ার বিচারের ক্ষেত্রে দেখতে পাই।
প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের মাতব্বর ও তার লোকজন এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ উভয়ই অভিন্ন চেতনার অনুসারী। ‘লালসালু' উপন্যাসে দেখা যায় মজিদ শঠ ও প্রতারক একটি চরিত্র।
মহব্বতনগর গ্রামের মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে ব্যবহার করে একটি পরিত্যক্ত কবরকে মাজার বলে ঘোষণার মাধ্যমে সে ধর্মব্যাবসা শুরু করে। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল নিজের স্বার্থসিদ্ধি। আর এ কারণে যে-ই তার পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, তার প্রতিই সে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছে ।
উদ্দীপকের মাতব্বর ও তার লোকজন উপন্যাসের মজিদের মতোই কূটবুদ্ধির অধিকারী। তাই সুযোগমতো ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার প্রতি আনুগত্যহীনদের প্রতিহত করে। সামান্য দাওয়াত দেওয়াকে কেন্দ্ৰ করে একটি পরিবারকে একঘরে করেছে সে। নির্মমতা দেখিয়ে অবাধ্য লোকদের শাস্তি দেওয়ার এমন নজির আলোচ্য উপন্যাসের মজিদের মধ্যেও লক্ষ করা যায়।
আলোচ্য উপন্যাস ও উদ্দীপকের বিশ্লেষণে দেখা যায়, এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে বদ্ধপরিকর টেকনাফ অঞ্চলের মাতব্বর। অন্যদিকে উপন্যাসের মজিদ তার প্রভাব বিস্তার করেছে মহব্বতনগর গ্রামে । তবে দুজনের ঘটনার ক্ষেত্র আলাদা। তাই পালটে যায় প্রেক্ষাপটও। কিন্তু তারা দুজনেই নির্মম ও অত্যাচারী। প্রভাব বিস্তার করে তারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে নেয়। তাদের লক্ষ্য ছিল, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার পাশাপাশি ক্ষমতা বিস্তার করা। সেটা তারা সফলভাবেই করে। তাই, উদ্দীপক ও আলোচ্য উপন্যাসের বিশ্লেষণে বলা যায়, “উদ্দীপকের মাতব্বর ও তার লোকজন এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ অভিন্ন চেতনার অধিকারী।”— মন্তব্যটি যথার্থ ।