| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বাংলাভাষী অনেক মুসলমান…’ a – বাঙালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বাংলাভাষী অনেক মুসলমান কবি বৈষ্ণব পদ সাহিত্য সৃষ্টি করে গেছেন। তাঁদের কেউ করেছেন নেশার ঝোঁকে আর কেউ করেছেন পেশা হিসেবে।… পূর্ব পাকিস্তানের খ্যাতনামা কবিয়াল শ্রী রমেশচন্দ্র শীল মাইজ-ভান্ডারপন্থী মারফতী গান লিখে পুস্তিকায় প্রকাশ করেছেন…। তিনি বলেন… আমি ভাবলাম এরূপ গান লিখলে বেশ কাটতি হবে- আমার পয়সা হবে।… অতএব দেখা যাচ্ছে, অন্য স্বার্থবশে এসব শ্রেণির কবিতা সৃষ্টি হয়েছে।… এ জন্য সাধারণ মনেও তার ক্রিয়া উল্লেখযোগ্য হয়নি।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৩
যশের জন্য লিখলে যশও হবে না, লেখাও ভালো হবে না।
- সাহিত্যে যা অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ; পরনিন্দা বা পরপীড়ন তা একেবারে পরিহার্য।
- 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' সাহিত্য রচনার উদ্দেশ্য হলো সত্য ও ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করা। যদি কেউ সাহিত্যে অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ বা পরনিন্দা বা স্বার্থসাধন সংশ্লিষ্ট বিষয় উপস্থাপন করেন তবে সেই সাহিত্যের অবস্থান সাহিত্যের উদ্দেশ্য থেকে অনেক দূরে। তাই সত্যহীন ও ধর্মহীন বিষয় সাহিত্যে আনা একেবারেই উচিত নয়। এই সত্যহীন ও ধর্মহীন বিষয় সাহিত্যে উপস্থাপন করাকে লেখক মহাপাপ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
সারকথা: সাহিত্যের বিষয় সবসময় সত্য ও ও সুন্দর হওয়া বাঞ্ছনীয়। অসত্য ও ধর্মহীন বিষয় সাহিত্যে আনা উচিত নয়।
- উদ্দীপকের বিষয়টি 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধের যশ, অর্থ ও স্বার্থের জন্য না লেখার বিষয়গুলো নির্দেশ করে।
- সাহিত্যের মাধ্যমে প্রকাশ পায় একটি দেশ, জাতি ও মানুষের সার্বিক অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য। তাই সাহিত্য হওয়া উচিত নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির। কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্য রচনা করলে তা কালোত্তীর্ণ হয় না।
- উদ্দীপকে খ্যাতনামা কবিয়াল শ্রী রমেশচন্দ্র শীল মাইজ-ভান্ডারপন্থি মারফতি গান লিখে পুস্তিকায় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'আমি ভাবলাম এরূপ গান লিখলে বেশ কাটতি হবে, আমার পয়সা হবে।' অর্থাৎ তিনি স্বার্থের জন্য সাহিত্য রচনা করেছেন। যার ফলে তা মানবমনে বিশেষ আবেদন তৈরি করতে পারেনি। অনেক মুসলমান কবিও নেশা এবং পেশার কারণে বৈষ্ণব পদ রচনা করেছেন। তাদের অবস্থাও একই। প্রাবন্ধিক উক্ত বিষয়টির দিকে খেয়াল রেখেই বলেছেন যশের জন্য লিখবেন না, টাকার জন্য লিখবেন না। কারণ অর্থ ও যশের জন্য লিখতে গেলে লোকরঞ্জন-প্রবৃত্তি প্রবল হয়ে পড়ে। এতে রচনার বিকৃতি ও অনিষ্ট ঘটে। তিনি আরও বলেছেন, অসত্য, পরপীড়ন ও স্বার্থসাধন যেন সাহিত্যের উদ্দেশ্য না হয়। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য প্রবন্ধের যশ, অর্থ ও স্বার্থের জন্য না লেখার বিষয়টি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।
সারকথা: অর্থ,যশ ও ব্যক্তিস্বার্থে সাহিত্য রচনায় মনোনিবেশ করা ঠিক নয়। কারণ এতে সাহিত্য মান হারায়।
- উদ্দীপকটি আমার পঠিত প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ করে নাংটা কাকালি যায় টান না।
- বর্তমান সময়ে অনেকে অর্থ, যশ ও ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য সাহিত্য রচনা করেন। কিন্তু তারা ভুলে যান যে এসব উদ্দেশ্যে সাহিত্যসাধনা করলে সাহিত্য মান হারায়। তাই মানবকল্যাণের কথা চিন্তা করে সাহিত্যসাধনা করা উচিত।
- উদ্দীপকে ব্যক্তিস্বার্থে সাহিত্য রচনা করার কথা বলা হয়েছে। যার ফলে তৎকালীন সাহিত্যিকদের রচনা মানবমনে উল্লেখযোগ্য ক্রিয়া সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়। এই বিষয়টি 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধেও প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু এই বিষয়টি ছাড়াও প্রাবন্ধিক আরও বলেছেন কীভাবে একটি রচনাকে সুন্দর ও সার্থক করে তোলা যায়। সাহিত্যের উদ্দেশ্য কেমন হবে সে কথাও তিনি প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন। তিনি আশা করেছেন প্রবন্ধের বিষয়গুলো বিবেচনা করে কোনো সাহিত্যিক সাহিত্য রচনা করলে সাহিত্যের উন্নতি হবে।
- আলোচ্য প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক নতুন লেখকদের প্রতি কিছু নিবেদন প্রকাশ করেছেন। যার মধ্য দিয়ে নতুন লেখকদের লেখার উৎকর্ষ বৃদ্ধি পাবে। উদ্দীপকে যশ, অর্থ ও ব্যক্তিস্বার্থে লেখার পরিণতি এবং এতে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু সেখানে অন্য আরও অনেক বিষয় অনুপস্থিত। যেমন- সাহিত্যের উদ্দেশ্য, লেখকের কর্তব্য ও লেখকদের প্রতি আবেদন ইত্যাদি। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ পায়নি।
সারকথা: উদ্দীপকে 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধের আংশিক বিষয় প্রকাশ পেয়েছে। অন্য বিষয়গুলো অনুপস্থিত থাকায় বলা যায়, উদ্দীপকে প্রবন্ধের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ পায়নি।