| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘”বারবার ফিরে আসে…’ ঢাকা কমার্স কলেজ ২০২৫ – ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

“বারবার ফিরে আসে রক্তাপ্লুত শার্ট,
ময়দানে ফিরে আসে, ব্যাপক নিসর্গে ফিরে আসে
ফিরে আসে থমথমে শহরের প্রকাণ্ড চোয়ালে।
হাওয়ায় হাওয়ায় উড়ে, ঘোরে হাতে হাতে,
মিছিলে পতাকা হয় বারবার রক্তাপ্লুত শার্ট।
বিষম দামাল দিনগুলো ফিরে আসে বারবার,
বারবার কল্লোলিত আমাদের শহর ও গ্রাম।”
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২০
• উনিশশো উনসত্তরে সালাম আবার রাজপথে নামে।
• “সেই ফুল আমাদেরই প্রাণ।"- চরণটির মাধ্যমে কবি ভাষা আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগে দুঃখিনী মায়েদের চোখের জলে যে ফুল ফুটেছিল তা বুঝিয়েছেন।
• 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় কবির মনে হয়েছে ভাষাশহিদদের রক্তের বুদ্বুদ কৃষ্ণচূড়া ফুল হয়ে শহরের পথে পথে ফুটে আছে। ভাষার জন্য যাঁরা রক্ত দিয়েছেন সেই বীরদের রক্তে, সন্তানহারা মায়েদের চোখের জলে যে চেতনাদীপ্ত ফুল ফোটে তা কবির কাছে প্রাণস্বরূপ। সেই চেতনাতেই বাঙালি আজ স্বাধীন জাতি। এই বিষয়টি বোঝাতেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
• উদ্দীপকের রক্তাপ্লুত শার্ট 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় উল্লিখিত অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার ও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
• বাঙালি জাতি বীরের জাতি। এই জাতি যুগে যুগে শাসক শ্রেণির বিভিন্ন অন্যায় আর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে, ছিনিয়ে এনেছে মুক্তির স্বাদ।
• 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় ১৯৬৯-এর গণআন্দোলনে জাতিগত শোষণ আর নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে জেগে ওঠে সমগ্র বাঙালি জাতি। প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জ-হাটবাজার, কলকারখানা, স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অসংখ্য মানুষ ঢাকার রাজপথে আন্দোলন শুরু করে। উদ্দীপকে এমনই এক অন্যায়ের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বাঙালি জনতা। প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে তারা ব্যবহার করেছে শহিদের রক্তমাখা শার্ট। তীব্র ক্ষোভে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে শহিদের রক্তমাখা শার্ট ব্যবহার করে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। সর্বোপরি বলা যায়, উদ্দীপকে রক্তাপ্লুত শার্ট 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতায় অত্যাচারী শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারের স্বরূপ ও প্রতিবাদের ভাষার চিত্র তুলে ধরে।
• "উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়বস্তু থেকে 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার বিষয়বস্তু আরও বিস্তৃত।" মন্তব্যটির সাথে আমি একমত।
• অধিকার আদায়ের জন্য বাংলার মানুষ বারবার সংগ্রাম করেছে।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের স্বাধীনতার সংগ্রাম বাঙালির সংগ্রামী চেতনা ও বীরত্বের পরিচয় বহন করে।
• 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতাটি দেশপ্রেম, গণজাগরণ ও সংগ্রামী চেতনার কবিতা। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করে ১৯৬৯ সালে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এদেশের মানুষেরা প্রতিবাদ করে। বিচিত্র শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সংগ্রামী চেতনার এক অসামান্য শিল্পভাষ্য রচিত হয়েছে এই কবিতায়। অন্যদিকে উদ্দীপকের কবিতাংশে কেবল ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সকল আন্দোলনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
• 'ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯' কবিতার মূল বিষয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাঙালির সংগ্রামী চেতনা। কবিতাটি একুশের রক্তঝরা দিনগুলোতে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে এদেশের সংগ্রামী মানুষের আত্মহুতির মাহাত্ম্যে প্রগাঢ়তা লাভকরেছে। এক্ষেত্রে কবি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করেছেন। এ দিকগুলো উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে কেবল নিজের অধিকার আদায় এবং দেশের জন্য জীবন বিসর্জনের দিকটি রূপক অর্থে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ নয়।