| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ বরিশাল বোর্ড ২০১৭ – জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১২
একই ধরনের জলবায়ু, একই ধরনের মাটি, একই জাতীয় বৈশিষ্ট্য। সম্পন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী নিয়ে গঠিত একটি বৃহৎ ও পৃথকযোগ্য ইকোসিস্টেমকে বায়োম বলে।
পার্থেনোকার্পির প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব:
i. অনিষিক্ত ডিম্বাণু থেকে সরাসরি পূর্ণাঙ্গ জীবে পরিণত হওয়ার পদ্ধতি যৌন জনন পদ্ধতির মতো জটিল নয়।
ii. নিষেকের প্রয়োজন হয় না।
iii. এ প্রক্রিয়া প্রজাতিকে বন্ধ্যাত্ব হতে রক্ষা করে।
iv. এ প্রক্রিয়া জীবগোষ্ঠীর সদস্যদের প্রকরণবিহীন করে ও সাদৃশ্য বজায় রাখে।
v. জীবের মিউট্যান্ট বৈশিষ্ট্যকে স্থান্তরে ও বিকাশে সাহায্য করে।
vi. পার্থেনোজেনিক উদ্ভিদের অভিযোজন ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত, জেনেটিক বৈচিত্র্য বা কৌলিক বিভিন্নতা না থাকায় এদের জীবনীশক্তি ক্ষীণ এবং জীবনকাল স্বল্পমেয়াদি হয়।
vii. কৃত্রিম উপায়ে বাহ্যিক শর্ত আরোপ করে সহজেই পার্থেনোজেনেসিসের মাধ্যমে অপত্য জীব তৈরি করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'খ' প্রাণীটি 'ঘড়িয়াল' যা ওরিয়েন্টাল অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। ওরিয়েন্টাল অঞ্চলের বনভূমি ও প্রাণীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।
বনভূমি: ওরিয়েন্টাল অঞ্চলে ৪ ধরনের বনভূমি দেখতে পাওয়া যায়, যথা-(১) গ্রীষ্মমন্ডলীয় বারিবন (২) পাতাঝরা বনভূমি (৩) গ্রীষ্মমন্ডলীয় = তৃণভূমি এবং (৪) ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল। গ্রীষ্মমন্ডলীয় বারিবনের গাছগুলো - লতা, চওড়া পাতাবিশিষ্ট চির সবুজ। প্রধানত মালয়ান ও সিলোনিজ উপাঞ্চলে এ বনভূমি রয়েছে। চিরসবুজ অরণ্য সৃষ্টিকারী গাছগুলো হলো জলপাই, কঁঠাল, জাম ইত্যাদি। ভারত, ইন্দোনেশিয়া-চীন ও মায়ানমারের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে রয়েছে পাতাঝরা বনভূমি। শাল, পলাকা, কড়ই প্রভৃতি এ বনভূমির প্রধান গাছ। ওরিয়েন্টাল অঞ্চলে সামান্য তৃণভূমির বিস্তৃতি দেখা যায় ভারত, মায়ানমার ও ইন্দোচীনে। এখানকার ঘাসগুলো ছোট আকৃতির এবং অসংখ্য ঝোপ-ঝাড় ও বৃক্ষ সমন্বিত। সমুদ্র উপকূল জুড়ে অবস্থিত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ওরিয়েন্টাল অঞ্চলের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সুন্দরী, কেওড়া, পশুর, গোলপাতা প্রভৃতি এ বনভূমির প্রধান উদ্ভিদ।
প্রাণী: ওরিয়েন্টাল অঞ্চলে বহু ধরনের মেরুদন্ডী প্রাণী পাওয়া যায়। তবে এন্ডোমিক প্রাণীর সংখ্যাও যথেষ্ট। স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, শিয়াল, সিংহ, খরগোশ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য, পাখির মধ্যে ময়ূর, দোয়েল, চিল, শালিক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। মিঠা পানির মাছের মধ্যে বাইন, পাবদা, টাকি, রুই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। উভচর প্রাণীর মধ্যে কুনোব্যাঙ, সোনাব্যাঙ, গেছোব্যাঙ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সরীসৃপের মধ্যে গোখরা, কুমির, ঘড়িয়াল, গুইসাপ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক' চিত্রটি হলো লবণাক্ত উদ্ভিদ। লবণাক্ত উদ্ভিদের প্রজনন শৈলীর বৈচিত্র্যতা তথা জরায়ুজ অঙ্কুরোদগম ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জরায়ুজ অঙ্কুরোদগমে ফল গাছে ঝুলে থাকা অবস্থায়ই বীজ অঙ্কুরিত হতে শুরু করে। গাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগেই বীজের ভেতরের ভূণমূল ফলের প্রাচীর ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসে এবং বর্ধিত হয়। ভ্রূণমূল ক্রমান্বয়ে স্ফীত হয়ে গদাকার হয় এবং ওজনেও বাড়ে। ফলে ভ্রূণমূলের ভারে অংকুরিত বীজ ফল থেকে খসে খাড়াভাবে নিচে পড়ে যায় এবং নরম মাটিতে প্রোথিত হয়। এরপর মূল নির্গত হয় এবং চারা মাটির সঙ্গে আটকে যায়। এভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বনাঞ্চল সৃষ্টি হয়। তাই বলা যায়, লবনাক্ত উদ্ভিদের প্রজনন শৈলীর বৈচিত্রতা বন সৃজনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।