| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ বরিশাল বোর্ড ২০১৭ – মানবদেহের প্রতিরক্ষা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
সারফেকট্যান্ট হলো অ্যালভিওলাস প্রাচীরের অন্তঃতলে অবস্থিত ডিটারজেন্টের মতো এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ যা প্রাচীরের পৃষ্ঠটান কমিয়ে দেয়।
মূত্র হলো নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ সম্বলিত তরল যা রেচন পদার্থ হিসেবে পরিচিত। মূত্রের হালকা হলুদ বর্ণের জন্য দায়ী পদার্থ হলো ইউরোক্রোম: মূত্রের প্রায় ৯৫ ভাগ পানি। মূত্রে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন, ক্রিয়েটিন, কিটোন বডিস, সোডিয়াম, হিপপিউরিক এসিড, পটাসিয়াম, অ্যামোনিয়াম ইত্যাদি নানারকম জৈব ও অজৈব পদার্থ থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অণুটি হলো অ্যান্টিবটি। অ্যান্টিবডি জীবাণু বা অ্যান্টিজেনকে অকার্যকর করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। অ্যান্টিবডির প্যারাটোপ নামক নির্দিষ্ট অংশ বহিরাগত অ্যান্টিজেন বা জীবাণুর প্লাজমামেমব্রেন এর অ্যান্টিজেনধর্মী যৌগের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আবদ্ধ হয়ে জীবাণুকে অকার্যকর করে। নিম্নে অ্যান্টিজেন অকার্যকরের ঘটনা ব্যাখ্যা করা হলো-
i. অ্যান্টিবডি একাধিক জীবাণুর অ্যান্টিজেনের সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে এদেরকে স্তূপকৃত করে।
ii. বিক্রিয়ালব্ধ পদার্থ দ্রবীভূত না হয়ে অধঃক্ষিপ্ত হয়।
iii. অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনধর্মী জীবাণুর বিষাক্ত স্থানকে আবৃত করে প্রশমন করে।
iv. অনেক সময় অ্যান্টিবডি সরাসরি জীবাণুর ঝিল্লিকে আক্রমণ করে তাকে ছিন্ন বা বিশ্লিষ্ট করে।
V. অ্যান্টিবডি জীবাণুর উপরিতলকে আক্রমণ করায় এরা পরিবর্তিত হয়। এই পরিবর্তিত জীবাণুকে রক্তের নিউট্রোফিল ও দেহের অন্যান্য ম্যাক্রোফেজ আগ্রাসনের মাধ্যমে বিনষ্ট করে। একে অপসোনাইজেশন বলে।
এভাবেই বিভিন্ন পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রকারের অ্যান্টিবডি ক্ষতিকর অণুজীবের অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে জীবাণুকে ধ্বংস করে এবং দেহকে রোগমুক্ত রাখে।
উদ্দীপকের গঠনটি হলো অ্যান্টিবডি। দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেহে কোন জীবাণুর আক্রমণ ঘটলে দুটি ঘটনা ঘটে। প্রথমটি হলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্যে অনুপ্রবেশকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা সাড়া দান করা। দ্বিতীয়টি হলো অনুপ্রবেশকারীর কথা মনে রাখা। যেসব কোষ অনুপ্রবেশকারীর কথা মনে রাখে তাদেরকে স্মৃতি কোষ বলে। স্মৃতি কোষ হলো লিম্ফোসাইট নামক অদানাদার শ্বেত রক্তকণিকা। এরা দু ধরনের: T-লিম্ফোসাইট B -লিম্ফোসাইট। এদের মধ্যে B লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করে। এদেরকে মেমোরি B কোষ বলে। এদের প্রধান ভূমিকা হলো দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করে অনুপ্রবেশকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে দেহকে অনাক্রম্য করে তোলা। এভাবে গড়ে উঠে অর্জিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। প্রথমবার কোন জীবাণু দেহে সংক্রমণ ঘটালে তার বিরুদ্ধে যে সাড়া গড়ে উঠে তাকে প্রাইমারি সাড়া বলে। আবারও যদি একই জীবাণু দ্বারা সংক্রমণ ঘটে তাহলে স্মৃতি কোষ দ্বারা দ্রুত সেকেন্ডারি সাড়া গঠিত হয়। সাধারণত মেমোরি B কোষ মানবদেহের রক্ত প্রবাহে দীর্ঘদিন অতন্দ্র প্রহরীর মত সতর্ক থাকে, তবে কোন অ্যান্টিবডি ক্ষরণ করে না। কিন্তু সেকেন্ডারি সাড়ায় মেমোরি B কোষ অতি দ্রুত বিপুল সংখ্যক অ্যান্টিবডি ক্ষরণকারী কোষ সৃষ্টি করে। ফলে রক্ত প্রবাহে বিপুল পরিমাণ অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয় এবং দেহ রোগ মুক্ত হয়।