| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ বরিশাল বোর্ড ২০১৭ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
গোল আলুর বিলম্বিত ধ্বসা রোগের জীবাণুর নাম Phytophthora infestans.
বর্তমান কালের কোনো জীবিত জীবের বৈশিষ্ট্য অতীতকালের কোনো জীবাশ্ম জীবের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিল সম্পন্ন হলে তাকে জীবন্ত জীবাশ্ম বলে। Cycas জীবন্ত জীবাশ্মের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। কেননা Cycas উদ্ভিদ Cycadales বর্গের অন্তর্গত। এই বর্গের অনেক উদ্ভিদ এখন বিলুপ্ত এবং এদেরকে জীবাশ্ম হিসেবে পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'H' যৌগটি হলো গ্লুকোজ। গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ হতে ৩-কার্বনবিশিষ্ট যৌগ ৩- ফসফোগ্লিসার্যালডিহাইড উৎপন্ন হয়। গ্লুকোজ হতে ৩- ফসফোগ্লিসার্যালডিহাইড উৎপাদনের ধাপগুলো নিম্নরূপ-
i. গ্লুকোজ, ATP হতে একটি ফসফেট গ্রহণ করে গ্লুকোজ-৬ ফসফেট এ পরিণত হয়। এ বিক্রিয়ায় হেক্সোকাইনেজ এনজাইম ক্রিয়াশীল হয়। গ্লুকোজ+ হেক্সোকাইনেজ গ্লুকোজ-৬- ATP ফসফেট + ADP
ii. গ্লুকোজ-৬-ফসফেট ফসফোগ্লুকোআইসোমারেজ নামক এনজাইমের প্রভাবে ফ্রুক্টোজ-৬-ফসফেটে পরিণত হয়। গ্লুকোজ- ৬-ফসফেট ফসফো-গ্লুকোআইসোমারেজ ফুক্টোজ-৬-ফসফেট
iii. ফ্রুক্টোজ-৬-ফসফেট ফসফোফ্রুক্টোকাইনেজ এনজাইম ও ATP এর উপস্থিতিতে ফ্রুক্টোজ-১,৬- বিসফসফেট ও ADP তৈরি করে। ফ্রুক্টোজ-৬-ফসফেট + ATP ফসফোফুক্টোকাইনেজ → ফুক্টোজ- ১,৬-বিস ফসফেট + ADP
iv. ফ্রুক্টোজ-১,৬-বিসফসফেট অ্যালডোলেজ এনজাইমের প্রভাবে ৩- ফসফোগ্লিসার্যালডিহাইড এবং ডাইহাইড্রক্সি-অ্যাসিটোন ফসফেটে রূপান্তরিত হয়। ফ্রুক্টোজ-১,৬-বিসফসফেট অ্যালডোলেজ ৩-ফসফোগ্লিসার্যালডিহাইড + ডাইহাইড্রক্সি-অ্যাসিটোন ফসফেট
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'H' দ্বারা গ্লুকোজকে নির্দেশ করা হয়েছে। উদ্ভিদের সবুজ অংশে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ উৎপন্ন হয়। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকে নির্দেশিত সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি সকল জীবের জন্য বিশেষ গুরত্ব বহন করে। প্রকৃতিতে একমাত্র সবুজ উদ্ভিদই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করতে পারে। কোনো প্রাণীই নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারেনা। তাই আমাদের সম্পূর্ণরূপেই খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভর করতে হয়। কাজেই বলা যায়, পৃথিবীর সকল উদ্ভিদ ও প্রাণীর তথা মানব জাতির খাদ্য তৈরি হয় সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে। এছাড়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বস্ত্র, ওষুধ, কয়লা, পেট্রোল, গ্যাস ইত্যাদি যা কিছু আমরা পেয়ে থাকি তা প্রকৃত পক্ষে সালোকসংশ্লেষণেরই ফল। শুধু তাই নয়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিশেষ করে O₂ ও CO₂ এর সঠিক অনুপাত রক্ষায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হলে তা জীবজগতের জন্য যেমন হুমকি স্বরূপ তেমনি মানুষের জন্যও। সকল জীব শ্বসন প্রক্রিয়ায় O₂ গ্রহণ করে এবং CO₂ ত্যাগ করে। কেবলমাত্র শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বায়ুমন্ডলে O2 গ্যাসের স্বল্পতা এবং CO₂ গ্যাসের আধিক্য দেখা দিতো। কিন্তু সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় CO₂ গ্রহণ করে এবং ০₂ ত্যাগ করে বলে এখনও বায়ুমণ্ডলে O₂ ও CO₂ গ্যাসের ভারসাম্য বজায় রয়েছে। বেঁচে রয়েছে জীবকুল তথা মানবজাতি।
আলোচনার শেষে তাই বলা যায় সকল জীবের জন্য সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।