| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ বরিশাল বোর্ড ২০১৯ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
DNA অনুর একটি খন্ডাশ যা জীবের বংশগতির মৌলিক ভৌত ও কার্যিক একক এবং বংশ থেকে বংশান্তরের জীবের বৈশিষ্ট্য বহন করে।
যোগকারী জীবাশ্মে দুটি গ্রুপের মধ্যবর্তী দশার বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। Archaeopteryx হলো এক ধরনের সরিসৃপ জাতীয় পাখির জীবাশ্ম যাতে পাখি ও সরীসৃপ উভয়ের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। যেমন— এদের দেহে পাখির ন্যায় ডানা, পালক ও চঞু থাকলেও এদের সরিসৃপের ন্যায় দাঁতযুক্ত চোয়াল, শুষ্ক আঁশ ও ভারী কঙ্কাল রয়েছে। এ জন্য Archaeopteryx কে সংযোগকারী জীবাশ্ম বলা হয় ।
উদ্দীপকে বর্ণিত F2 জনুর ফলাফল চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখানো হলো:
ধরা যাক, সাদা লেগহর্নের জন্য রঙিন পালকের জন্য দায়ী প্রকট জিন =C
সাদা লেগহর্নের রঙিন পালকের বাধা দানকারী প্রকট জিন= I
অতএব, সাদা লেগহর্ণের জিনোটাইপ CCII এবং সাদা ওয়াইনডের এর জিনোটাইপ ccii, এক্ষেত্রে C হচ্ছে প্রকট হাইপোস্ট্যাটিক জিন এবং I প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন।সাদা লেগহর্ণ এবং সাদা ওয়াইনড এর মধ্যে ক্রস ঘটিয়ে বিস্ময়কর ফলাফল লক্ষ্য করা গেছে। একটি সাদা পালক যুক্ত লেগহর্ন এর সাথে সাদা পালকযুক্ত ওয়াইনটড এর মধ্যে ক্রস ঘটালে প্রথম বংশধর সবগুলো শাবকই সাদা পালক যুক্ত পাওয়া যাবে।
পিতামাতা(P1):
জিনোটাইপ--- (+)সাদা লেগহর্ণ X (-)সাদা ওয়াইনডট জিনোটাইপ--- CCII ccii
গ্যামেট (CI) (ci)
F1জনু--- CcIi
সুতরাং অনুপাত হবে= ১৩:৩
উদ্দীপকে উল্লেখিত ঘটনা মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রম। নিচে এর জিনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ দেওয়া হল:
উদ্দীপকের বর্ণনা মোরগ মুরগির যেহেতু সাদা ও রঙ্গিন বর্ণের অনুপাত ১৩:৩ হয়েছে সেহেতু এটি একটি প্রকট এপিস্টাসিসের ফল। আর এ ধরনের ঘটনা ঘটার জন্য এপিস্ট্যাটিক নামক এক ধরনের জিনই দায়ী। এ জিনের উপস্থিতি অপর জিনের অভিব্যক্তিকে বাধা দেয়। যে জিনটি বাধাগ্রস্ত হয় তাকে হাইপোস্ট্যাটিক জিন বলে। এ দুটি পৃথক জীবের একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশের অংশগ্রহণ করলে এক এর জন্য অন্যটির বৈশিষ্ট্য প্রকাশ ব্যর্থ হয়। আর উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী এই এপিস্ট্যাটিক ও হাইপোস্ট্যাটিক পৃথক জিন দুটির অনুপাতে মুরগির ফিনোটাইপিক ভিন্নতার প্রধান প্রধান কারণ যা এখানে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। অন্যথায় মুরগির ক্রসে ৯:৩:৩:১ অনুপাত পাওয়া যেত অর্থাৎ যে এখানে মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের প্রতিফলন ঘটতো। তাছাড়া চেকার বোর্ড থেকে এটা স্পষ্ট যে প্রকট I জিন অর্থাৎ এপিস্টাটিক জিন উপস্থিত থাকলে C জিন হোমোজাইগাস প্রকট থাকলেও তার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ ব্যর্থ হয়। আর যে ক্ষেত্রে এপিস্টেটিক জিন প্রচ্ছন্ন হিসেবে থাকে সে ক্ষেত্রে হাইপোস্ট্যাটট্রিক জিন কার্যকরী হয়। ফলে অনুপাতে ভিন্নতা আসে।
সুতরাং উপরোক্ত বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় যে ঘটনাটি মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রম।