| ㅤ | A. Nayan10 Oct 2026 (3 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ বরিশাল বোর্ড ২০১৯ – পরিবেশ রসায়ন, রসায়ন, রসায়ন ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
বর্জ্য পানির নমুনার বিয়োজনযোগ্য ও অযোগ্য জৈব দূষকসমূহের যে অংশ এসিডীয় কর্তৃক জারণের প্রতি সংবেদনশীল সে অংশকে জারিত করতে যে পরিমাণ অক্সিজেন প্রয়োজন তাকে রাসায়নিক অক্সিজেন চাহিদা বা COD বলে।
জৈব যৌগের অ্যারোমেটিসিটি ব্যাখ্যার জন্য বিজ্ঞানী হাকেল কর্তৃক প্রদত্ত নিয়মকে হাকেলের নীতি বলে । এ তত্ত্বানুসারে-
যৌগের অণু একটি সমতলীয় চাক্রিক কাঠামো বিশিষ্ট, যার উপরে ও নিচে সঞ্জারণশীল ইলেকট্রন মেঘ বিস্তৃত থাকে।
আণবিক অরবিটালে সংখ্যক সঞ্চারণশীল ইলেকট্রন থাকে। এখানে, একটি পূর্ণসংখ্যা যার মান . ইত্যাদি হতে পারে।
লুইস মতবাদ অনুসারে উদ্দীপকের বিক্রিয়া দুটিকে অম্ল-ক্ষারক বিক্রিয়ারূপে চিহ্নিত করা যায়। নিচে ব্যাখ্যা করা হলোলুইস এসিড হলো এমন যৌগ বা আয়ন যা একটি ইলেকট্রন জোড় গ্রহণ করে। আবার, লুইস ক্ষারক হলো এমন যৌগ বা আয়ন যা একটি ইলেকট্রন জোড় দান করে। উদ্দীপকের (i) নং বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে, দ্বিবন্ধনযুক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইড ( ) অণুতে কম তড়িৎ ঋণাত্মক C পরমাণুতে আংশিক ধনাত্মক চার্জ সৃষ্টি হয়। তাই থেকে ঐ C পরমাণু ইলেকট্রন জোড় শেয়ার করে সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ হয় । তখন দ্বিবন্ধনের একটি শেয়ারকৃত ইলেকট্রন জোড় ঐ। পরমাণুতে স্থানান্তরিত হয় ।
এখানে ইলেকট্রন জোড় গ্রহণকারী হলো লুইস এসিড এবং ইলেকট্রন জোড় দাতা হলো ক্ষারক। উদ্দীপকের (ii) নং বিক্রিয়ার ক্ষেত্রে, পানি ও এর লুইস অম্ল ক্ষারক বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে ক্ষারকরূপে একটি ইলেকট্রন জোড় আংশিক ধনাত্মক S পরমাণুকে দান করে আবদ্ধ হয় । তাই হলো এসিড ।
উদ্দীপকের গ্যাস দুটি হলো যথাক্রমে কার্বন ডাইঅক্সাইড ও সালফার ডাইঅক্সাইড । নিচে পরিবেশের উপর এদের বিরূপ প্রভাবের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
গ্যাসের পরিবেশের উপর প্রভাব: পরিবেশে বৃদ্ধি পেলে
পরিবেশের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। ফলে পরিবেশ যেসব
সমস্যার সম্মুখীন হবে-
১. তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী নিচু ধান উৎপাদক জমির পরিমাণ হ্রাস পাবে।
২. সামুদ্রিক পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং দ্রবীভূত এর মাত্রা হ্রাসের জন্য সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র বিপন্ন হবে এবং অসংখ্য জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী প্রজাতি চিরতরে হারিয়ে যাবে।
৩. মানুষের স্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। বিভিন্ন জটিল রোগ যেমন- ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, হাঁপানি, অ্যালার্জি, বিভিন্ন চর্ম রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটবে।
৪. প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- সাইক্লোন, টর্নেডো, সুনামির প্রবণতা বাড়বে।
গ্যাসের পরিবেশের উপর প্রভাব পরিবেশ তথা মানুষ ও
উদ্ভিদের উপর সালফার ডাইঅক্সাইড ও সালফার ট্রাইঅক্সাইডের বিরূপ ক্ষতিকারক প্রভাব রয়েছে। যেমন:
১. এর প্রভাবে নাকে ও চোখে জ্বালা, শ্বাসনালিতে প্রদাহ এবং ব্রংকাইটিস ও হাঁপানি রোগ সৃষ্টি হয়।
২. এর প্রভাবে ক্ষতিকারক এসিড বৃষ্টি হয়। ফলে সবুজ গাছপালা ও ফসল ঝলসে যায়, জলাশয়ের মাছ মারা যায় এবং দালান কোঠার ক্ষয় সাধিত হয়।
৩. অধিক ঘনত্বে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে। যেমন: এই গ্যাসের প্রভাবে পাতার আন্তঃ শিরাস্থানের স্থানে স্থানে কোষের সবুজ রঞ্জক ক্লোরোফিলের পরিমাণ কমে যায়। ফলে ঐ স্থানে সবুজ বা হলুদ বর্ণের দাগ সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে পাতার কোষগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে মারা যায়। অবশেষে পাতা শুকিয়ে যায়।
8. গ্যাস উদ্ভিদের শ্বসন ও সালোকসংশ্লেষণে বিঘ্ন ঘটায়। ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা কমে যায়।