| ㅤ | A. Nayan29 Oct 2026 (3 hours ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ বরিশাল বোর্ড ২০২২ – যৌক্তিক বিভাগ, যুক্তিবিদ্যা, যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ২
যৌক্তিক বিভাগে একটি মূলসূত্র থাকে।
ব্যক্ত্যর্থ না থাকার কারণে কোনো বিশিষ্ট বস্তুকে বিভাজন করা সম্ভব নয়। যৌক্তিক বিভাগে জাতি বা শ্রেণিবাচক পদকে বিভিন্ন উপজাতি বা উপশ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এ কারণে বিশিষ্ট বস্তু হিসেবে টেবিল, চেয়ার, বই ইত্যাদি পদের যৌক্তিক বিভাগ করা যায় না। কারণ, এসব পদের ব্যক্ত্যর্থ নেই।
ছক-২ এ দ্বিকোটিক বিভাগের প্রতিফলন ঘটেছে।ব্যাখ্যা করা হলো-
ব্রিটিশ যুক্তিবিদ জেরেমি বেনথাম সর্বপ্রথম দ্বিকোটিক বিভাগের ধারণা প্রবর্তন করেন। দ্বিকোটিক বিভাগে একটি শ্রেণিবাচক বা জাতিবাচক পদকে দুটি বিরুদ্ধ পদ বা উপজাতিতে ভাগ করা হয়। যাদের একটি হয় সদর্থক পদ অপরটি নঞর্থক পদ। যেমন- মানুষকে সুন্দর ও অসুন্দর এ দুটি পরস্পর বিরুদ্ধ পদে বিভক্ত করার প্রক্রিয়া হলো দ্বিকোটিক বিভাগ।
ছক-২ এ দার্শনিক পদকে প্রথমে অশিক্ষিত ও শিক্ষিত পদে, এরপর অবাংলাদেশি ও বাংলাদেশি পদে বিভক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি বিভক্তির উপজাতিগুলো পরস্পর বিরুদ্ধ পদ। এ কারণে ছক-২ এ দ্বিকোটিক বিভাগের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ছক-১ হলো যৌক্তিক বিভাগ এবং ছক-২ দ্বিকোটিক বিভাগের দৃষ্টান্ত। ছক-১, ছক-২ এর চেয়ে যৌক্তিক।নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
ছক-১ এ সততা নামক একটি নীতি বা সূত্রের ওপর ভিত্তি করে মানুষ পদকে অসৎ মানুষ ও সৎ মানুষ পদে বিভক্ত করা হয়েছে। পদের এই বিভক্তকরণ প্রক্রিয়াকে বলে যৌক্তিক বিভাগ। এই বিভাগের মাধ্যমে জাতি এবং উপজাতির মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক সম্বন্ধে জানা যায়। যৌক্তিক বিভাগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতিবাচক বা শ্রেণিবাচক পদকে তার অন্তর্গত বিভিন্ন উপজাতি বা উপশ্রেণিতে বিভক্ত করা হয় যা একটি সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া। কেননা এই বিভাগ প্রক্রিয়ায় ছয়টি নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।
অন্যদিকে, ছক-২ এ উল্লেখিত দ্বিকোটিক বিভাগ একটি আকারগত প্রক্রিয়া। এখানে কোনো পদকে বিভক্ত করতে বাস্তব জ্ঞানের প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ দ্বিকোটিক বিভাগে বস্তুগত মূল্য নেই। পাশাপাশি এ বিভাগ প্রক্রিয়ায় প্রতিটি স্তরে নঞর্থক পদটি একটি অস্পষ্ট ও অনির্দিষ্ট পদ। এটি শুধু সদর্থক পদের বিরুদ্ধ পদ সৃষ্টির জন্যই ব্যবহৃত হয়। এমনকি এ ধরনের পদের বাস্তব অস্তিত্ব আছে কি-না তা পরীক্ষা করে দেখা হয় না। - যেমন- ছক-২ এ উল্লেখিত 'অবাংলাদেশি' ও 'বাংলাদেশি' উপজাতির ক্ষেত্রে 'অবাংলাদেশি' বলতে কাদেরকে বোঝানো হয় তা সুস্পষ্ট হয় না। এ কারণে দ্বিকোটিক বিভাগ একটি অনির্দিষ্ট এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়া। উল্লেখিত অসুবিধার কারণে বলা যায়, ছক-১, ছক-২ এর চেয়ে যৌক্তিক।