| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ বরিশাল বোর্ড ২০২২ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্য এক বংশধর থেকে পরবর্তী বংশধরে যে কোডের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয় তাকে জেনেটিক কোড বলে।
mRNA থেকে প্রোটিন সংশ্লেষনের প্রাক্রিয়াকে বলা হয় ট্রান্সলেশন। DNA এর ভাষাকে mRNA এর মাধ্যমে প্রোটিনের ভাষায় অনুবাদ বা রুপান্তর করাকে ট্রান্সলেশন বলে। ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়ায় mRNA, tRNA, বিভিন্ন প্রকার অ্যামাইনো এসিড, এনজাইম ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত S হলো RNA.
রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (সংক্ষিপ্তকরণে আরএনএ বা RNA) হল একটি নিউক্লিক অ্যাসিড যা সরাসরি প্রোটিন সংশ্লেষণের সাথে জড়িত এবং পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ শ্যুগার, নাইট্রোজেন বেস (A TGC) এবং ফসফেট নিয়ে RNA গঠিত ।
গঠন ও কাজের ভিত্তিতে RNA-কে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
(i) বার্তাবহ RNA (Messenger RNA /mRNA): এর প্রধান কাজ হলো বার্তা বহন করা । mRNA প্রোটিন তৈরির জন্য আমাদের ডিএনএ, জেনেটিক উপাদান থেকে নির্দেশনা বহন করে। এটি একটি বার্তাবাহকের মতো কাজ করে, নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরির ব্লুপ্রিন্টবা রেসিপি বহন করে যা আমাদের দেহের কাজ করার জন্য প্রয়োজন।
(ii) ট্রান্সফার RNA বা tRNA): যে সব RNA জেনেটিক কোড অনুযায়ী একেকটি অ্যামিনো অ্যাসিডকে mRNA অণুতে স্থানান্তর করে প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে সেগুলোকে ট্রান্সফার RNA বলে। এর কাজ হলো প্রোটিন সংশ্লেষণের সময় জেনেটিক কোড অনুযায়ী অ্যামিনো অ্যাসিডকে mRNA অণুতে স্থানান্তর করা।
(iii) রাইবোসোমাল RNA বা rRNA: যে সব RNA রাইবোসোমের প্রধান গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে, তাকে রাইবোসোমাল RNA বলে ।কোষের রাইবোসোমে এদের অবস্থান।এর কাজ রাইবোসোম সৃষ্টিতে অবদান রাখা যার মাধ্যমে কোষে প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়।
(iv) বংশগতীয় RNA (Genetic RNA বা gRNA); এটি ডিএনএ থেকে রাইবোসোমে জেনেটিক তথ্য বহন করে, যা প্রোটিন তৈরির জন্য দায়ী । কোনো কোনো ক্ষেত্রে বংশগতির বস্তু হিসেবেও কাজ করে ।
(v) মাইনর RNA (Minor RNA): এর কাজ হলো বিভিন্ন ধরনের এনজাইমের কাঠামো দান করা এবং এনজাইম হিসেবে কাজ করা।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত R হলো DNA.
ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড অর্থাৎ DNA একটি নিউক্লিক এসিড যা জীবদেহের গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণের জিনগত নির্দেশ ধারণ করে। সকল জীবের ডিএনএ জিনোম থাকে।
DNA কে বংশগতির ধারক ও বাহক বলা হয়। এছাড়াও অনেক গুরুত্বপূর্ন কাজ DNA করে থাকে যেমন-
১। DNA ক্রোমোসোমের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
২। এটি বংশগতির আণবিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
৩। জীবের সকল বৈশিষ্ট্য ধারণ করে এবং নিয়ন্ত্রণ করে।
৪। জীবের বৈশিষ্ট্যসমূহ বংশপরম্পরায় স্থানান্তর করে।
৫। জীবের যাবতীয় বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায়।
৬। জীবের সকল শারীরতাত্ত্বিক ও জৈবিক কাজকর্মের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে।
৭। জীবের পরিবৃত্তির ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
৮। জীবকোষের জৈবিক সংকেত প্রেরক হলো DNA।
৯। DNA-রেপ্লিকেশন বা প্রতিলিপন প্রক্রিয়া জীবের জাতিসত্ত্বা অটুট রাখে এবং প্রজাতি শনাক্তকরণে DNA ভূমিকা রাখে।
সুতরাং বলা যায়, জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় DNA এর ভূমিকা অপরিসীম।