| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৩ – চলন ও অঙগচালনা, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৭
দেহের অঙ্গ সঞ্চালনে অংশগ্রহণকারী জোড় কঙ্কালপেশি দুটি পরস্পরের বিপরীতমুখী কাজ করে। এধরনের বিপরীতধর্মী কাজ সম্পাদনকারী পেশি দুটি একটি অপরটির অ্যান্টাগোনিস্টিক পেশি বলে।
হৃদপেশী তে ইন্টারক্যালাটেড ডিস্ক থাকে । এবং এ পেশী শাখাস্বিত। একদিকের পেশী ক্লান্ত হতে গেলে আরেক পেশীকোষের নিউক্লিয়াস ইন্টারক্যালাটেড ডিস্ক এর মাধ্যমে অন্য পেশীর কাজ করে দিতে পারে। আর অন্য পেশীর ক্লান্ত হওয়ার কারণ ল্যাকটিক এসিড ৷ কিন্তু হৃদপেশী র অতিরিক্ত মাইটোকন্ট্রিয়া ল্যাকটিক এসিডকেও গ্লুকোজের মতো ব্যবহার করে শক্তি উৎপন্ন করতে পারে৷ তাই হৃদপেশী কখনো ক্লান্ত হয় না।
উদ্দীপকে উল্লিখিত “P” দ্বারা অস্থিকে বুঝানো হয়েছে। অস্থির গাঠনিক একক হলো হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র । নিচে অস্থির সূক্ষমম গঠন অর্থাৎ হ্যাভারসিয়ান তন্ত্রের গঠন বর্ণনা করা হলো-নিরেট অস্থির গঠন ও কার্যরত একক হলো হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র । নিরেট অস্থির ম্যাট্রিক্স কতগুলো স্তরে সাজানো থাকে এ স্তরগুলোকে ল্যামেলি বলে। ল্যামেলি একটি সুষ্পন্ট নালির চারদিকে চক্রাকারে বিন্যস্ত । কেন্দ্রীয় এ নালিটি হলো হ্যাভারসিয়ান নালি। প্রতিটি হ্যাভারসিয়ান নালি এবং একে বেষ্টনকারী ল্যামেলির সমন্বয়ে একটি হ্যাভারসিয়ান তন্ত্র বা অস্টিওন গড়ে ওঠে ৷ আবিষ্কারক ক্লোপটন হ্যাভারস এর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে। প্রত্যেক ল্যামেলায় ল্যাকুনা নামে কতগুলো ক্ষুদ্র গহ্বর পাওয়া যায়। অস্থিকোষ ল্যাকুনার ভিতরে অবস্থান করে। প্রতিটি ল্যাকুনার চারদিক থেকে সুক্ষ্ম কতগুলো নালিকা বের হয় এদের ক্যানালিকুলি বলে। এসব নালিকার মাধ্যমে একটি হ্যাভারসিয়ান তন্ত্রের বিভিন্ন ল্যাকুনা পরস্পরের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। অস্থির অভ্যন্তরে হ্যাভারসিয়ান নালিগুলো পরস্পরের আড়াআড়ি নালি দিয়ে যুক্ত থাকে৷ এসব নালিকে ভকম্যানস ক্যানাল বলে ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'P' ও 'R'দ্বারা অস্থি এবং 'Q' দ্বারা পেশী টিস্যুকে বুঝানো হয়েছে। উর্ধ্ববাহুর বাইসেপস ও ট্রাইসেপস আ্যান্টাগোনিস্টিক পেশি-জোড়ার কার্যাবলি থেকে “পেশিতে টান পড়ে কিন্তু ধাক্কা, দেয় না । এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা করা যায়। বিষয়টি নিম্নরূপ-
আমাদের হাত পা সঞ্চালনের জন্য বিপরীতধর্মী জোড়া জোড়া পেশি কাজ করে । এদের একটিকে অপরটির আ্যান্টাপোনিস্টিক পেশি বলে । এদের একটি যখন সংকুচিত হয় । অন্যটি তখন শিথিল হয়৷ এ ঘটনা পর্যায়ত্রুমে সংঘটিত হয়। হাতের সামনে অবস্থিত বাইসেপস পেশির এক প্রান্ত স্ক্যাপূলার সঙ্গে ও অন্য প্রান্ত রেডিয়াস অস্থির সাথে যুক্ত থাকে। বাইসেপস পেশি সংকুচিত হলে কনুইসন্থি ভাজ, রেডিয়াস ও আলনার স্ক্যাপুলার দিকে উত্তোলিত হয়। ফলে হাত বাকানো সম্ভব হয়। এই প্রক্রিয়াকে ফ্লেক্সন বলে এবং পেশিকে ফ্লেক্সর পেশি বলে। বাইসেপস এর আ্যান্টাপোনিস্টিক পেশি হলো ট্রাইসেপস যা হিউমেরাসের পিছন দিকে অবস্থিত। এর এক প্রান্ত স্ক্যাপুলা ও হিউমেরাসের সাথে এবং অন্যপ্রান্ত আলনার সাথে সংযুক্ত থাকে৷ এ পেশির সংকোচনে হাত পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে । আর এই পেশি কনুই সন্থিকে প্রসারিত করে। তাই একে এক্সটেনসর পেশি বলে। ৷ ফ্লেক্সর ও এক্সটেনসর পেশি একসঙ্গে পরস্পর বিরোধি কাজ করে ৷ অর্থাৎ বাইসেপস পেশি সংকুচিত হলে ট্রাইসেপস শ্লথ হয় আবার ট্রাইসেপস পেশি সংকুচিত হলে বাইসেপস পেশি শ্লথ হয়। ফলে হাত বাকানো ও সোজা করা সম্ভবপর হয়ে থাকে। এসব কারণে সংকোচনের জন্য পেশিতে টান পড়লেও ধাক্কা লাগে না।