শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য প্রক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে এমন শক্তিসমৃদ্ধ যৌগই হলো জৈবমুদ্রা।
ভুট্টাকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়, কারণ ভুট্টা উদ্ভিদে C4 গতিপথ সংঘটিত হয়। সালোকসংশ্লেষনের ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ 4 কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো এসিটিক এসিড হওয়ায় ক্যালভিন চক্রকে C4 গতিপথ বলা হয়। তাই C4 গতিপথখ যে উদ্ভিদে সংঘটিত হয় সেই উদ্ভিদকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে চিত্র-E এ সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া সংঘটিত হয়। এ প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তির প্রবাহচিত্র নিচে দেওয়া হলো-
উদ্দীপকের রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্বারা সবাত শ্বসনকে বোঝানো হয়েছে। সবাত শ্বসন পরোক্ষভাবে সৌরশক্তির উপর নির্ভরশীল। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
সবাত শ্বসনের শ্বসনিক বস্তু হলো গ্লুকোজ। গ্লুকোজ ০২-এর উপস্থিতিতে সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে CO₂, পানি এবং ATP তথা শক্তি (E) উৎপন্ন করে। সবাত শ্বসন চারটি ধাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। যথা- গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল Co-A সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র এবং ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র। সবাত শ্বসনের উল্লিখিত ধাপগুলো তখনই সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে যখন শ্বসনিক বস্তু গ্লুকোজ ঠিকভাবে তৈরি হবে। গ্লুকোজ তৈরি না হলে উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি অর্থাৎ সবাত শ্বসন সম্ভব নয়। আবার উদ্ভিদ কেবলমাত্র সৌরশক্তির উপস্থিতিতেই CO₂ ও পানির রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গ্লুকোজ তৈরি করতে পারে। সালোকসংশ্লেষণের সময় সৌরশক্তি গ্লুকোজের মধ্যে স্থৈতিক শক্তিরূপে আবদ্ধ থাকে যা শ্বসনের সময়
তাপশক্তিরূপে উদ্ভূত হয়ে রাসায়নিক শক্তিরূপে (ATP) মুক্ত হয়।
এ আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, সৌরশক্তির অনুপস্থিতিতে গ্লুকোজ তৈরি সম্ভব নয়। আবার গ্লুকোজ তৈরি না হলে উদ্দীপকের সবাত শ্বসন প্রক্রিয়াটিও অসম্ভব। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দীপকের প্রক্রিয়াটি অর্থাৎ সবাত শ্বসন পরোক্ষভাবে সৌরশক্তির উপরই নির্ভরশীল।
