জীববিজ্ঞানের যে সকল শাখায় জীবন-সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয়সমূহ আলোচিত হয় তাকে ফলিত জীববিজ্ঞান বলে।
যে সকল কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত হয় তাদেরকে প্রকৃত কোষ বলে। এ ধরনের কোষে রাইবোজোমসহ সকল কোষীয় অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। পেঁয়াজের কোষেও প্রকৃত কোষের ন্যায় সুগঠিত নিউক্লিয়াস, কোষীয় অঙ্গাণু ইত্যাদি থাকে। তাই পেঁয়াজ কোষকে প্রকৃত কোষ বলা হয়।
উদ্দীপকে রাজ্য-৫ তথা অ্যানিমেলিয়া রাজ্যে বানরের অবস্থান।
নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-
১. এরা নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ও বহুকোষী প্রাণী।
২. এদের কোষে কোনো জড় কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষগহ্বর নেই।
৩. প্লাস্টিড না থাকায় এরা হেটারোট্রোফিক অর্থাৎ পরভোজী এবং খাদ্য গলাধঃকরণ করে, দেহে জটিল টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান।
৪. এরা প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
৫. ডিপ্লয়েড স্ত্রী-পুরুষ থেকে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট সৃষ্টি হয়।
৬. ভূণ বিকাশকালীন সময়ে ভ্রূণীয় স্তর সৃষ্টি হয়।
উল্লেখিত সকল বৈশিষ্ট্য বানরের মধ্যে বিদ্যমান। তাই বানর অ্যানিমেলিয়া রাজ্যে অবস্থান করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ৩ নম্বর রাজ্যটি হলো ফানজাই এবং ৪ নম্বর রাজ্যটি হলো প্লানটি। রাজ্য দুটির মধ্যে প্লানটি রাজ্যটি ফানজাই রাজ্য থেকে উন্নত। নিচে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো-
ফানজাই রাজ্য : অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী এরা এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত। এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত। এদের খাদ্য গ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। এই রাজ্যের জীবের ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। এরা হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ঘটায়।
প্লানটি রাজ্য : প্রধানত স্থলজ, তবে অসংখ্য জলজ প্রজাতি আছে। এরা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ। এদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। এদের ভূণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়। এদের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস। এরা আর্কিগোনিয়েট অর্থাৎ স্ত্রীজনন অঙ্গ বিশিষ্ট এবং সপুষ্পক উদ্ভিদ।
উপরোক্ত আলোচ্য রাজ্য দুটির বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, প্লানটি রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো উন্নত জীবদের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অপরদিকে ফানজাই রাজ্যের বৈশিষ্ট্যে উন্নত জীবদের কোনো বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়নি। তাই বলা যায়, প্লানটি রাজ্য ফানজাই রাজ্য অপেক্ষা উন্নত।
