কোনো তরলকে তাপ প্রদানের মাধ্যমে বাষ্পে পরিণত করে তাকে পুনরায় শীতলীকরণের মাধ্যমে তরলে পরিণত করার পদ্ধতিকে পাতন বলে।
দুই বা ততোধিক মৌলের একাধিক পরমাণু একত্রে যুক্ত হয়ে একটি গ্রুপ গঠন করে, যা বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সময় অপরিবর্তিত থেকে একটিমাত্র পরমাণুর ন্যায় আচরণ করে। ঐ গ্রুপটিকে যৌগমূলক বলে।
একটি যৌগমূলক। এখানে N ও H এই দুটি মৌল পরস্পর যুক্ত হয়ে আয়ন গঠন করে যা একটি যৌগমূলক। এর চার্জ + 1। আয়ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার সময় একটি পরমাণুর ন্যায় আচরণ করে।
উদ্দীপকের B ও D তৃতীয় পর্যায়ের 2নং ও 17নং গ্রুপের মৌল দুটি যথাক্রমে Mg ও । মৌলদ্বয় আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে।
নিচে ইলেকট্রন বিন্যাস ও ডায়াগ্রাম অঙ্কন করে যৌগটির বন্ধন গঠন প্রক্রিয়া বর্ণনা করা হলো-
Mg ও Cl মৌল দুটির ইলেকট্রন বিন্যাস নিম্নরূপ-
অর্থাৎ ম্যাগনেশিয়ামের সর্ববহিঃস্থ স্তরে 2টি এবং ক্লোরিন পরমাণুর বহিঃস্থ স্তরে টি ইলেকট্রন বিদ্যমান। রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সময় Mg পরমাণু তার সর্ববহিঃস্থ স্তরের ২টি ইলেকট্রন CI পরমাণুকে দান করে অষ্টক পূর্ণ করে এবং নিষ্ক্রিয় গ্যাস নিয়নের (Ne) ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জন করে আয়নে পরিণত হয় । অন্যদিকে 2 টি Cl পরমাণুর প্রত্যেকে 1 টি করে Mg প্রদত্ত ইলেকট্রন গ্রহণ করে অষ্টক পূর্ণ করে নিষ্ক্রিয় গ্যাস আর্গনের (Ar) ইলেকট্রন বিন্যাস অর্জন করে আয়নে পরিণত হয়। এখন বিপরীতধর্মী ধনাত্মক আয়ন এবং দুটি ঋণাত্মক আয়ন স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণের দ্বারা আবদ্ধ হয়ে আয়নিক যৌগ গঠন করে।
উদ্দীপকের A, C ও D মৌলসমূহ যথাক্রমে ও এবং এ মৌলসমূহের বিন্যাস নিম্নরূপ :
পরমাণুর আকার/ব্যাসার্ধ ও তড়িৎ ঋণাত্মকতা একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। যেকোনো পর্যায়ের যতই বামদিক হতে ডানদিকে যাওয়া যায় পরমাণুর আকার তত কমতে থাকে। আবার একই পর্যায়ের বাম দিক থেকে যত ডান দিকে যাওয়া যায় পারমাণবিক সংখ্যা ততই বাড়তে থাকে কিন্তু প্রধান শক্তিস্তর বাড়ে না। পারমাণবিক সংখ্যা বাড়লে পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন সংখ্যা ও সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। পরমাণুর নিউক্লিয়াস কর্তৃক আকর্ষিত হয় বেশি। ফলে পরমাণুর আকার হ্রাস পায়। অর্থাৎ মৌলসমূহের পরমাণুর ক্রম হবে-
Na > S > Cl
অপরদিকে একই পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে পরমাণু সমূহের আকার কমে। পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে নিউক্লিয়াস কর্তৃক বেশি আকর্ষিত হয়। অর্থাৎ পরমাণুর আকার ছোট হলে তড়িৎ ঋণাত্মকতার মান বাড়ে এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি হলে তড়িৎ ঋণাত্মকের মান কমে। সুতরাং মৌলসমূহের তড়িৎ ঋণাত্মকতার ক্রম হবে-
Cl > S > Na
অতএব, Na, S ও CI মৌলসমূহের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ ও তড়িৎ ঋণাত্মকতার ক্রম ভিন্ন হবে।
