| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৩ – প্রাণীর বিভিন্নতা ও শ্রেণিবিন্যাস, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১
পরিফেরা পর্বের অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত দেহ প্রাচীরকে অস্টিয়া বলে।
কোনো প্রাণীর দৈহিক গঠন যদি এমন হয় যে একে একাধিক বার কেন্দ্রীয় অংশ বরাবর সমান ভাগে ভাগে করা যায়, তবে তাকে অরীয় প্রতিসম প্রাণী বলে। তারা মাছের পাচটি সমান বাহু আছে, ফলে এটি একাধিকবার সমান ভাগে ভাগ করা যায়। তাই তারা মাছকে পঞ্চঅরীয় প্রাণী বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'X' পর্বটি হচ্ছে Platyhelminthes. নিচে উক্ত পর্বটির বৈশিষ্ট লিখা হলো:
১. এদের দেহ অখস্তিত, দ্বিপাশ্বীয় প্রতিসম।
২. এরা ত্রিস্তর বিশিষ্ট প্রাণী।
৩. অযৌন ও যৌন পদ্ধতিতে জননকার্য সম্পূর্ণ করে।
৪. দেহ আ্যাসিলোমেট
৫. রেচনতন্ত্র শিখা কোষ নিয়ে গঠিত।
৬. দেহ নরম, লম্বা, পৃষ্ঠ-অদ্বীয় তল বরাবর পাতা বা ফিতার মত চ্যাপ্টা।
৭. দেহের ফাঁকে ফাঁকে প্যারেনকাইমা নামক যোজক কলা থাকে
৮. পৌষ্টিকতন্তর, শ্বসনতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র অনুপস্থিত ।
৯. জীবনচক্রে একটি অথবা দুটি পোষকের মধ্যে ঘটে এবং একাধিক লারা দশাযুক্ত।
উদ্দীপকে ‘Y’ নেমাটোডা আর ‘Z’ অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণী। এদের মধ্যে ‘Z’ অর্থাৎ অ্যানিলিডা পর্বের প্রাণী ‘Y’ নেমাটোডা প্রাণী অপেক্ষা বেশি উন্নত। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
নেমাটোডা পর্বের প্রাণীগুলো সুতাকৃমি বা গোল কৃমি নামে পরিচিত। এরা অঙ্গ-তন্ত্র গঠন মাত্রার প্রাণী। এ পর্বের শনাক্তকৃত অধিকাংশ প্রাণী বিভিন্ন জীবদেহে পরজীবী।এদের দেহ নলাকার, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, উভয় প্রান্তই ক্রমশ সরু ও মধ্যভাগ চওড়া। প্রানীরা স্যুডোসিলেমেট ও অখন্ডকায়িত। দেহ নমনীয়, ইলাস্টিন নির্মিত অকোষীয়, পুরু প্রতিরোধক্ষম কিউটিকল দিয়ে আবৃত। দেহপ্রাচীর শুধু অনুদৈর্ঘ্য পেশি থাকে, বৃত্তাকার পেশি থাকে না। এদের শ্বসনতন্ত্র ও সংবহনতন্ত্র অনুপস্থিত। এ পর্বের অধিকাংশ প্রাণী একলিঙ্গ, যৌন দ্বিরূপতা দেখা যায়। এদের জীবনচক্রে রাবডিটিফর্ম বা মাইক্রোফাইলেরিয়া লার্ভা দশা বর্তমান।
অ্যানিলিডা প্রাণী দৈহিক গড়নের দিক থেকে অনন্য। অঙ্গ-তন্ত্র মাত্রার গঠন ছাড়াও প্রাণিগুলো দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম ও ত্রিস্তরবিশিষ্ট। অ্যানিলিডে আগের পর্বগুলোর চেয়ে অধিকতর কেন্দ্রীভূত স্নায়ুতন্ত্র এবং জটিলতর সংবহনতন্ত্র বিবর্তনের গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এদের দেহে প্রকৃত খন্ডকায়ন উপস্থিত, আংটির মতো অনেকগুলো একই রকম খন্ডক নিয়ে দেহ গঠিত। এদের চলন অঙ্গ কাইটিনময় সিটি বা পেশল প্যারাপোডিয়া অথবা অনুপস্থিত। দেহের প্রায় প্রতিটি খন্ডকে অবস্থিত নেফ্রিডিয়া নামক প্যাচানো নালিকা প্রধান রেচন অঙ্গ হিসেবে কাজ করে। এজন্য নেফ্রেডিয়াকে সেগমেন্টাল অর্গান বলা হয়। এদের রক্তসংবহনতন্ত্র বদ্ধ প্রকৃতির, রক্তের বর্ণ লাল। রক্তরসে হিমোগ্লোবিন, হিমোএরিথ্রিন অথবা ক্লোরোক্রুয়োরিন দ্রবীভূত অবস্তায় থাকে।