| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বেলতলী গ্রামে বেলায়েতের…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বেলতলী গ্রামে বেলায়েতের বাস। গ্রামের মানুষ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। গ্রামবাসী বিশ্বাস করে ‘কাক ডাকলে দুঃখ আসে’ ‘পিছন থেকে ডাকলে বিপদ আসে। “শিয়াল দেখলে অমঙ্গল হয়’ ইত্যাদি। বেলায়েত দেখেছে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের এই সংস্কার কাজে লাগিয়ে এক পির ব্যবসা করে যাচ্ছে। পিরের কবল থেকে গ্রামের মানুষকে উদ্ধারের জন্য, বিজ্ঞানমনস্ক করার তাগিদে একটি আধুনিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর হয়ে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
'লালসালু' উপন্যাসে হাসপাতালের অবস্থান করিমগঞ্জে।
"কিন্তু মানুষের ফোঁড়া হইলে সে ফোঁড়া ধারালো ছুরি দিয়া কাটিতে হয়।" - এ কথা মজিদ জমিলাকে বলেছিল।
মজিদ জমিলাকে বলেছিল জমিলার সাথে জিন রয়েছে। তাই তাকে সে শক্ত করে মাজারে বেঁধে রাখে। এর পর বলেছিল "তোমারে কষ্ট দিতেছি তার জন্য দিলে কষ্ট হইতেছে। কিন্তু মানুষের ফোঁড়া হইলে সে ফোঁড়া ধারাল ছুরি দিয়া কাটতে হয়, জিনের আছর হইলে বেত দিয়া চাবকাইতে হয়, চোখে মরিচ দিতে হয়।"
মজিদ তার হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য জমিলার উপর এহেন অত্যাচার করেছিল।
উদ্দীপকের বেলায়েতের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস আলীর চরিত্রের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস আলী একজন স্বল্পশিক্ষিত কিন্তু সচেতন ও বিজ্ঞানমনস্ক ব্যক্তি। সে চায় এলাকায় একটি স্কুল স্থাপন করতে, যেন এলাকার মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা জন্ম নেয়। আক্কাস আলীর গ্রামে বিদ্যমান কুসংস্কারের জন্য সেখানে মাজার ব্যবসায়ী মজিদ শিকড় গেড়ে বসে। আক্কাস আলীর প্রস্তাব অনুসারে স্কুল স্থাপিত হলে তার ব্যবসায় মন্দা আসতে পারে ভেবে সে আক্কাস আলীর পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়।
উদ্দীপকের বেলায়েত এর গ্রামের মানুষ কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তাদের কুসংস্কারের কারণে গ্রামের এক পীর লাভবান হচ্ছে। বেলায়েত চায় তার গ্রামের মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতার জন্ম হোক। তাই সে এলাকায় একটি স্কুল করতে চায়, কিন্তু তার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। তাই বলা যায়, সচেতন মন, গ্রামের মানুষের কল্যাণকামনা ও শেষ পর্যন্ত নিজের সৎ পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার দিক থেকে উদ্দীপকের বেলায়েত চরিত্রের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসের চরিত্রটিই প্রাসঙ্গিক।
সময়ের আবর্তে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দিক' থেকে আমরা অনেক এগিয়ে গেলেও আমাদের সমাজে কুসংস্কার আগের মতোই আছে।
'লালসালু' উপন্যাসের সমাজ কুসংস্কারে আচ্ছন্ন, গাছের শিকড়ের মতো এই সমাজে জাল বিস্তার করে আছে কুসংস্কার। পরিত্যক্ত জায়গার পুরোনো কবরের আধ্যাত্মিক শক্তি আছে বলে গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করে। সন্তানহীন নারীরা চিকিৎসা না করিয়ে পীরের কাছ থেকে পানিপড়া আনে। এ গ্রামে নতুন কোনো শিক্ষাকে স্বাগত জানানো হয় না, ফলে কোনো স্কুলও প্রতিষ্ঠিত হয় না।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বেলতলী গ্রামের মানুষের মাঝে যুক্তিগত চিন্তা খুবই কম। তারা বিশ্বাস করে কাক ডাকলে দুঃখ আসে। শিয়াল দেখলে অমঙ্গল হয়। তাদের এই কুসংস্কারের সুযোগ নিয়ে ধূর্ত পীর ব্যবসা চালিয়ে যায়।
'লালসালু' উপন্যাসের সমাজে কোনো আধুনিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে দেওয়া হয় না। আধুনিক শিক্ষা সমাজে পরিবর্তন আনতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় গোড়ামির জন্য সমাজের মানুষ সেই শিক্ষাকে প্রয়োজনীয় মনে করেনা। নতুন জ্ঞানকে তারা তাদের পুরোনো আচার ব্যবস্থার প্রতিপক্ষ ভেবে নেয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা কুসংস্কারকে মানুষ বিসর্জন দিতে ভয় পায়। উদ্দীপকেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায়, সময়ের বিবর্তন হলেও কুসংস্কার আগের মতোই আছে।