| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বহিপীর: ….. বিবি…’ ঢাকা বোর্ড ২০১৭ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বহিপীর: ….. বিবি সাহেব-
তাহেরা: (বাধা দিয়ে উচ্চস্বরে) আমাকে বিবি ডাকবেন না। বিয়েতে। আমি মত দেইনি। আপনার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়নি।
বহিপীর: (একটু রেগে) আপনি মত না দিলেও আপনার বাপজান দিয়েছেন। তাহা ছাড়া সাক্ষী সাবুদ সমেত কাবিননামাও হইয়া গিয়াছে। এখন সেকথা বলিলে চলবে কেন। (সুর বদলিয়ে) দেখুন, মন দিয়া আমার কথা শুনুন।
তাহেরা: (আবার বাধা দিয়ে) আমি আপনার কোনো কথা শুনতে চাই না। আমার বাপজান আর সৎমা আপনাকে খুশি করার জন্য আমাকে আপনার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছেন। আমি যেন কোরবানির বকরি। আপনি পুলিশে খবর দিতে পারেন, আপনি আমার বাপজানকে ডেকে পাঠাতে পারেন, আমার ওপর জুলুম করতে পারেন। কিন্তু আমি আপনার সঙ্গে যাব না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
ধলা মিয়া খালেক ব্যাপারীর দ্বিতীয় স্ত্রী তানু বিবির ভাই।
প্রশ্নোক্ত উক্তিটি দ্বারা এ দেশের প্রান্তিক মানুষের অন্ধ ধর্মবিশ্বাসের দিকটিকে বোঝানো হয়েছে।
গ্রামবাংলায় সাধারণত শিক্ষার আলো জোরালো নয়। এর ফলে সেখানকার অধিকাংশ মানুষ হয় ধর্মান্ধ। তারা উন্নত চাষপদ্ধতি গ্রহণ করে না। খোদার ওপর ভরসা করে চুপ করে বসে থাকে। তাই গ্রামে দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ ও শুরু হয় ক্ষুধার যন্ত্রণা। তখন ধর্মকে কেন্দ্র করে শুরু হয় ব্যবসা, ধর্মের নামে চলে ভণ্ডামি। আলোচ্য উক্তিটি দ্বারা প্রান্তিক মানুষের জীবনে ধর্মের প্রতি অন্ধবিশ্বাস ও ধর্মকেন্দ্রিক ব্যবসার বিষয়টিই বোঝানো হয়েছে।
'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা চরিত্রের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদী ও সাহসীকতার দিকটি পরিলক্ষিত হয়।
'লালসালু' উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা। মজিদ মোদাচ্ছের পীরের মাজারের খাদেম বলে গ্রামের সবাই তাকে মান্য করে। তাই জমিলার মধ্যেও মজিদ ধর্মপালন ও স্বামীর নির্দেশ মেনে চলার মতো বিষয়গুলো আশা করেছিল। কিন্তু জমিলার মধ্যে ছিল কিশোরীর চাঞ্চল্য। ফলে, মজিদ তাকে শাস্তি দিলেও সে তা না মেনে নিজের ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে।
উদ্দীপকের তাহেরা বহিপীরের স্ত্রী। নিজের অমতে বিয়ে হওয়ায় তাহেরা বহিপীরকে স্বামী বলে মানতে চায় না। বহিপীর তাহেরাকে তার সাথে নিয়ে যেতে চাইলে সে যেতে রাজী হয় না বরং মা-বাবা তাকে বৃদ্ধ পীরের সাথে বিয়ে দিয়ে ভুল করেছে বলে সে বহিপীরের কথার প্রতিবাদ করে। আলোচ্য উপন্যাসের জমিলার ক্ষেত্রে বিষয়টা একরকম না হলেও বাবার বয়সি স্বামী মজিদের প্রতি সে শ্রদ্ধশীল হতে পারে না। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে অসম বিয়ে হলেও জমিলা কিংবা তাহেরা কেউই তাদের অসহায়ত্বকে মেনে নেয়নি। তারা নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিবাদী ও সাহসী মনোভাব প্রদর্শন করেছে। নিজেদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে 'লালসালু' উপন্যাসের জমিলা ও উদ্দীপকের তাহেরা দুজনই তাদের সাথে হওয়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে, যা তাদেরকে একে ওপরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।
সৈয়দ ওয়ালীওল্লাহ 'লালসালু' উপন্যাসে গ্রামবাংলার বাস্তব জীবনের চিত্র উপস্থাপন করেছেন।
'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একটি অজ্ঞাত কবরকে মোদাচ্ছের পীরের মাজার বলে মহব্বতনগর গ্রামে এসে নিজের প্রভাব ও প্রতিপত্তি বিস্তার করে। সে গ্রামের মানুষের ধর্মান্ধতার সুযোগে মাজারকে কেন্দ্র করে সবার ওপর কর্তৃত্ব স্থাপন করতে সক্ষম হয়। এমনকি, গ্রামের মাতব্বর খালেক ব্যাপারীর সাথে বিচার-সালিশেও সে অংশ নেয়। আবার, সে সন্তান লাভের আশায় অল্পবয়সি জমিলাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। মহব্বতনগর গ্রামে মজিদের অনেক প্রভাব থাকলেও জমিলা তাকে কোনো গুরুত্ব দেয় না। এ কারণে মজিদ নানারকম অত্যাচার করে জমিলার ওপর।
উদ্দীপকের বৃদ্ধ বহিপীর অল্পবয়সি তাহেরাকে বিয়ে করে। কিন্তু বাবা ও সৎমা পীরকে খুশি করার আশায় তাহেরাকে তার সাথে বিয়ে দিলেও সে এই বিয়ে মেনে নেয় না। এ কারণে বহিপীর যখন তাহেরাকে সাথে করে নিয়ে যেতে চায়, তখন সে এর বিরোধিতা করে। এখানে মূলত তাহেরার স্বাধীনচেতা মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়, যা আলোচ্য উপন্যাসের জমিলার প্রতিবাদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ চরিত্রের ভণ্ডামির দিকটি লক্ষ করা যায়। সে শস্যহীন অঞ্চল থেকে মহব্বতনগর গ্রামে আসে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায়। এখানে এসে গ্রামের মানুষের সরলতার সুযোগে মজিদ নিজের মাজারকেন্দ্রিক ব্যবসায় প্রসিদ্ধি লাভ করে। সন্তানলাভের আশায় সে অল্পবয়সি জমিলাকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। কিন্তু জমিলা স্বামী হিসেবে মজিদকে সম্মান করে না বা তার কোনো কথা মেনে চলে না। উদ্দীপকের বৃদ্ধ বহিপীরও অল্পবয়সি তাহেরাকে বিয়ে করে। কিন্তু তাহেরা এ বিয়ে মেনে না নেওয়ায় সে পীরের সাথে যেতে চায় না। আলোচ্য উপন্যাস ও উদ্দীপক উভয়স্থানে জমিলা ও তাহেরার প্রতিবাদী চেতনার মিল পাওয়া যায়। তবে, গ্রামীণ সমাজের নানা কুসংস্কারাচ্ছন্ন দিক উপন্যাসে আলোচিত হয়েছে, যা উদ্দীপকের স্বল্লায়তনে চিত্রায়িত হয়নি। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকটিতে 'লালসালু' উপন্যাসের একটি খন্ডাংশের ইঙ্গিত রয়েছে"- মন্তব্যটি যথার্থ।