A. Nayan
A. Nayan
22 Jun 2026 (3 months ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘বহুদিন পরে মনে…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪ – কপোতাক্ষ নদ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)


Listen to this article
🏫 বোর্ড: দিনাজপুর বোর্ড📅 সাল: ২০২৪⭐ গুরুত্ব: ★★★★★

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

বহুদিন পরে মনে পড়ে আজি পল্লিমায়ের কোল

ঝাউশাখে যেথা বনলতা বাঁধি হরষে খেয়েছি দোল,

কুলের কাঁটার আঘাত সইয়া কাঁচা-পাকা কুল খেয়ে

অমৃতের স্বাদ যেন লভিয়াছি গাঁয়ের দুলালী মেয়ে।

পৌষ পার্বণে পিঠা খেতে বসে খুশিতে বিষম খেয়ে

আরো উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি পেয়ে।

উত্তর:
উত্তর:

স্বদেশের সান্নিধ্য লাভের অনিশ্চয়তা থেকেই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটির অবতারণা করেছেন।

কবি তাঁর মাতৃভূমিকে গভীরভাবে ভালোবাসেন। আর তাই প্রবাসে থেকেও তিনি মাতৃভূমির প্রিয় নদ কপোতাক্ষের কথা ভেবে বিভোর হন। কপোতাক্ষের মধুর সৃতি তাঁর মনে সদা জাগরূক। সংগত কারণেই দীর্ঘ প্রবাস জীবনে প্রিয় নদের সান্নিধ্য লাভের ব্যাকুলতা থেকে তাঁর মনে সংশয়ের সৃষ্টি হয় যে, তিনি আর কপোতাক্ষের দেখা পাবেন কি না। তাই কবি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।

উত্তর:

উদ্দীপকের সাথে ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার সাদৃশ্যগত অনুভূতিটি হলো শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন।

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় শৈশবের স্থৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষকে কেন্দ্র করে কবির স্মৃতিকাতরতা প্রকাশিত হয়েছে। কবি কপোতাক্ষ তীরবর্তী সাগরদাঁড়ি গ্রামে তার ছেলেবেলা কাটিয়েছেন। সংগত কারণেই এ নদের সাথে তাঁর এক ধরনের আত্মীক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। আর তাই প্রবাসে অবস্থান করলেও প্রিয় এ নদের কথা তিনি মুহূর্তের জন্যও বিস্মৃত হতে পারেননি।

উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি তাঁর শৈশবের সৃতি রোমন্থন করেছেন। কবির শৈশব কেটেছে পল্লিগ্রামে। সংগত কারণেই সেসময় প্রকৃতিঘনিষ্ট জীবন ছিল তার। আর তাই আজ বহুদিন পরও সেই প্রকৃতিঘনিষ্ঠ জীবনযাপন এবং পল্লিগ্রামের নানা উৎসবের কথা মনে পড়ছে তাঁর। একইভাবে, ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায়ও কবি তাঁর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষের কথা স্মরণ করেছেন। বস্তুত, শৈশবের প্রিয় এ নদের সাথে কবি আত্মীক বন্ধনে আবদ্ধ। তাই প্রবাসের চাকচিক্য ক্ষণিকের জন্যও এ নদের কথা তাঁর মন থেকে মুছে দিতে পারেনি। আলোচ্য কবিতায় কপোতাক্ষকে ঘিরে প্রকাশিত এই স্মৃতিকাতরতার অনুভূতিই উদ্দীপকে ভিন্ন প্রক্ষাপটে ফুটে উঠেছে।

উত্তর:

উদ্দীপকে প্রতিফলিত স্মৃতিকাতরতার অনুভূতির অন্তরালে মাতৃভূমির প্রতি কবির গভীর মমত্ববোধ প্রকাশিত হয়েছে, যা ‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতার কবির মাঝেও একইভাবে পরিলক্ষিত হয়।

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে স্মৃতিকাতরতার অন্তরালে মাতৃভূমির প্রতি কবির অপার ভালোবাসা ও মমত্ববোধ প্রকাশিত হয়েছে। বস্তুত, শৈশবের প্রিয় এ নদকে ঘিরেই তিনি মাতৃভূমির প্রতি তাঁর হৃদয়াবেগের বহিপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। কবিতার পুরোভাগ জুড়ে এ বিষয়টিই বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়।

উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত গ্রামীণ প্রকৃতির কথা স্মরণ করেছেন। যদিও পল্লিপ্রকৃতির স্নেহচ্ছায়ায় বেড়ে উঠেছেন তিনি, তবুও জীবন-জীবিকার তাগিদে আজ সেখান থেকে তিনি বহু দূরে। তবে দূরে থেকেও প্রিয় মাতৃভূমি ও সেখানকার প্রকৃতিঘনিষ্ঠ জীবনের কথা তিনি ভুলতে পারেননি। আর তাই বহুদিন পরও সেসব কথা মনে করে তিনি আবেগাপ্লুত হন। উদ্দীপকে ফুটে ওঠা কবির এই স্মৃতিকাতরতার দিকটি আলোচ্য কবিতায়ও একইভাবে পরিলক্ষিত হয়।

‘কপোতাক্ষ নদ’ কবিতায় কপোতাক্ষ নদ কবির মনে যে গভীর রেখাপাত করেছে তা এককথায় অনবদ্য। এ নদের স্নেহসুধা পান করে তিনি বেড়ে উঠেছেন। তাই প্রবাস জীবনে দেখা আর কোনো নদই তার সেই স্নেহতফা মেটাতে পারেনি। এ কারণে প্রিয় কপোতাক্ষের দেখা পাওয়ার জন্য তিনি এতটা ব্যাকুল। একইভাবে, উদ্দীপকের কবিতাংশের কবিও শৈশবস্মৃতির উল্লেখ করে ব্যাকুলতা প্রকাশ করেছেন। কবিদ্বয়ের এই ব্যাকুলতা মূলত তাঁদের মাতৃভূমিপ্রীতিরই নামান্তর। কেননা, মাতৃভূমিকে ভালোবাসেন বলেই সেখানকার প্রকৃতির বিভিন্ন অনুষঙ্গের কথা ভেবে তাঁরা আকুল হয়েছেন। এ দিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।

8 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘বহুদিন পরে মনে…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪ – কপোতাক্ষ নদ, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এসএসসি)”