বিবাহের দুটি পক্ষ থাকে। একটি বরপক্ষ, অন্যটি কনেপক্ষ। বর ও কনের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পূর্বে উভয় পক্ষের মধ্যে বিবাহ সংক্রান্ত ব্যাপারে নানা বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়। ছেলের বা ‘হবু বরের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, সুখ-শান্তি ও ভবিষ্যৎ ইত্যাদি বিষয়ের সাথে যৌতুকের বিষয়টিও প্রাধান্য পায়। আর এ যৌতুকের উপর ভিত্তি করে কনের বিবাহ নির্ধারিত হয়।
'গন্ধোপাধ্যায়' শব্দটি লেখক 'গন্ধের রাজা' বোঝাতে ব্যবহার করেছেন।
"আমিও যে এই ফুলের বিয়ে দিয়েছি।”- উক্তিটি দ্বারা নসীবাবুর মেয়ে কুসুমলতার মল্লিকা ফুল ও গোলাব দিয়ে মালা গাঁথার বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে।
'ফুলের বিবাহ' গল্পে বঙ্কিমচন্দ্র নসীবাবুর বাগানে ফুলের ওপর ভ্রমর উড়তে দেখে অন্যমনস্ক হয়ে কল্প-বাস্তবতায় ফুলের বিয়ে দেখেন। মল্লিকা ফুলের কলির সাথে গোলাবের বিয়েতে ঘটকের দায়িত্বে থাকে ভ্রমর। করবী, গন্ধরাজ, জবা, বেলি ফুল এই বিয়েতে আনন্দের সঙ্গে অংশ নেয়। ইতোমধ্যে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে নসীবাবুর মেয়ে কুসুমলতা লেখকের অচেতনতা ভেঙে বাস্তবে নিয়ে আসে। লেখক দিব্যকর্ণপ্রাপ্ত হয়ে ফুলের বিয়ের কথা জানালে কুসুমলতা নিজের হাতের ফুলের মালা দেখিয়ে বলে সেও ফুলের বিয়ে দিয়েছে। আর সেখানে স্থান পেয়েছে লেখক কল্পিত ফুল গোলাব ও মল্লিকা।
উদ্দীপকের সাথে 'ফুলের বিবাহ' গল্পের পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে তাদের অবস্থানের বিবেচনা করার বিষয়ের মিল রয়েছে।
'ফুলের বিবাহ' গল্পে প্রতীকী রূপে ফুটে উঠেছে বাঙালির গার্হস্থ্য জীবনের একটি আনন্দময় অনুষ্ঠানের কথা। বিয়ে উপলক্ষে পাত্র-পাত্রী নির্বাচন ও ঘটকের ভূমিকার বিস্তারিত স্বরূপ প্রকাশ পেয়েছে ফুলের বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে।
'ফুলের বিবাহ' গল্পে নসীবাবুর বাগানের মল্লিকা ফুলের বিবাহযোগ্যা কলির জন্য কন্যাকর্তা পাত্র নির্বাচন সম্পর্কে দ্বন্দ্বে ছিল। মল্লিকাবৃক্ষ বড় বংশের নয়। ওদিকে পাত্র হিসেবে স্থলপদ্ম সৎ হলেও তারা উচ্চ বংশীয়। জবা পাত্র হিসেবে রাগী হওয়ায় তাকে পছন্দ নয় কন্যাকর্তার। গন্ধরাজ পাত্র হিসেবে ভালো হলেও তার বড় দেমাগ। তাই কন্যাকর্তা মল্লিকাবৃক্ষ ইতস্তত। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বিয়েতে বরপক্ষ ও কনেপক্ষের বিবাহসংক্রান্ত ব্যাপারে নানা আলোচনা হয়। বরের যোগ্যতা-অযোগ্যতা, সুখ-শান্তি, ভবিষ্যৎ ইত্যাদি বিষয়ের প্রাধান্য দেওয়া হয়। সেই সাথে যৌতুকের বিষয়টিও প্রাধান্য পায়। বিষয়টি মল্লিকা ফুলের পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে বংশমর্যাদা, স্বভাবের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখার দিকের সাথে মেলে এবং যৌতুক হিসেবে মধু দেওয়ার বিষয়টিও যৌতুক প্রথা তুলে ধরেছে।
বিয়ের পূর্বের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা এবং বিভিন্ন আচার ও রীতির দিকটি থাকায় উদ্দীপকটি 'ফুলের 'বিবাহ' গল্পের প্রতিনিধিত্ব করে" মন্তব্যটি যথার্থ।
'ফুলের বিবাহ' গল্পে দেখা যায় এখানে ফুলের বিয়ে উপলক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ বিয়ের প্রতিচ্ছবি প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে। পাত্র-পাত্রী নির্বাচন, বরপক্ষ ও কনেপক্ষের আলাপ-আলোচনা, যৌতুকপ্রথা সমস্তই পাওয়া যায় এ গল্পে।
'ফুলের বিবাহ' গল্পে লেখক দিব্যকর্ণ প্রাপ্ত হয়ে মানবসমাজের বিবাহ অনুষ্ঠানের অনুরূপে ফুলের বিয়ের বিষয়টিকে সামনে এনেছেন। মল্লিকাবৃক্ষ কন্যাভারগ্রস্ত। পাত্র নির্বাচন নিয়ে দ্বিধায় ভুগলে ঘটক ভ্রমর তার কাজটি সহজ করে দেয়। বিয়ের যৌতুক হিসেবে মধু দিতে চান কন্যাকর্তা। সেখানে পাত্রের গুণ, বংশ ইত্যাদি আলোচনা করা হয় বিয়ের পূর্বে। উদ্দীপকেও বিবাহ সম্পর্কে পাত্র-পাত্রীর সামাজিক মতামতের দিকটি ফুটে উঠেছে। পাত্রের যোগ্যতা-অযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ সুখ-শান্তির সাথে যৌতুকের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্দীপক ও 'ফুলের বিবাহ' গল্প উভয় ক্ষেত্রেই বিবাহের সামাজিকতার বিষয়গুলো লক্ষ করা যায়। 'ফুলের বিবাহ' গল্পে পাত্র হিসেবে স্থলপদ্ম, গন্ধরাজ ও জবার বৈশিষ্ট্য ও বংশীয় মর্যাদাকে সামনে আনা হয়েছে। অবশেষে গোলাবের গুণ ও বংশমর্যাদা দেখে বিয়ে দেওয়া হয়েছে মল্লিকা ফুলকে। যৌতুক হিসেবে মল্লিকাবৃক্ষ মধুর ফর্দ কড়ায়-গণ্ডায় বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে। আর এই যৌতুকের ওপরই বিয়ের চুক্তি পাকাপাকি করেছে ঘটক ভ্রমর। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দীপকের বিষয়গুলো 'ফুলের বিবাহ' গল্পেও প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি 'ফুলের বিবাহ' গল্পের প্রতিনিধিত্ব করে।
