| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বিবর্তনে গতিপথ →…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

বিবর্তনে গতিপথ → সরীসৃপ → [A]→ পাখি
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
মন্থর গতিসম্পন্ন এবং প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের মাধ্যমে সরলদেহী জীব থেকে জটিল জীবের আবির্ভাবই হলো বিবর্তন।
প্রাণিদেহে এমন কতকগুলো বিলুপ্ত প্রায় অঙ্গ দেখা যায় যেগুলো বিশেষ কোনো প্রাণীতে অকেজো বা নিষ্ক্রিয় কিন্তু অন্য প্রাণীতে সক্রিয় অবস্থায় থাকতে পারে। এ সকল অঙ্গগুলোকে নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বলে। এসব অঙ্গ বিবর্তন সম্পর্কিত প্রমাণ বহন করে। মানবদেহে প্রায় ১০০টি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ বিদ্যমান। যেমন- মানুষের কানের পেশি, ছেদন দাঁত, উপপল্লব, পুরুষের স্তনগ্রন্থির বৃন্ত ইত্যাদি।
উদ্দীপকের A প্রাণীটি হলো Archaeopteryx। আর্কিওপটেরিক্সের জীবাশ্মে পাখি ও সরীসৃপ উভয়ের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ কারণে একে সংযোগকারী যোগসূত্রে বলা হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
Archaeopteryx -এ সরীসৃপীয় বৈশিষ্ট্য :
◉ দেহ সরীসৃপের মতো লম্বা এবং শুষ্ক আঁইশযুক্ত।
◉ দেহকঙ্কাল পুরু ও ভারী হাড় দিয়ে গঠিত।
◉ ডানার অগ্রভাগে নখর এবং চোয়ালে দাঁত রয়েছে।
Archaeopteryx -এ পাখির বৈশিষ্ট্য:
◉ দেহের গঠন-পাখির মতো এবং লেজ ও ডানা পালকযুক্ত।
◉ দেহে হাড়ের সংস্থাপন পাখির মতো।
◉ পাখির মতো ডানা বিশিষ্ট এবং ঠোঁট চঞ্চুতে পরিবর্তিত।
উদ্দীপকে বিবর্তনের গতিপথ দেখানো হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বিবর্তনের সপক্ষে নানাবিধ প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। নিচে বিবর্তনের সপক্ষে দুটি প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হলো-
জীবাশ্মগত ও ভূ-তাত্ত্বিক প্রমাণ: সূদূর অতীতে বিলুপ্ত কোনো জীবের দেহ বা দেহাংশ বা কোনো চিহ্ন প্রাকৃতিক উপায়ে পাললিক শিলায় প্রস্তুরীভূত হয়ে সংরক্ষিত থাকলে তাকে জীবাশ্ম বা ফসিল বলে। জীবাশ্ম বিবর্তনের যুক্তিসংগত ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ বহন করে। ভূত্বকে বিদ্যমান পাললিক শিলায় বিভিন্ন স্তর পৃথিবীর অতীত যুগের বিভিন্ন সময়ে ভূতাত্ত্বিক অবস্থার চিহ্ন বহন করে যা হতে ভূত্বকের বয়স ও সময় এবং প্রস্তুরীভূত অতীতের প্রাণী সম্বন্ধে বিভিন্ন তথ্য জানা যায়। বিভিন্ন শিলাস্তরে প্রাপ্ত জীবাশ্ম পরীক্ষা করে ঘোড়ার বিবর্তনের ধারা, সংযোগকারী জীবাশ্ম, জীবন্ত জীবাশ্ম ইত্যাদি নানাবিধ বিবর্তনের প্রমাণাদি পাওয়া গেছে।
শ্রেণিবিন্যাসগত প্রমাণ: বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে প্রাণিজগতের আধুনিক শ্রেণিবিন্যাস গড়ে উঠেছে।প্রাণীর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গসংস্থান এবং জ্ঞাতিতাত্ত্বিক সম্পর্ক যাচাই করে এসব বৈশিষ্ট্য নির্ণয় করা হয় যার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর গণ, গোত্র, বর্গ, শ্রেণি, পর্ব ইত্যাদি বিভিন্ন স্তরে স্থাপন করা হয়। বিভিন্ন প্রজাতিতে বৈশিষ্ট্যের তারতম্যের কারণেই শ্রেণিবিন্যাসের বিভিন্ন স্তরের উৎপত্তি হয়েছে যা বিবর্তনের প্রমাণ বহন করে। কিছু প্রাণী পাওয়া যায় যারা ভিন্ন দুটি শ্রেণির বৈশিষ্ট্য বহন করে। এদের কানেকটিং লিংক বলে এবং এসব প্রাণীর উপস্থিতিও বিবর্তনের প্রমাণ বহন করে ও তার গতিপথ নির্দেশ করে।