| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘বিদেশ ফেরত রফিক…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

বিদেশ ফেরত রফিক গ্রামের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে। এক পর্যায়ে সে চিন্তা করে গ্রামের মানুষকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা দরকার। এই লক্ষ্যে গ্রামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরোধিতার কারণে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগটি ভেস্তে যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
'লালসালু' উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের নাম Tree without Roots.
"ধান দিয়া কী হইব, মানুষের জান যদি না থাকে?"- কথাটি রহিমা বলেছে মজিদের উদ্দেশে জমিলার জান বাঁচানো প্রসঙ্গে।
'লালসালু' উপন্যাসে মজিদ অত্যন্ত কূটকৌশলী, ধর্মব্যবসায়ী, প্রতারক। সে তার দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলাকে শাস্তি দিতে মাজারের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। ওই রাতে বাইরে ঝড় ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। ওই সময় জমিলার কথা না ভেবে মজিদ মাঠের ধান নষ্ট হওয়ার কথা বলে। তখন রহিমা ক্ষোভ প্রকাশ করে জমিলাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে আসতে মজিদকে উদ্দেশ করে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলে।
উদ্দীপকের রফিক 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে। কারণ তারা দুজনেই গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে চায়।
'লালসালু' উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠেছে মহব্বতনগর গ্রামকে কেন্দ্র করে। ওই গ্রামে শিক্ষার আলো নেই। গ্রামের সবাই কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসে বুঁদ হয়ে থাকে। গ্রামের একমাত্র শিক্ষিত ছেলে হলো আক্কাস।
উদ্দীপকের রফিক গ্রামের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে। একপর্যায়ে সে গ্রামের মানুষকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরোধিতার কারণে উদ্যোগটি ভেস্তে যায়। 'লালসালু' উপন্যাসে শহর থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে আক্কাস গ্রামে আসে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে অশিক্ষিত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষকে শিক্ষিত করে তুলতে। মহব্বতনগর গ্রামের মানুষ মজিদের কথার ওপর নির্ভর করে আক্কাসের পক্ষে রায় না দিয়ে স্কুলের পরিবর্তে গ্রামে পাকা মসজিদ স্থাপনের পক্ষে রায় দেয়। এখানেও আক্কাসের মহৎ উদ্দেশ্য ভেস্তে যায়। এভাবেই উদ্দীপকের রফিক 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাস চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসের আলোকে "প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নেতিবাচক মনোভাব, সমাজের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়" মন্তব্যটি যথার্থ।
'লালসালু' উপন্যাসে মহব্বতনগর গ্রামের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতারক ও ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদ তার দৌরাত্ম্য টিকিয়ে রাখার জন্য নানা কৌশলের আশ্রয় নেয়। এক্ষেত্রে সে গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি খালেক ব্যাপারীকেও বশ করে রাখে। তাদের দুজনের কেউই চায় না গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা হোক।
'লালসালু' উপন্যাসে আক্কাস স্বার্থপর মজিদের রোষানলের শিকার। আক্কাস যখন মহব্বতনগরে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায় তখন মজিদ কৌশলে তা নস্যাৎ করে দেয়। মজিদ উপলব্ধি করে যে, গ্রামে যদি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে তার ভণ্ডামি আর বেশিদিন টিকবে না। তাই সে আক্কাসের দাড়ি নেই, ইমান নেই এসব নানা কথা বলে স্কুল প্রতিষ্ঠা বন্ধ করে দিয়ে পাকা মসজিদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। গ্রামের লোকজন কেউ আক্কাসের পাশে দাঁড়ায়নি বলে তার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত সফল হয় না। এক্ষেত্রে খালেক ব্যাপারীও মজিদের সঙ্গে হাত মেলায়। তাদের এ ধরনের আচরণের কারণে মহব্বতনগর গ্রাম পিছিয়ে পড়ে। উদ্দীপকেও একই রূপ পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের রফিক গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাধা দেয়। এভাবেই উদ্দীপকের গ্রাম ও উপন্যাসের গ্রাম শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়। তাই বলা যায়, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নেতিবাচক মনোভাব সমাজের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেয়।